কৃষি কৃষ্টি

দারুচিনি চাষ পদ্ধতি

দারুচিনি বলতে আমরা বুঝি এটি একটি মসলা-জাতীয় পণ্য। দারুচিনির সব অঙ্গ, যেমন পাতা, বাকল, কুঁড়ি, ফুল-ফল ও শেকড় কোনো না কোনো কাজে লাগে। এ গাছের বাকল মসলা হিসেবে পরিচিত। পাতার তেল সুগন্ধি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন ধরনের খাবারে মসলা ও সুগন্ধি ছাড়াও ওষুধশিল্প, চকোলেট, সাবান ও দাঁতের মাজন তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। প্রয়োজনীয় এ মসলা প্রসারে আমাদের দেশে এর চাষ বৃদ্ধি করা যেতে পারে। জেনে নেওয়া যাক এর চাষ পদ্ধতি।

পরিচিতি
দারুচিনি গাছের বাগান তৈরি করে কিংবা বসতবাড়িতে লাগিয়ে মসলার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। এটি মাঝারি প্রজাতির বৃক্ষ। চিরসবুজ দারুচিনি গাছ ছয় থেকে ১৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। এর আদি নিবাস শ্রীলঙ্কায়। ইন্দোনেশিয়া, ভারত, চীন, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে উৎপন্ন হয়ে থাকে।

জাত
দারুচিনির স্থানীয় উন্নত জাত হচ্ছে বারি দারুচিনি-১। আকর্ষণীয় বাদামি রঙের সুগন্ধযুক্ত, মিষ্টি ও স্বাভাবিক ঝাঁঝযুক্ত জাত এটি। বাংলাদেশে এ জাতটিই বেশি চাষ করা হয়।

জলবায়ু ও মাটি

বর্ষাকাল বা বর্ষার শেষদিকে চারা লাগানো হয়ে থাকে। বলতে গেলে, হালকা উষ্ণ আবহাওয়া দারুচিনি চাষের জন্য উপযোগী। চাষের জন্য সুনিষ্কাশিত উর্বর বেলে দোঁআশ মাটি উত্তম। এ মাটিতে চাষ করলে গাছের বাকলের গুণগত মান ভালো হয়। এ গাছ একটানা খরা সহ্য করতে পারে না। পাহাড়ের ঢাল কিংবা পাহাড়ের ওপরে বায়ু চলাচলের উপযোগী ও পর্যাপ্ত সূর্যালোক থাকায় এসব স্থানে এর উৎপাদন ভালো হয়।

জমি তৈরি

যে জমিতে অন্য ফসল ভালো হয় না, সে জমিতে এর চাষের জন্য নির্বাচন করা যেতে পারে। আপনি চাইলে বাড়ির আঙিনা বা পুকুরপাড়েও এর চাষ করতে পারেন। চাষকৃত জমিতে ভালো করে চাষ ও মই দিয়ে সমতল করে নিতে হবে। মাটি অবশ্যই ঝুরঝুরে করে নিতে হবে ও আগাছামুক্ত করতে হবে। আর বাড়ির আঙিনার ক্ষেত্রে চাষ না করলেও হবে। কৃষিযন্ত্র দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিয়ে নিড়ানি দিয়ে পরিষ্কার করলেই চলবে।

চারা তৈরি

দারুচিনির গাছটাই প্রধান। এর চারা সাধারণত বীজ থেকে হয়ে থাকে। তবে কাটিং বা গুটিকলম করেও চারা তৈরি করা যায়। এ গাছে জানুয়ারিতে ফুল আসে। জুলাই থেকে আগস্টে ফল পাকতে শুরু করে। এ সময় গাছ থেকে বীজ সংগ্রহের পর যত তাড়াতাড়ি পারা যায় মাটিতে তা বুনতে হবে। প্রথমদিকে এর বীজ উঁচু বীজতলায় রোপণ করতে হবে। এরপর যখন চারা তৈরি হবে, তখন তা স্থানান্তর করতে হবে।

রোপণ পদ্ধতি

চাষ করা জমিতে রোপণের আগে বর্গাকার বা ষড়ভুজি আকারে ৩০ী৩০ী৩০ সেন্টিমিটার মাপের গর্ত করে নিতে হবে। প্রতি গর্তে পচা গোবর, ছাই, টিএসপি সার দিতে হবে। এরপর মাটি ভালো করে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করতে হবে। গর্ত ভরাটের ১০ থেকে ১৫ দিন পর রোপণ করতে হবে। মে থেকে অক্টোবর চারা রোপণের সময়। বীজ থেকে যখন কচি চারা গজায়, তখন এর রঙ থাকে লালচে। এ সময় চারা তুললে মরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই চারার পাতার রঙ যখন সবুজ হবে, তখন চারা তুলে স্থানান্তর করতে হবে। চারা বর্ষাকালে রোপণ করাই ভালো। চারা লাগানোর সময় সারি করে লাগাতে হবে। প্রতিটি সারির দূরত্ব তিন মিটার হতে হবে।

স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

রোগ নিরাময়ের জন্য অতীতে মানুষ দারুচিনি ব্যবহার করত। কেননা এতে রয়েছে অসাধারণ ঔষধি গুণ। প্রায় সব ধরনের রোগের জন্য এটি ব্যবহার করা হতো। আজও এর আবেদন কমেনি। তাই জেনে নিতে পারেন দারুচিনির কিছু ব্যবহার
# এ মসলা ওজনজনিত সমস্যা সমাধানে বেশ কার্যকর
# শরীরের কোথাও ব্যথা হলে এটি হালকা গরম পানির মধ্যে দিয়ে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে উপশম পাওয়া যায়। খাওয়ার পাশাপাশি এটি ব্যথার স্থানে মালিশও
করতে পারেন
# এসিডিটি বা হজমে সমস্যা হলে দারুচিনি গুঁড়ো করে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে ভালো হয়ে যায়
# পাতলা পায়খানা হলে এর গুঁড়ো
হরীতকীর গুঁড়োর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়
# কুসুম গরম পানির সঙ্গে এর গুঁড়ো মিশিয়ে খেলে হƒদরোগ ভালো হয়। রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে
# নিয়মিত দারুচিনি ও দুধ একসঙ্গে মিশিয়ে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে
# দারুচিনি খেলে ছত্রাকজনিত যে কোনো ইনফেকশন প্রতিরোধ করা যায়
# এটি নিয়মিত খেলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়
# এটি খেলে ক্যানসার ও টিউমার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না
# এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে
# দারুচিনি দিয়ে চা খেলে মাথাব্যথা ভালো হয়
# এটি গরম পানিতে সেদ্ধ করে কুলকুচি করলে দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির সমস্যা ভালো হয়
# ঠাণ্ডায় গলা ব্যথা হলে দারুচিনির পানি খেলে উপকার পাওয়া যায়
# এর ব্যবহার শুধু দাঁতের জন্যই নয়, বরং নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধও দূর করে
# অনেক সময় পিত্ত থলিতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ দেখা দেয়। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রতিদিন এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে দুই টেবিল চামচ দারুচিনির গুঁড়ো ও এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন
# চুল পড়া একটা বড় সমস্যা। এ সমস্যা রোধ করতে এক চামচ মধুর সঙ্গে দারুচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে সকাল ও বিকালে খেলে ভালো ফল পাওয়া যাবে
# কুসুম পানিতে দারুচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে পান করলে মূত্রাশয়ের জীবাণু ধ্বংস হয়
স দুর্বাঘাস ও হলুদের সঙ্গে দারুচিনি বেটে মুখে লাগালে ত্বক সুস্থ ও উজ্জ্বল হয়।

পরিচর্যা ও বাকল প্রক্রিয়াকরণ

দারুচিনি গাছ রোপণ করার পর ঠিকমতো পরিচর্যা করা না হলে মসলার চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে না। পরিচর্যার অভাবে গাছ ঠিকভাবে বেড়ে ওঠে না বা মরে যায়। তাই সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে পেতে পারেন উন্নত মানের মসলা।

পরিচর্যা

রোপণের আগে সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত দারুচিনি চারা নির্বাচন করতে হবে। গর্তে সার দেওয়ার ১০ থেকে ১৫ দিন পর নির্বাচিত চারা গর্তের মাঝখানে সোজাভাবে লাগাতে হবে। এরপর চারদিকে মাটি দিয়ে চারার গোড়ায় সামান্য চেপে দিতে হবে। রোপণ শেষ হয়ে গেলে খুঁটির সঙ্গে চারা বেঁধে দিতে হবে। অতঃপর প্রয়োজনমতো পানি ও বেড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

সার প্রয়োগ

রোপণের পর অবশ্যই প্রয়োজনমতো সার দিতে হবে। গাছের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সারের পরিমাণও বাড়তে থাকবে। প্রতিটি গাছের জন্য চার থেকে পাঁচ কেজি কম্পোস্ট বা পচা গোবর, ১০০ গ্রাম টিএসপি ও ১০০ গ্রাম ইউরিয়া সার দিতে হবে। বৈশাখ থেকে জ্যৈষ্ঠ, ভাদ্র থেকে আশ্বিন পর্যন্ত সার দেওয়া উত্তম। প্রতিবার সার দেওয়ার পর প্রয়োজনে পানি দিতে হবে।

আগাছা দমন ও সেচ

গাছের গোড়া নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। পাহাড়ের ঢাল, বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধার বা পুকুরপাড়ে লাগানো গাছের গোড়ার আগাছা কেটে পরিষ্কার রাখতে হবে। চারা রোপণের প্রথম দিকে প্রয়োজনমতো সেচ দেওয়া দরকার। গাছ বড় হলে আর সেচের তেমন প্রয়োজন পড়ে না। চারা অবস্থায় গাছকে সুন্দর কাঠামো দেওয়ার জন্য অবাঞ্ছিত ও অপ্রয়োজনীয় ডালপালা ছাঁটাই করে রাখতে হবে। ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে গাছের মরা, রোগাক্রান্ত ও পোকামাকড় আক্রান্ত ডালপালা কেটে পরিষ্কার রাখতে হবে।

গাছের বাকল প্রক্রিয়াকরণ

পাঁচ বছর বয়সী গাছ থেকে নিয়মিত বাকল সংগ্রহ করা যাবে। এ বাকল উঠানোর জন্য বিশেষ ধরনের ছুরি দিয়ে কেটে উঠানো হয়। এ ছুরির ধারালো ফলার সামনের দিকটা গোল, অল্প বাঁকানো ও সামান্য খাঁজযুক্ত হতে হবে। ছুরি দিয়ে ডাল থেকে গোল করে কেটে বাকল তুলে আনা যায় সহজে। প্রথমে বাইরের অমসৃণ ছাল ঘষে বা ছাড়িয়ে তুলে দেওয়া হয়। তারপর পিতলের দণ্ড দিয়ে ঘষে ঘষে মসৃণ করে বাকল তোলা হয়। গাছের নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত লম্বালম্বিভাবে চিরে নিয়ে ছুরির সাহায্যে বাকল আলাদা করা হয়। ডাল ও বাকল একই দিনে উঠাতে হবে। উঠানো বাকলগুলো ছায়াযুক্ত জায়গায় সারা রাত গাদা করে রাখতে হয়। এগুলোকে একদিন ছায়ায় শুকানোর পর চার থেকে পাঁচ দিন রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। শুকানোর সময় বাকলগুলো সংকুচিত হয়ে নলের মতো হয়ে যায়। ছোট নলগুলো বড় নলের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে যৌথ নল বানানো হয়। ফলে ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা থাকে না।
মোটা ডাল থেকে অনেক সময় ডাল ছিলে নিয়ে দারুচিনি বানানো হয়। একে বলে ‘চাঁচা’ দারুচিনি। দারুচিনি সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। সিলোন বা মিষ্টিকাঠ দারুচিনি ও চাইনিজ বা ঝুটা দারুচিনি। সিলোন বা মিষ্টিকাঠ দারুচিনির সুগন্ধ তুলনামূলক বেশি, মিষ্টিযুক্ত, কম তীব্র গন্ধ, ছাল কালচে খয়েরি রঙের, পাতলা ও মসৃণ হয়। অন্যদিকে চাইনিজ বা ঝুটা দারুচিনি কম সুগন্ধিময়, মিষ্টিযুক্ত বেশি তীব্র গন্ধ, ছাল লালচে বাদামি রঙের, পুরু ও খসখসে হয়ে থাকে।

রোগবালাই ও পোকামাকড়

দারুচিনি গাছও বিভিন্ন রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণের শিকার হতে পারে। তবে তুলনামূলক কম। রোগের আক্রমণে মসলার বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এ গাছের কিছু রোগবালাই সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন

লাল মরিচা
এ রোগের আক্রমণে পাতা, ফল ও কাণ্ডে লালচে মরিচার মতো এক ধরনের দাগ দেখা যায়। সবুজ শৈবালের আক্রমণে এ রোগ হয়। রোগ দেখা দিলে আক্রান্ত পাতা ও ডগা ছাঁটাই করে ধ্বংস করতে হবে। এরপর ছত্রাকনাশক ওষুধ পানিতে মিশিয়ে ১৫ দিন পরপর দুইবার করে স্প্রে করতে হবে।

কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা
কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা গাছের কাণ্ড ছিদ্র করে। আঁকাবাঁকা সুড়ঙ্গ করে বাকল খেতে থাকে। ছিদ্রের মুখে কালচে বাদামি চা-পাতার গুঁড়োর মতো দানা কীড়ার মল দেখা যায়। এতে গাছে খাদ্য ও পানি চালাচল ব্যাহত হয়। ধীরে ধীরে গাছের বাকল নষ্ট হয়ে যায়। এ রোগ আক্রান্ত হলে ছিদ্রমুখের মল পরিষ্কার করে পেট্রোল বা কেরোসিন তেল অথবা ক্লোরোফর্মে এক টুকরো তুলো ভিজিয়ে ছিদ্রের মুখে দিতে হবে। পরে ছিদ্রের মুখ নরম কাদা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে। এতে কীড়া মারা যাবে। এছাড়া আক্রান্ত গাছের কাণ্ডে কীটনাশক পরিমাণ মতো পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। আলোক ফাঁদে এ পোকার মথকে আকৃষ্ট করেও মেরে ফেলা সম্ভব।

উঁইপোকা
এটি দারুচিনির জন্য তেমন ক্ষতিকর না হলেও কখনও কখনও শিকড় ও কাণ্ড খেয়ে ক্ষতি করে। এক্ষেত্রে উঁইপোকার ঢিবি ধ্বংস করতে হবে। খাদ্য ফাঁদ ব্যবহার করেও এ পোকা মেরে ফেলা সম্ভব। নার্সারিতে সেচ দিয়ে কয়েকদিন পানি ধরে রেখে পোকাগুলোকে মেরে ফেলতে হবে। এরপর গাছের গোড়ায় উঁইপোকার মাটি সরিয়ে দিয়ে পানি দিয়ে গাছ পরিষ্কার করে নিতে হবে।

শুটিমোল্ড
এ রোগের আক্রমণে পাতা, ফল ও কাণ্ডে কালো ময়লা জমে। মিলিবাগ বা সাদা মাছির আক্রমণে এ রোগ হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে আক্রান্ত পাতা ও ডগা ছাঁটাই করে ধ্বংস করতে হবে। মিলিবাগ বা সাদা মাছির আক্রমণ এ রোগ ডেকে আনে। তাই এদের দমনের জন্য অবশ্যই কীটনাশক পানির সঙ্গে মিশিয়ে ১৫ দিন পর পর দুবার করে স্প্রে করতে হবে।

লাল পিঁপড়া
এ গাছে লাল পিঁপড়ার আক্রমণ দেখা যায়। এসব পিঁপড়া গাছের গোড়ায় বাসা বাঁধে। এতে শিকড় পচে যায়। এক্ষেত্রে কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকার মতোই এদের ধ্বংস করতে হবে। গাছের গোড়ায় পেট্রোল বা কেরোসিন অল্প পরিমাণে ঢেলে দূর করতে হবে। তবে বেশি দেওয়া যাবে না। এতে গাছ মারা যেতে পারে।

সাবধানতা
বাগান নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। ছত্রাকনাশক বা কীটনাশক স্প্রে করার ১৫ দিন গাছের বাকল তোলা যাবে না বা বিক্রি করা যাবে না। খেয়াল রাখতে হবে কোনো পোকা বা রোগ আক্রমণ করেছে কি না।

 

 

সর্বশেষ..