দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

দাঁড়ি-কমাসহ বাস্তবায়ন করতে হবে: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন, বাজেটে যেভাবে লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে, তা-ই আদায় করতে হবে। বাজেট দাঁড়ি-কমাসহ বাস্তবায়ন করতে হবে। গতকাল এনবিআর সম্মেলন কক্ষে আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগের রাজস্ব সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া সভাপতিত্ব করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থবছরের করছাড় দিয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করব না। যদি কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করতে হয়, তাতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিতে হবে।

সভায় এনবিআরের গবেষণা ও পরিসংখ্যান বিভাগের মহাপরিচালক মোবারা খানম বলেন, চলতি অর্থবছর গত অর্থবছরের তুলনায় আদায় প্রবৃদ্ধি ১৬ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি ধরে তিন লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। চলতি অর্থবছরের দুই মাসে শুল্ক খাতে আদায় হয়েছে ৯ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা। গতবার আদায় হয়েছিল ৯ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা। এ খাতে রাজস্ব আদায় কমেছে ১৪১ কোটি টাকা। নতুন ভ্যাট আইন হলেও এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। প্রথম দুই মাসে আগের বারের চেয়ে ১১২ কোটি টাকা বেশি ভ্যাট আদায় হয়েছে। এবার ১১ হাজার ২০০ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। ভ্যাটে প্রবৃদ্ধি মাত্র এক শতাংশ। তবে আয়করে সাড়ে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে এবার আট হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। রাজস্ব আদায় কম হওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়, আগস্ট মাসে ঈদের ছুটি ও টানা বৃষ্টি। এ ছাড়া বছরের শুরুতে প্রতিবারই রাজস্ব আদায় না হওয়ার পুরোনো কারণ দেখানো হয়।

কাস্টমস খাতে রাজস্ব আহরণের ধীরগতির বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কমিশনার মো. ফখরুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের লক্ষ্যমাত্রা ৬৩ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা, যা শুল্ক খাতের মোট লক্ষ্যমাত্রার ৬৮ শতাংশ। গত তিন মাসে রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। উচ্চ শুল্কের পণ্যের আমদানি কমে যাওয়া ও কম শুল্কের পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। মেগা প্রকল্পের শুল্কমুক্ত পণ্য আমদানি হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতের অনেক শুল্কমুক্ত পণ্য আমদানি হচ্ছে। মোটরসাইকেল আমদানি কমে গেছে। পেট্রোলিয়াম অয়েল, ভোজ্য তেল, মোবাইল ফোন ও ফ্রিজের আমদানি গতবছরের তুলনায় কমে যাওয়ায় রাজস্ব কমে গেছে। তবে চলতি মাস থেকে রাজস্ব আদায় বেড়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ভ্যাট খাতের রাজস্ব কমে যাওয়ার বিষয়ে এনবিআর সদস্য জামাল হোসেন বলেন, নতুন ভ্যাট আইনে ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তারা অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। খুব দ্রুত ভ্যাট খাতে রাজস্ব বাড়বে। তবে আগস্ট পর্যন্ত ভ্যাট খাতে রাজস্ব কমেনি। গতবছর আগস্ট পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি ছিল মাইনাস এক শতাংশ। এ বছর দুই শতাংশ প্লাস রয়েছে। সামনের দিকে বাড়তে থাকবে। সিগারেটের কারণে মূলত ভ্যাট আদায় কম হয়েছে। এছাড়া আগাম করের কারণে শুধু আগস্ট মাসে ভ্যাট কমেছে ২৫২ কোটি টাকা। এ দুই খাতে আদায় হলে ভ্যাটে প্রবৃদ্ধি হতো ১২ শতাংশ। ভ্যাট নিবন্ধন, শতভাগ দাখিলপত্র নিশ্চিত, ইএফডি মেশিন সরবরাহসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত ভ্যাট আদায় বাড়বে।

রাজস্ব আদায় পরিস্থিতির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এবারের বৈঠকে ‘এই কারণ, ওই কারণ’ বলেছেন। আগামী বৈঠকে এসব কারণ দেখাতে পারবেন না। রাজস্ব আদায় করে দেখাতে হবে। এনবিআরে যদি স্বচ্ছতা থাকে, তাহলে সব প্রতিষ্ঠানই স্বচ্ছ হয়ে যাবে। এনবিআর এখন সবচেয়ে বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান। এখানে মানুষ ভয়ে আসতে চান না। তারা মনে করেন, কর না দিলেও চলবে। করযোগ্য মানুষকে অবশ্যই করের আওতায় আনতে হবে। ঢালাওভবে করছাড় দেওয়ার বিষয়টিতে পুনর্মূল্যায়নের তাগিদ দেন তিনি।

আয়কর আদায়ের ক্ষেত্রে ধনী ব্যক্তিদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনার বলেছেন এখানে ৪৪ লাখ মানুষ এ বছর ট্যাক্স দিয়েছে; কিন্তু আমাদের দেশে চার কোটি মানুষ আয়কর দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন, তাহলে কেন তারা আয়কর দিচ্ছেন না। কোন আইনে বলা আছে তারা আয়কর দেবেন না। আইন সবার জন্য সমান। যারা ট্যাক্স দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন অথচ দিচ্ছেন না, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুশিয়ারি দেন তিনি। তিনি বলেন, এটা তো বেআইনি কাজ নয়। আমরা আইনটি করার জন্য করলাম, এটি বাস্তবায়ন করলাম না। এটা ঠিক নয়, আইনের বাস্তবায়ন করতে হবে যখন কোনো আইনের অপব্যবহার হয়। এটা আমাদের দায়িত্ব সেটি কঠোর হস্তে পালন করা। প্রথমে আমরা ভালোবাসা দিয়ে করব, তারপর না হলে আমরা কঠোর হব।

এনবিআর চেয়ারম্যান কাস্টমস ও ভ্যাট খাতে রাজস্ব আহরণের ধীরগতি স্বীকার করে বলেন, গত অর্থবছর প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণ হয়েছে। সে হিসেবে চলতি অর্থবছর লক্ষ্যমাত্রা বেশি নয়। তবে আগস্ট পর্যন্ত আদায় প্রবৃদ্ধি আরও বেশি হওয়া দরকার ছিল। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে গতবারের চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হবে। এবার ৩০ লাখ কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) বার্ষিক কর বিবরণী জমা দেবেন। ইতোমধ্যে জরিপের মাধ্যমে ১২ লাখ করযোগ্য মানুষের খোঁজ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে যারা রিটার্ন দেবেন না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া আগের যারা টিআইএন নিয়ে রিটার্ন দেননি, তাদের খুঁজে বের করা হচ্ছে।

সর্বশেষ..