সারা বাংলা

দাদন ব্যবসায়ীদের খপ্পর থেকে পরিত্রাণ পেতে মানববন্ধন

পাঁচ লাখ টাকার সুদ ১৫ লাখ টাকা

প্রতিনিধি, নওগাঁ: নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার অর্জুন গ্রামের আপেল মাহমুদ নামে এক মৎস্যচাষি এক বছর আগে পাশের শালগ্রাম গ্রামের দাদন ব্যবসায়ী বিপ্লবের কাছ থেকে সুদে পাঁচ লাখ টাকা নেন। প্রতি মাসে বিপ্লবকে প্রতি লাখে ৩০ হাজার টাকা সুদ দেন আপেল। সে হিসাবে পাঁচ লাখে মাসে দেড় লাখ টাকা সুদ দেন তিনি। পরে পাঁচ বিঘা জমি বিক্রি করে সুদে-আসলে ১৫ লাখ টাকা দাদন ব্যবসায়ীকে দিতে হয় তাকে। শুধু আপেল মাহমুদই নন, তার মতো উপজেলার দুই শতাধিক সাধারণ মানুষ দাদন ব্যবসায়ীদের কারণে পথে বসেছেন।
এ অবস্থায় দাদন ব্যবসায়ীদের খপ্পর থেকে পরিত্রাণ পেতে মহাদেবপুরে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার উপজেলার বাসস্ট্যান্ড মাছ চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
সচেতন নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ময়নুল ইসলাম ময়েনের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন মহাদেবপুর থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রিয়াসাদ হায়দার টগর, মহাদেবপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান ধলু, ভীমপুর ইউপি চেয়ারম্যান রামপ্রসাদ ভদ্র, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাসুদ রানা, নাগরিক সমাজের যুগ্ম সম্পাদক সাকলাইন মাহমুদ রকি, যুবলীগ নেতা মাসুদুর রহমান মাসুদ ও পারুল রানীসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিগগিরই দাদন ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
উপজেলার দেবীপুর গ্রামের ভুক্তভোগী আবদুল কাদের বলেন, ফলের ব্যবসার জন্য উপজেলার বগের মোড়ে ‘কৃষি প্রগতি উন্নয়ন সমিতি’ থেকে ব্যাংকের একটি ফাঁকা চেক জমা দিয়ে দেড় লাখ টাকা ঋণ নিই। প্রতিদিন এক হাজার ৫০০ টাকা করে তিন মাস কিস্তি দেওয়ার পর ওই সমিতি উধাও হয়ে যায়। সমিতি উধাও হওয়ার আট মাস পর আমার নামে পাঁচ লাখ টাকা চেকের মামলা দেওয়া হয়। মামলায় উল্লেখ করা হয়, ওই সমিতির মালিক তানভীর ফেরদৌস ও আতিক আমাকে টাকা ধার দিয়েছেন। মামলার পর থেকে আমি বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছি।
মহাদেবপুর সদরের আরেক ভুক্তভোগী মিন্টু কুমার বলেন, ‘কৃষি প্রগতি উন্নয়ন সমিতি’ থেকে ব্যাংকের একটি ফাঁকা চেক জমা দিয়ে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিই। প্রতিদিন এক হাজার ১০০ টাকা কিস্তি দিতে হয়। এভাবে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধ করার পর সমিতি উধাও। পরে আমার নামে ১১ লাখ টাকার চেকের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
এছাড়া ফজলে রাব্বী, আশরাফুল ইসলাম, শহীদুল ইসলামসহ অনেক ভুক্তভোগী মানববন্ধনে অংশ নেন। তারা বলেন, সুদের টাকা দিতে গিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। সুদের টাকা পরিশোধ করতে পারলেও আসল টাকা থেকেই যায়। দাদন ব্যবসায়ীদের কারণে আমরা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছি। আমরা এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চাই।

সর্বশেষ..