সম্পাদকীয়

দারিদ্র্য বিমোচনে শ্রমঘন শিল্প সৃষ্টি হোক

প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় দুই-ই বেড়েছে, অথচ গতি কমেছে দারিদ্র্য বিমোচনে। দেশের এই পরিসংখ্যান প্রবল বৈষম্যের চিত্রকে আরও স্পষ্ট করে। গত দেড় দশকে দারিদ্র্য বিমোচন প্রতিযোগিতায় শীর্ষ ১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ নেই। বিশ্বায়ন বা মুক্তবাজার অর্থনীতিতে দেশ যখন টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার দৌড়ে ব্যস্ত, তখন অন্যান্য রাষ্ট্র আরও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। পাশের সবগুলো ছোট-বড় দেশই এক্ষেত্রে অনেক দ্রুততার সঙ্গে এগিয়েছে। বর্তমানে দেশে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির সিংহভাগ সুফল ভোগ করছেন উদ্যোক্তারা। কিন্তু কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মজুরি বৃদ্ধিতে দুর্দশা দেখা যাচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বৈষম্য দূর করতে না পারলে, দেশের এক বৃহৎ সংখ্যক মানুষ উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারবে না। সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

তানজানিয়া তিন দশমিক দুই শতাংশ হারে দারিদ্র্য বিমোচন করে তালিকায় শীর্ষে রয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের শতাংশ হার মাত্র এক দশমিক ৪২। দেশে এখনও হতদরিদ্র লোকের সংখ্যা সোয়া দুই কোটি। আর দেশের সবচেয়ে দরিদ্র পাঁচ শতাংশ বা ২০ লাখ পরিবারের মাসিক আয় মাত্র ৭৪৬ টাকা। যেখানে ১৯ লাখ ৬৫ হাজার পরিবার মাসে গড়ে আয় করছে ৮৯ হাজার টাকা। এমনকি দেশের ১০ শতাংশ মানুষের কাছে রয়েছে ৯০ শতাংশ সম্পদ। এই বিশাল বৈষম্য এক দিনে কিংবা কোনো বৈধ উপায়ে সৃষ্টি হয়নি। বলা হচ্ছে, একটি দেশের উন্নয়নের পথযাত্রায় ধনীরা আগে সম্পদ তৈরি করে। গরিবের সম্পদ সৃষ্টির সুযোগ কম থাকে। কিন্তু এখানে গরিবের সম্পদ তৈরির প্রশ্ন আসেনি, এসেছে দৈনন্দিন মৌলিক চাহিদা মেটানোর দায়। আর যদি গরিবের সম্পদ তৈরির প্রশ্ন এসেও যায়, তবে অন্যান্য ১৫টি দেশের অনেকগুলোর চিত্র কিন্তু বাংলাদেশের মতো নয়Ñতা বিবেচনা করতে হবে। তবে ফরাসি বিপ্লবের সময়েও একশ্রেণির মানুষকে আর্থিক কষ্টে পড়তে দেখা গেছে। সে পরিস্থিতিও বাংলাদেশে ঘটেনি। অবশ্য যুক্তিটির কিছু বাস্তবতা রয়েছে। সেটা সুশাসনের অভাব, অর্থব্যবস্থার পরিকল্পনাহীনতা কিংবা দুষ্টু পরিকল্পনার দীর্ঘমেয়াদি কারণের ফলাফল। কালো টাকা, ঋণখেলাপি, অর্থ পাচার করে একশ্রেণির মানুষ অর্থ পুঞ্জীভূত করেছে। কিন্তু তারা কাক্সিক্ষত উপায়ে কর্মসংস্থান গড়েনি। আরও স্পষ্ট করে বলা যায়, গত দেড় যুগ ধরে দেশে শ্রমঘন শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠেনি। এখন যে কোনো আর্থিক উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টিকে অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। সেই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো দেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদার করতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..