দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে দুর্বল কোম্পানির দৌরাত্ম্য

রুবাইয়াত রিক্তা: পুঁজিবাজারে সপ্তাহ শেষে নেতিবাচক গতিতে লেনদেন হয়েছে। বেশিরভাগ শেয়ারের দরপতনের পাশাপাশি সবকটি সূচক পতন হয়। পাশাপাশি লেনদেনও কমেছে। চলতি সপ্তাহে চার কার্যদিবসের মধ্যে দুদিন সূচক ইতিবাচক ছিল। দুদিন কমেছে। তবে পতনের হার অনেক বেশি ছিল। দুর্বল কোম্পানির দর বৃদ্ধি সূচকের পতন ত্বরান্বিত করেছে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৩৮ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। এর মধ্যে এ ক্যাটেগরির বেড়েছে ৩৬ শতাংশ। বি ক্যাটেগরির ৫১ শতাংশ, এন ক্যাটেগরির ৫৫ শতাংশ ও জেড ক্যাটেগরির ২৭ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। গতকাল দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশের তালিকা ছিল বি ক্যাটেগরির কোম্পানির দখলে। এ তালিকায় সাতটি ছিল বি ক্যাটেগরির কোম্পানি।

৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়ে ন্যাশনাল ফিড মিল দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে। কোম্পানিটি সর্বশেষ হিসাববছরে মাত্র এক শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ হিসেবে ঘোষণা করে। এদিকে গতকাল ডিএসইর ওয়েবসাইটে কোম্পানিটির প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। জুলাই-সেপ্টেম্বর, ১৯ সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১৩ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল তিন পয়সা। অর্থাৎ প্রথম প্রান্তিকে ইপিএস বেড়েছে ১০ পয়সা। ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস দর বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। কোম্পানিটি সর্বশেষ হিসাববছরের জন্য দুই শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এছাড়া চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির ইপিএস ৩০ পয়সা লোকসানে রয়েছে, যা আগের বছর একই সময়ে ১২ পয়সা লোকসানে ছিল। অর্থাৎ লোকসান বেড়েছে ১৮ পয়সা। তা সত্ত্বেও কোম্পানিটি দর বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। এদিকে আলহাজ্ব টেক্সটাইল কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ ও কারখানা লে অব ঘোষণা করার পরও শেয়ারদর অব্যাহত বৃদ্ধির কারণে ডিএসই কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন বাধ্যতামূলক স্পট মার্কেটে স্থানান্তর করে। তা সত্ত্বেও গতকাল দর বৃদ্ধিতে তৃতীয় অবস্থানে উঠে আসে আলহাজ্ব টেক্সটাইল। সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালসের দর বেড়েছে সাত দশমিক ৭৯ শতাংশ। এ কোম্পানিও সর্বশেষ হিসাববছরে মাত্র এক শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। যদিও ওই বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪৮ পয়সা। শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ৮৭ পয়সা। তা সত্ত্বেও এক শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে বিনিয়োগকারীদের বঞ্চিত করেছে কোম্পানিটি। ইয়াকিন পলিমারের দর প্রায় সাত শতাংশ বেড়েছে। এ কোম্পানিটিও সর্বশেষ হিসাববছরে মাত্র পাঁচ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে লোকসান কাটিয়ে ইপিএস ১৭ পয়সায় দাঁড়িয়েছে ন্যাশনাল টিউবসের, যা আগের বছর একই সময়ে ৭২ পয়সা লোকসানে ছিল। গত সেপ্টেম্বর থেকে নানা গুজবে শেয়ারটির লেনদেন অস্বাভাবিক হারে বেড়েছিল। বি ক্যাটেগরির সাফকো স্পিনিংয় এ পর্যন্ত পর্ষদ সভা করতে পারেনি। আগামী ২১ নভেম্বর এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। বি ক্যাটেগরির বেঙ্গল উইন্ডসরের দর সাড়ে পাঁচ শতাংশ বেড়েছে। এ কোম্পানিও সর্বশেষ হিসাববছরে পাঁচ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে।  চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে এ কোম্পানির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ২৯ পয়সায়, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৩২ পয়সা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..