সারা বাংলা

দাবি আদায় না হলে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পরিবহন বন্ধের হুশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন করেছে আন্তঃজেলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি। এসব দাবি আদায় না হলে আগামী ১ মার্চের পর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে সব ধরনের পণ্যবাহী গাড়ি সরবরাহ তথা পণ্য পরিবহন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হবেন বলে তারা জানিয়েছেন। গতকাল সকালে বন্দর ভবনের সামনের প্রধান ফটকে এ মানববন্ধন শেষে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম আবুল কালাম আজাদকে স্মারকলিপিও দেন সমিতির নেতারা।

তাদের দাবির মধ্যে রয়েছেÑবন্দর থেকে আমদানি পণ্য খালাস করে ট্রাক, কাভার্ডভ্যানে বোঝাই করার সময় বুঝে নেয়ার জন্য ট্রান্সপোর্ট প্রতিনিধিদের নামে পাস ইস্যু, এডিআর ১৯৬৪ আইন সংশোধন করে পণ্য পরিবহন সেক্টরকে বন্দরের অন্যতম ব্যবহারকারী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে বন্দরে প্রবেশে ফি প্রদান ইত্যাদি।

মানববন্ধনে পরিবহন মালিকরা বলেন, বন্দরের ভেতরে গাড়িতে পণ্য লোড করার আগে আমদানিকৃত পণ্যের পরিমাণ, প্যাকিং ও ওজন ঠিক আছে কি নাÑএসব বিষয় আমদানিকারকের পক্ষে ট্রান্সপোর্ট প্রতিনিধিদের নিজ দায়িত্বে গণনা করে বুঝে নিতে হয়। এক্ষেত্রে কোনো প্রকার সমস্যা দেখা দিলে তা সঙ্গে সঙ্গে আমদানিকারক বা তার প্রতিনিধিকে অবহিত করতে হয়। নয়তো ট্রান্সপোর্ট মালিক ও গাড়ির মালিককে সব দায় বহন করতে হয়। অথচ এ দায়িত্ব পালনের জন্য ট্রান্সপোর্ট প্রতিনিধিদের বেসরকারি অফডক বা প্রাইভেট কনটেইনার ডিপোগুলোতে ঢুকতে দেয়া হলেও বন্দরের অভ্যন্তরে বৈধভাবে ঢোকার কোনো সুযোগ নেই।

তারা বলেন, নিকট অতীতে সিঅ্যান্ডএফের নির্ধারিত ফরম পূরণের মাধ্যমে নিজ নিজ ট্রান্সপোর্ট প্রতিনিধিদের ঢোকার সুযোগ দেয়া হতো। পরবর্তীকালে বন্দরের আদেশক্রমে যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া সেই সুবিধাও প্রত্যাহার করা হয়। ফলে পণ্য পরিবহন ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

বাংলাদেশ কাভার্ডভ্যান ট্রাক প্রাইম মুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ও মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী জাফর আহম্মদ বলেন, ‘আমরা অন্যতম বন্দর ব্যবহারকারী হলেও এর কোনো স্বীকৃতি নেই, যা একেবারেই অপ্রত্যাশিত। এসব সমস্যা নিরসনে বিকল্প হিসেবে আমদানিকৃত পণ্য বন্দরের বহির্ভাগে লোড দেয়ার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানাই। অন্যথায় আগামী ১ মার্চের পর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে সব ধরনের পণ্যবাহী গাড়ি সরবরাহ তথা পণ্য পরিবহন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হবো।’

আইন ও বন্দরবিষয়ক সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন বাবুল বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের গেট পাস সরকারিভাবে নির্ধারণ করা হলেও তার কোনো বাস্তবায়ন নেই, বিভিন্ন সময় ইচ্ছেমতো ফি আদায় করা হয়। এর প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন সময় হয়রানির সম্মুখীন হতে হয়। এ সমস্যা নিরসনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বন্দরের প্রবেশ ফি গ্রহণের বিকল্প নেই। এছাড়া এডিআর ১৯৬৪ আইনটি সংশোধন করে পণ্য পরিবহন সেক্টরকে বন্দরের অন্যতম ব্যবহারকারী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে বন্দরে প্রবেশে ফি প্রদান ব্যবস্থা করতে হবে।’

সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. তৌহিদুল আলমের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি লতিফ আহাম্মদ। আরও অংশ নেন সমিতির সহ-সভাপতি এম কিবরিয়া দোভাষ, মো. কমর উদ্দিন সবুর, মো. ইউসুফ মজুমদার মানিক, মো. আরিফুর রহমান রুবেল প্রমুখ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..