দরিদ্র দেশে কভিডের ওষুধ দিতে উদ্যোগ ডব্লিউএইচওর

শেয়ার বিজ ডেস্ক: দরিদ্র দেশগুলো যেন কম দামে কভিডের অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ কিনতে পারে, সেজন্য অ্যাকসেস টু কভিড-১৯ টুলস এক্সিলারেটর (এসিটি-এ) নামের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনার খসড়া একটি অনুলিপি  ডব্লিউএইচও। খবর: রয়টার্স।

গতকাল মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিশ্বের দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রায় ১০০ কোটি কভিড টেস্টের ব্যবস্থা এবং ১২ কোটি রোগীকে কভিডের চিকিৎসা বাবদ অল্প দামে অ্যান্টিভাইরাল পিল সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়েছে ডব্লিউএইচও। সেই উদ্দেশ্যেই এ প্রকল্প শুরু করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা।

খসড়া পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, এসিটি-এ প্রকল্পের আওতায় দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর কভিড রোগীরা যেন প্রতি কোর্স অ্যান্টিভাইরাল পিল ১০ ডলারে কিনতে পারেÑসেই ব্যবস্থা করবে ডব্লিউএইচও। এ কাজে প্রয়োজনীয় অর্থের জন্য জি২০সহ অন্যান্য দাতাসংস্থার কাছ থেকে দুই হাজার ২৮০ কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে সংস্থার পক্ষ থেকে। দাতা দেশ ও সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে এ প্রকল্পে এক হাজার ৮৫০ কোটি ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

খসড়া পরিকল্পনায় কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের নাম উল্লেখ নেই। তবে বর্তামান বাজারে কভিডের অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে একটিই মলনুপিরাভির। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তাও নিশ্চিত করেছেন অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ বলতে আপাতত মলনুপিরাভিরকেই বোঝানো হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে কয়েকটি অ্যান্টিভাইরাল করোনা পিল গঠনের প্রস্তুতি চলছে, তবে বর্তমানে সবচেয়ে এগিয়ে আছে মলনুপিরাভির। এই ওষুধটির চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়াল শেষ হওয়ার পথে। এটিসি-এর আওতায় আপাতত এই ওষুধটিই সরবরাহ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’

মলনুপিরাভির ওষুধটি প্রস্তুত করেছে মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানি মের্ক। মলনুপিরাভির মানবদেহের প্রবেশকারী কভিডের জেনেটিক কোডে সমস্যা সৃষ্টি করে ভাইরাসটির বংশবৃদ্ধি প্রায় স্থবির করে দেয়। আর তার ফলেই কমতে থাকে কভিড রোগীর গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ও এ রোগে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা।

কর্মকর্তারা আরও বলেন, এ বিষয়ে মের্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে ডব্লিউএইচওর এবং কোম্পানি কর্তৃপক্ষ মলনুপিরাভিরের জেনেরিক ওষুধ প্রস্তুতে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে। ইতোমধ্যে আটটি ভারতীয় ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে মলনুপিরাভিরের জেনেরিক ওষুধ প্রস্তুতে চুক্তিও করেছে মের্ক।


সর্বশেষ..