প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

দর্শনায় কবি সুফিয়ানের গ্রন্থাগার  

 

হাসান আদিল: চাওয়ামাত্র বই দিয়ে যাচ্ছেন একজন লোক। আবার পড়া শেষ হলে কোনো সুবিধা চাওয়া ছাড়াই বইগুলো নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন হাসিমুখে। মাথায় বড় বড় চুল, আলাভোলা মানুষ। জ্ঞানের প্রতি মানুষের ভালোবাসা তৈরির চেষ্টায় তার প্রবল আগ্রহ রয়েছে।

বাংলাদেশি সাহিত্যকে তুলে ধরা তার অন্যতম কাজ বলে তিনি মনে করেন। বাসা বাড়ি, অফিস-আদালত, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগ্রহীদের কাছে বই পৌঁছ দিয়ে থেমে থাকেন না, পাঠকের অভিমত জানার চেষ্টা করেন। তিনি একটি গ্রন্থাগার পরিচালনার পাশাপাশি লেখেন কবিতাও। বলছি, চুয়াডাঙ্গার দর্শনা উপজেলার ‘দর্শনা গণউন্নয়ন গ্রন্থাগারটির কর্ণধার কবি আবু সুফিয়ান ও তার গ্রন্থাগারের কথা। আবু সুফিয়ানের জীবনের দীর্ঘ একটি সময় পার হয়েছে গ্রন্থাগারটির জন্য সংগ্রাম করে। এখনও তিনি সংগ্রামে মগ্ন গ্রন্থাগারটির জন্য।

কমিউনিটি ডেভলাপমেন্ট লাইব্রেরি (সিডিএল) যাত্রা করে আশির দশকে। সিডিএল’র সহযোগিতায় দর্শনায় ‘জ্ঞান হোক শোষিত মানুষের মুক্তির সহায়ক’ শ্লোগানে গ্রন্থাগারটি ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। নাম রাখা হয়, দর্শনা গণ-উন্নয়ন গ্রন্থাগার। শুরুটা হয়, কবি আবু সুফিয়ানের তত্ত্বাবধানে ভাড়া করা একটি ঘরে। শুরুর পর থেকে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়েছে গ্রন্থাগারটি। সিডিএল কর্তৃপক্ষের সহায়তা বন্ধ হয়ে গেলে একসময় গ্রন্থাগারটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। তখন তার স্ত্রী সেলিনা আক্তার কনক পাশে থাকেন। সন্তানের জন্য গরুর দুধ নিতেন রোজ হিসেবে। মাস শেষে টাকা দিতে হবে এটাই নিয়ম। কিন্তু তার স্ত্রী কনক তা করলেন না। সে টাকা তিনি স্বামীর হাতে তুলে দিলেন গ্রন্থাগারের স্বার্থে। সংসার চালাতেই যখন তাদের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা, গ্রন্থাগারটিও তখন ধুঁকছে জীর্ণতার ভারে। আবারও এগিয়ে এলেন কনক। এবার স্বামীর হাতে বিয়েতে পাওয়া সোনার বালা জোড়া তুলে দেন। এগুলো বিক্রি করেই পূর্ণতা পেয়েছে গ্রন্থাগারটি। এখন ৫ বিঘা জমির উপর দাঁড়িয়ে আছে এটি।

Darsona library (4)বর্তমানে গ্রন্থাগারটিতে বইয়ের সংখ্যা ৪০৩০টি। সকাল ৯টায় গ্রন্থাগারের দুয়ার খুলে যায়, বন্ধ হয় রাত ১০টার আগে। বছরের ৩৬৫ দিনই খোলা থাকে। কবি আবু সুফিয়ানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন প্রায় ১৫০ জনের মত পাঠক আসেন গ্রন্থাগারে। বর্তমানে মোট সদস্য সংখ্যা ৫১১ জন।

গ্রন্থাগারটিতে প্রতিদিন জাতীয় দৈনিক রয়েছে ১১টি, স্থানীয় দৈনিক ৪টি, পাক্ষিক পত্রিকা ২টি, সাপ্তাহিক পত্রিকা ৪টি ও মাসিক পত্রিকা ২টি। এসবের বাইরে গ্রন্থাগারটির মূল আকর্ষণ হচ্ছে, সন্ধ্যার পরে শিল্পী-সাহিত্যিকদের অংশগ্রহণে আড্ডা।

গ্রন্থাগারটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, পহেলা বৈশাখ উদযাপনসহ জাতীয় দিবসগুলো নিয়মিত পালন করে। পাশাপাশি পাঠকদের আকৃষ্ট করতে পাঠচক্র, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এর বাইরে থাকে দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ, স্থানীয় বিভিন্ন মেলায় বইয়ের স্টল প্রদর্শনী।