প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

দিনাজপুরে নদী খননে ফসলের ক্ষতি

রফিকুল ইসলাম ফুলাল, দিনাজপুর : কৃষকদের সুবিধার্থে সরকার সারাদেশের নদীগুলো খনন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় দিনাজপুরের নদীগুলোর খনন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে সদর উপজেলার নদীগুলোর খননকাজ প্রায় শেষের দিকে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, খনন করার সময় গর্ভেশ্বরী নদীর উভয় ধারে কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। সদর উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের ভুক্তভোগী কৃষকরা ফসল নষ্ট করাসহ রেকর্ড ও দলিলিও সম্পত্তি হতে কৃষকদের বেদখল করায় ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদনও করেছেন তারা।

তবে সচেতন মহল বলছেন, আমাদের জীবদ্দশায় নদীখননের মতো উন্নয়ন কার্যক্রম পাইনি; যা বর্তমান আওয়ামী সরকার করছে। এজন্য তারা বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। তারা বলেন, এক সময় এ নদীগুলো দিয়ে বড় বড় জাহাজ চলাচল করত। সারাবছর থই থই পানি লেগে থাকত নদীগুলোয়। কালের বিবর্তনে পলি জমে নদীগুলো শুকিয়ে যায়। হারিয়ে যাচ্ছে চিরচেনা দেশীয় মাছ। বন্যার কবলে পড়তে হচ্ছে বছরের পর বছর। শুষ্ককালে জমিতে পানি দিতে পাওয়া যায় না নদীর পানি। ডিপ টিউবওয়েলের মাধ্যমে সেচ দিতে হয়। তাই এই নদীগুলো খনন সম্পন্ন হলে নদী ফিরে পাবে তার নাব্য। কৃষকের মুখে ফুটবে হাসি আর আমরা পাব পাতে দেশি মাছ। সচেতন মহল সরকারের পাশাপাশি দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানায় সাফল্যের সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে ভ‚মিকা রাখায়।

সম্প্রতি সরেজমিন কালিকাপুর গ্রামে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, আমরা সদর উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা। পেশায় কৃষক আর জীবিকার একমাত্র উৎস কৃষি। আমরা বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, মরা নদীগুলো খনন করে তিনি জীবিত করে তুলছেন। আমাদের কৃষিকাজে সার্বক্ষণিক পানির ব্যবস্থা করছেন।

কৃষকরা আরও জানান, একটি ভালো কাজ করতে গেলে কিছু সমস্যায় পড়তে হয়। সমস্যাটা হলো, গর্ভেশ্বরী নদীর উভয় ধারে আমাদের আবাদি জমি আছে। নদীটি খনন করার সময় আমাদের জমিতে থাকা ফসল নষ্ট করা হয়। সঙ্গে রেকর্ডভুক্ত ও দলিলিও সম্পত্তি থেকে কৃষকদের বেদখল করা হয়। অবশিষ্ট যে জমিটুকু ছিল তাতে বালির স্ত‚প করে রাখা হয়েছে। এতে চাষাবাদ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে রয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্তরা।

সুন্দরবন ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের কৃষক ডা. আব্দুস সোবহান জানান, গর্ভেশ্বরী নদীর খনন করার সময় নকশা মানা হয়নি। আবার নতুনভাবে খাল খনন করা হলেও কৃষকের জমি অধিগ্রহণ করা হয়নি। এক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি, এমনকি ক্ষতিপূরণও দেয়া হয়নি। আর তাই জমিতে ফসল আবাদে অতিদ্রæত বালি আর মাটিগুলো সরানোর ব্যবস্থা করুন নইলে আমাদের দায়িত্ব দেন, আমরা তা সরিয়ে ফেলি। নতুবা ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে দেন বলে জানান তিনি।

এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন, নুর মোহাম্মদ প্রামাণিক, আতাউর রহমান, রাহিলা খাতুন, খতিব মুন্সি, হোসেন আলীসহ অনেকে জানান, আমরা সাধারণ কৃষক, কৃষি ও কৃষকবান্ধব বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের কোনো দ্বিমত পোষণ করছি না। আমরা যে ফসল ও জমি হারিয়ে অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি, এতে চরম হতাশায় ভুগছি।

এ বিষয়ে দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম জানান, দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ১৮ কোটি টাকার প্রায় সাড়ে ১৮ কিলোমিটার নদীপথে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান। প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, কৃষকদের সুবিধার্থেই সার্বক্ষণিক পানির ব্যবস্থা রাখতে বর্তমান সরকার নদীপথ খনন কার্যক্রম চালাচ্ছে। এই খননকাজে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে অবগত করা হয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মর্তুজা আল-মুঈদ জানান, সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের কোনো নির্দেশনা দেয়া নেই।