প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

দর বেড়েছে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। পর্ষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুস্তাফা আনোয়ারকে সরিয়ে নতুন চেয়ারম্যান করা হয়েছে সরকারের সাবেক সচিব আরাস্তু খানকে। পদত্যাগ করেন ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ আবদুুল মান্নানও। বৃহস্পতিবার রাতে এমন পরিবর্তনের পর গতকাল রোববার ছিল প্রথম কার্যদিবস। এদিন ব্যাংকটির শেয়ারে পড়েনি কোনো নেতিবাচক প্রভাব। বরং এর আগের কার্যদিবসের তুলনায় দর বেড়েছে ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

রোববার দিনশেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারদর দিনব্যাপী ৩০ থেকে ৩৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। দিনশেষে কোম্পানিটির শেয়ারদর দাঁড়ায় ৩০ টাকা ৬০ পয়সায়, যা গত বৃহস্পতিবারের চেয়ে ৫ পয়সা বা ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি। আর ব্যাংকটির মোট ৪৫ লাখ ৪ হাজার ৪৯৪টি শেয়ার লেনদেন হয়, যার টাকার অঙ্কে ১৩ কোটি ৯৭ লাখ ৪২ হাজার টাকা।

বাজার-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যাংকটির শীর্ষ পদে পরিবর্তনের মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানটি একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবমুক্ত হবে। এদিকে ব্যাংকটির শেয়ারদরে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও ধারণা ছিল অনেকের।

তবে গতকাল রোববার ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান আরাস্তু খান বলেন, বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের অকুণ্ঠ বিশ্বাস, আস্থা ও ভালোবাসার কারণে ইসলামী ব্যাংক সফলতা লাভ করেছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম সুদমুক্ত এই ব্যাংকের অভাবনীয় সাফল্য প্রমাণ করেছে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং পদ্ধতি প্রচলন করা সম্ভব। দেশে-বিদেশে এই মডেল গত ৩৪ বছর ধরে বিভিন্ন শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক স্থাপনের মাধ্যমে এর বাস্তবতা দৃশ্যমান হয়েছে।

তিনি বলেন, ব্যাংক পরিচালনার ক্ষেত্রে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের মৌলিক নীতিমালা ও ইসলামি শরিয়াহর সব বিধিবিধান কঠোরভাবে পরিপালন করা হবে। এক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সবসময় অটুট রাখা হবে। তিনি বলেন, বিষয়টি গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার ও দেশবাসীকে আপনাদের মাধ্যমে পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই।

১৯৮৫ সালে তালিকাভুক্ত এ ব্যাংকটির মোট শেয়ারের ৬৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। প্রাতিষ্ঠানিক ও বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে যথাক্রমে ৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ ও ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ। বাকি ১৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

এর আগে ইবনে সিনার প্রতিনিধি হিসেবে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন মুস্তাফা আনোয়ার।

ইসলামী ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জর্ডান ইসলামিক ব্যাংক, কাতারের ইসলামিক ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ করপোরেশন, দুবাই ইসলামিক ব্যাংক ও বাহরাইন ইসলামিক ব্যাংক উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠাকালে বিনিয়োগ করেছিল। তবে এখন ইসলামী ব্যাংকে এ প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো শেয়ার নেই। এর মধ্যে দুবাই ইসলামিক ব্যাংক ও বাহরাইন ইসলামিক ব্যাংক ২০১৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে শেয়ারবাজারের মাধ্যমে নিজেদের পুরো শেয়ার বিক্রি করেছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইসলামী ব্যাংকে এখনও সৌদি আরবভিত্তিক ছয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে রয়েছে ৫৬ কোটি ৫৯ লাখ ৭৯ হাজার ৩৯৯টি শেয়ার, যা ব্যাংকটির মোট শেয়ারের ৩৫ শতাংশের কিছুটা বেশি। এর বাজারমূল্য (প্রতি শেয়ার ৩০ টাকা) প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।