দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

দর বৃদ্ধির শীর্ষে বি ক্যাটেগরির প্রাধান্য

রুবাইয়াত রিক্তা: টানা সাত কার্যদিবস ধরে সূচক, শেয়ারদর, লেনদেনে বড় পতনের পর গতকাল বাজারে ইতিবাচক গতি দেখা গেছে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের প্রথমার্ধে বিক্রির চাপ থাকলেও শেষার্ধে কেনার চাপ বেড়ে যায়। এতে করে প্রায় ৬৫ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। তবে লেনদেন আগের কার্যদিবসের তুলনায় কমেছে। এ ক্যাটেগরির ৬৬ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। বি ক্যাটেগরির বেড়েছে ৬৪ শতাংশ ও জেড ক্যাটেগরির ৫২ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। গড় হার না বাড়লেও দর বৃদ্ধির শীর্ষে প্রাধান্য ছিল বি ক্যাটেগরির দুর্বল কোম্পানিগুলোর।

দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশের তালিকায় ৭০ শতাংশ ছিল বি ক্যাটেগরির কোম্পানি। গ্লোবাল হেভি কেমিক্যাল প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে। কোম্পানিটি সর্বশেষ ২০১৯ সালে পাঁচ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২৫ পয়সা। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের দর ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়েছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে কোম্পানিটি পাঁচ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ হিসেবে দিয়েছে। চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ইপিএস দাঁড়িয়েছে এক টাকা পাঁচ পয়সায়। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ইয়াকিন পলিমারের দর ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৯ সালে কোম্পানিটি পাঁচ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ হিসেবে দিয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় ৩০ পয়সা লোকসান হয়। দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১০ পয়সা। সেন্ট্রাল ফার্মার দর ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৯ সালে মাত্র এক শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়ে বি ক্যাটেগরি টিকিয়ে রেখেছে কোম্পানিটি। দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানটির ইপিএস হয়েছে ১১ পয়সা। ২০১৯ সালে মাত্র দুই শতাংশ লভ্যাংশ দিয়ে বি ক্যাটেগরিতে অবস্থান ধরে রেখেছে অলিম্পিক এক্সেসরিজ। চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির ইপিএস ৩৩ পয়সা লোকসানে রয়েছে। দেশবন্ধু পলিমার সর্বশেষ ২০১৯ সালে পাঁচ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে পাঁচ পয়সা। তালিকায় দশম অবস্থানে থাকা খুলনা প্রিন্টিং ও প্যাকেজিংয়ের দর সোয়া ছয় শতাংশ বেড়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির ইপিএস ৩৭ পয়সা লোকসানে রয়েছে। তালিকায় প্রথমদিকে অবস্থান করা কয়েকটি কোম্পানির ইপিএস ভালো হলেও শেষের দিকের কোম্পানিগুলোর ইপিএস নেতিবাচক হওয়া সত্ত্বেও এসব শেয়ারের দর বৃদ্ধির কারণ জানা যায়নি। গতকাল আর্থিক এবং ভ্রমণ ও অবকাশ খাত ছাড়া বাকি খাতগুলোতে অধিকাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। ২৩ শতাংশ লেনদেন হয়ে ওষুধ ও রসায়ন খাতের একক প্রাধান্য ছিল। এ খাতে ৭৫ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে আটটি ছিল ওষুধ খাতের। সাড়ে ১৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়ে শীর্ষে উঠে আসে ফার কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ। দর বেড়েছে ৯০ পয়সা। ইন্দোবাংলা ফার্মার ১০ কোটি ৩১ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৪০ পয়সা। ওরিয়ন ইনফিউশনের ৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা লেনদেন হয়, দরপতন হয় পাঁচ টাকা ১০ পয়সা। সেন্ট্রাল ফার্মার আট কোটি ৭২ লাখ টাকা, সিলভা ফার্মার সাড়ে আট কোটি, স্কয়ার ফার্মার সাত কোটি ৭১ লাখ ও ওরিয়ন ফার্মার সাত কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..