প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

দাপট দেখাচ্ছে নতুন কোম্পানির শেয়ার

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: তালিকাভুক্তির পর দরবৃদ্ধির ঝলক দেখিয়ে পিছু হটতে থাকা নতুন কোম্পানির শেয়ারের প্রতি আবারও ঝোঁক বেড়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। সম্প্রতি এসব শেয়ারের প্রতি তাদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। যে কারণে গত সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন এসব কোম্পানিকে দরবৃদ্ধির শীর্ষে দেখা গেছে। আর সপ্তাহ শেষে দরবৃদ্ধির শীর্ষ কোম্পানির তালিকায় উঠে এসেছে এ ধরনের তিনটি প্রতিষ্ঠানের নাম। এগুলো হচ্ছে ফরচুন সুজ, রিজেন্ট টেক্সটাইল ও ইয়াকিন পলিমার।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত সপ্তাহে বাজারে নতুন আসা ফরচুন সুজের প্রতিটি শেয়ারের দর বেড়েছে সাত টাকা ৩০ পয়সা। আগের সপ্তাহের শেষদিনে এ কোম্পানির প্রতিটি শেয়ার কেনাবেচা হয় ৪৬ টাকা ৩০ পয়সায়। গত সপ্তাহের শেষ দিনে প্রতিটি শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৫৩ টাকা ৩০ পয়সায়। অন্যদিকে এ সময়ের মধ্যে বস্ত্র খাতের প্রতিটি শেয়ারের দর বেড়েছে প্রায় তিন টাকা। মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের ব্যবধানে ১৩ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৫ টাকা ৬০ পয়সায়। আর একই সময়ে ইয়াকিন পলিমারের প্রতিটি শেয়ারের দর বেড়েছে পাঁচ টাকার বেশি। আগের সপ্তাহের শেষ দিনে এর প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয় ২৭ টাকা ২০ পয়সায়। গত সপ্তাহের শেষ দিনে যা লেনদেন হয়েছে ৩০ টাকা ৯০ পয়সায়।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন শেয়ারগুলোর দরবৃদ্ধি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে সাধারণ বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্টদের। তাদের মতে, নতুন শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের চাহিদা থাকার প্রধান কারণ হচ্ছে ভালো লভ্যাংশের আশা। কারণ লভ্যাংশের কোনো ইতিহাস না থাকায় নতুন কোম্পানি প্রথম বছর ভালো লভ্যাংশ দেবেÑএমন প্রত্যশা থাকে সবার। পক্ষান্তরে পুরোনো কোম্পানির আগের বছরের লভ্যাংশের দিকে তাকালে কোম্পানিটি কেমন লভ্যাংশ দেবে, তা কিছুটা অনুমান করা যায়। কারও কারও মতে এসব কোম্পানির শেয়ার নিয়ে একটি চক্র খেলা করছে। যে কারণে এসব শেয়ারের দর অস্বাভাবিক ওঠানামা করছে।

এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম শেয়ার বিজকে বলেন, কোনো কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ভালো কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়তেই পারে। এটা অবশ্যই স্বভাবিক হওয়া উচিত। আর দর অস্বাভাবিক মনে হলে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার থেকে সরে আসা উচিত। তিনি বলেন, কোম্পানির অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্ত হতে হবে। তাছাড়া কোম্পানিতে কোনো অনিয়ম রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা উচিত। কারণ কোম্পানির ভিত্তি ভালো হোক আর খারাপ হোক সব দায়ভার শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের কাঁধে গিয়ে পড়ে।

একই বিষয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ শেয়ার বিজকে বলেন, পুঁজিবাজার এখন একটু ভালোর দিকে যাচ্ছে। তবে বেশিরভাগ শেয়ারের দর এখনও স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। যে কারণে কোনো কোম্পানি নিয়ে অযাচিত মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে সব ক্ষেত্রেই বিনিয়োগকারীদের সচেতন থাকার বিকল্প হতে পারে না।

নতুন এ কোম্পানিগুলোর মধ্যে ফরচুন সুজ দুই কোটি ২০ লাখ শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ২২ কোটি টাকা সংগ্রহ করে, যা দিয়ে ভবন নির্মাণ, মেশিন ও ইক্যুপমেন্ট কেনা হবে। শতভাগ রফতানিকারক এ কোম্পানিটি ২০১০ সালের ১৪ মার্চ প্রাইভেট কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। আর ২০১১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর উৎপাদন শুরু করে। এরপর ২০১৫ সালের ১৪ জানুয়ারি কোম্পানিটি পাবলিক কোম্পানি হিসেবে রূপান্তর হয়। ফরচুন সুজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জুতা রফতানি করে থাকে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে তাইওয়ান, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, কানাডা ও জার্মানি। কোম্পানিটি শিশু, নারী, পুরুষ সবার জন্য জুতা তৈরি করে।

অন্যদিকে ইয়াকিন পলিমার ১০ টাকা করে দুই কোটি শেয়ার ছেড়ে ২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ টাকা দিয়ে মেশিনারিজ ক্রয়, কারখানা ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক খাতে ব্যয় করবে কোম্পানিটি। ইয়াকিন পলিমার ২০০১ সালে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয় ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের অধীনে। কোম্পানিটি বাণিজ্যিকভাবে কাজ শুরু করে ২০০৩ সালের ১৫ জুলাই।

রিজেন্ট টেক্সটাইল ১৫ টাকা প্রিমিয়ামে আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে টাকা উত্তোলন করে। এ লক্ষ্যে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে ১৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ মোট ২৫ টাকায় শেয়ার ইস্যু করে কোম্পানিটি। আর আইপিওর মাধ্যমে পাঁচ কোটি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে মোট ১২৫ কোটি টাকা উত্তোলন করে কোম্পানিটি। এ টাকা দিয়ে কোম্পানিটির নতুন রেডিমেড গার্মেন্ট প্রকল্প তৈরির প্রতিশ্রুতি রয়েছে।