আজকের পত্রিকা

দরিদ্র দেশের টিকার জন্য ২২০ কোটি ডলার সংগ্রহ

শেয়ার বিজ ডেস্ক : বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর জন্য কভিড-১৯-এর টিকা সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ২২০ কোটি ডলার সংগ্রহ হয়েছে। কিন্তু টিকা সরবরাহের জন্য আরও অর্থ দরকার। এ উদ্যোগের লক্ষ্য ধনী-গরিব নির্বিশেষে সব দেশে করোনার টিকার ন্যায্য বিতরণ নিশ্চিত করা। খবর: বিবিসি।

কোভ্যাক্স-কভিড-১৯ ভ্যাকসিনস গ্লোবাল অ্যাকসেস ফ্যাসিলিটি। কোভ্যাক্স একটি যৌথ আন্তর্জাতিক উদ্যোগ। এ উদ্যোগের যৌথ নেতৃত্বে আছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, দ্য কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস (সিইপআই) ও দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স (গ্যাভি)। কোভ্যাক্স উদ্যোগের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে বিশ্বে ২০০ কোটি ডোজ নিরাপদ ও কার্যকর টিকা সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কোভ্যাক্স উদ্যোগে আর্থিক ও বৈজ্ঞানিক সম্পদ ব্যবহারের পাশাপাশি ধনী দেশগুলোকে একত্র করে নি¤œ ও মধ্য আয়ের দেশগুলোয় টিকা কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।  কোভ্যাক্সের উদ্যোক্তারা বলছেন, ২০০ কোটি ডলার অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হলেও আরও বেশি অর্থের প্রয়োজন।

গ্যাভি জোট গত শুক্রবার বলেছে, অ্যাডভান্স মার্কেট কমিটমেন্টের (এএমসি) জন্য যে তহবিল জোগাড় করা হয়েছে, তাতে কোভ্যাক্স প্রাথমিক পর্যায়ে ১০০ কোটি ডোজ টিকা কিনবে। বিশ্বের যে ৯২টি দেশ টিকা কেনার সামর্থ্য রাখে না, তারা এ টিকা পাওয়ার উপযুক্ত হবে।

গ্যাভির প্রধান সেথ বার্কলে বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বজুড়ে সার্বভৌম এবং বেসরকারি দাতাদের কাছ থেকে লক্ষ্য পূরণে সহায়তা পেয়েছি। তবে করোনার চিকিৎসা ও রোগ শনাক্তকরণে আরও অর্থের জরুরি প্রয়োজন।’ বার্কলে বলেন, ২০২১ সালের শেষ নাগাদ রোগ শনাক্তকরণ ও ৬১০ কোটি থেরাপির জন্য আরও ৫৩০ কোটি ডলারের প্রয়োজন। এক বিবৃতিতে গ্যাভি বলেছেন, করোনার টিকা প্রস্তুত হলে এবং নিয়ন্ত্রকদের অনুমোদন পেলে আগামী বছরে টিকা পেতে আরও ৫০০ কোটি ডলার প্রয়োজন হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের টিকা প্রস্তুতকারক ফাইজার ও বায়োএনটেক এ সপ্তাহে তাদের পরীক্ষামূলক টিকাটির প্রাথমিক ফলাফলে ৯০ শতাংশ কার্যকর বলে দাবি করেছে। বার্কলে বলেছেন, কোভ্যাক্সে ওই টিকা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফাইজার।

এদিকে ডিসেম্বর মাসেই কভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে চায় ভারত। এ লক্ষ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক সংস্থা-সেরাম ইনস্টিটিউড আস্ট্রাজেনেকা’র আবিষ্কৃত ভ্যাকসিনের উৎপাদন গতি বাড়িয়েছে। আগামী মাসের মধ্যেই ১০ কোটি ডোজ বাজারে আনতে চায় পুনেভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশেও অক্সফোর্ড-আস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত টিকাটি বিপণন ও উৎপাদনে সেরামের সঙ্গে চুক্তি করেছে স্থানীয় জায়ান্ট বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস।

সর্বশেষ পর্যায়ের ট্রায়ালে কার্যকর সুরক্ষা বিবেচনায় উৎরে গেলে আস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের শত কোটি ডোজ উৎপাদনে কোম্পানিটির সঙ্গে মূল চুক্তি করেছে সেরাম ইনস্টিটিউড। ডিসেম্বরে হয়তো নয়াদিল্লির ওষুধ প্রশাসন এর জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেবে, এমন আশা প্রকাশ করেছেন সেরামের মুখ্য নির্বাহী আদর পুনেওয়াল্লা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..