সম্পাদকীয়

দাম বৃদ্ধির পরও বিদ্যুতের লোকসান খতিয়ে দেখা হোক

বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে আমাদের সাফল্য দৃশ্যমান। এখন তেমন একটা লোডশেডিং হয় না। দেশের বড় অংশ বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় এসেছে। গ্রাহক অনেক বেড়েছে। প্রিপেইড মিটার চালু হওয়ায় জাল-জালিয়াতিও কমেছে বলা যায়। তাই আয় বেড়ে যাওয়ার কথা। অন্যদিকে গণশুনানিতে মূল্য বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরতে ব্যর্থ হওয়ার পরও বারবার বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। তাই ধারণা করা যায়, বিদ্যুতে লোকসান হওয়ার কথা নয়। বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম মূল্যে বিক্রি করায় এ লোকসান গুনতে হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি পিডিবিকে। এ জন্য ভর্তুকির পাশাপাশি গত এক দশকে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে ৯ বার। সর্বশেষ গত বছর মার্চে দাম বাড়ানো হয় বিদ্যুতের।

এতসব সুযোগ-সুবিধার পরিপ্রেক্ষিতে ধরে নেয়া যায়, বিদ্যুতে তেমন একটা লোকসানের আশঙ্কা নেই। কিন্তু গতকাল শেয়ার বিজে ‘বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পরও পিডিবির রেকর্ড লোকসান’ শীর্ষক প্রতিবেদন আমাদের হতাশ করে। এ প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে লোকসান হয়েছে ৯ হাজার ২০৪ কোটি টাকা, অর্থবছর শেষে লোকসান ১১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। শুধু তা-ই নয়, গত কয়েক বছর কেবল লোসানই দিয়ে আসছে বিদ্যুৎ খাত। ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত এক দশকে ৬৩ হাজার ৬৩৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।

আমরা জানি, উৎপাদন ও বিপণন প্রক্রিয়ায় সমন্বয় না থাকায় ‘সিস্টেম লস’ হয় এবং এ খাতের দুর্নীতি তো আছেই। আবার বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো অলস বসে থাকলেও কেন্দ্র ভাড়া ঠিকই পরিশোধ করা হয়। তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে ব্যয় বেশি হয় বলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বেশিরভাগ সময় বন্ধ রাখা হয়। সবকিছু মিলিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকসানের পরিমাণ বেড়েই চলেছে।

সাধারণ ভোক্তাদের সামর্থ্য তথা জনস্বার্থ বিবেচনায় বিদ্যুতের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা উচিত। বিশেষ করে কভিডকালে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়াবে। আমরা মনে

করি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে বিদ্যুৎ খাতে লোকসান হবে না।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, কিন্তু এতে লোকসান হওয়ার কথা নয়। অবশ্য এপ্রিল থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় কমছে। পিডিবি ও সরকারি অন্যান্য কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনে কিছুটা মুনাফা হলেও বেসরকারি খাত ও আমদানিকৃত বিদ্যুতে লোকসান গুনতে হয়। বেসরকারি খাত ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে হবে। সরকারি হোক আর বেসরকারি সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতি কমানো গেলে অন্তত লোকসান কমে যাবে। বিদ্যুতে এত সাফল্য ও দাম বৃদ্ধির পরও লোকসান হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই লোকসানের কারণ খতিয়ে দেখে জনগণের অর্থের সদ্ব্যবহার নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..