বিশ্ব সংবাদ

দিল্লিতে মুসলিমদের টার্গেট করে হামলার অভিযোগ, নিহত ৩৪

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চলমান সহিংসতায় পাঁচ দিনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই শতাধিক। গত বুধবার রাতে এবং গতকাল দিল্লির অনেক স্থানে নতুন করে সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল পর্যন্ত ১৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে দিল্লিতে মুসলিমদের টার্গেট করে হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর: এনডিটিভি, আনন্দবাজার।

দিল্লির সহিংসতা নিয়ে ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। রক্তক্ষয়ী সহিংসতা চললেও ক্ষমতাসীন বিজেপি এবং দিল্লি রাজ্যের ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টি (আপ) নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বলে বিরোধী দল কংগ্রেস অভিযোগ তুলেছে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দর সঙ্গে দেখা করে রাজধর্ম পালনের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। এছাড়া স্মারকলিপি দিয়ে পরিস্থিতি সামলাতে ‘ব্যর্থ’ হওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।

কংগ্রেসের প্রতনিধিদলে আরও ছিলেন মনমোহন সিং, পি চিদম্বরম, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ আরও অনেকে। পরে রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সোনিয়া জানান, তারা দেশের মানুষ যেন পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকেন এবং কারও যেন প্রাণহানি না ঘটে তা নিশ্চিত করতে বলেছেন। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় তার পদত্যাগ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, সহিংসতায় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে কেন্দ্র এবং আপ।

দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে শুরুতে চুপ থাকলেও প্রথমবারের মতো টুইটে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রে মোদি লেখেন, ‘আমার ভাই ও বোনেদের দিল্লিতে শান্তি এবং সৌভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার আবেদন জানাচ্ছি। পুলিশ ও অন্য এজেন্সি মিলে শান্তি ফেরানোর কাজ করছে। এছাড়া দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, এ সহিংসতায় হিন্দু বা মুসলমান; কারোর কোনো লাভ হবে না। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি সেনা মোতায়েনের আহ্বান জানালেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাতে সম্মত হয়নি।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত সফরে থাকাকালীন দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি দেশে ফিরতেই আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক মার্কিন কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) অভিযোগ করে বলেছে, বেছে বেছে মুসলিমদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। অথচ সব দেখেও নীরব সরকার। তবে মার্কিন ওই সংগঠনের অভিযোগ খারিজ করে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য’ থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে দেশের অভ্যন্তরেও সমালোচনার মুখে পড়েছে ভারত সরকার। এদিকে সহিংসতা রুখতে ভূমিকা রাখা দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি মুরলীধরের বদলি নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী টুইটে লেখেন, ‘বিচারপতি লোয়ার কথা মনে পড়ছে, যাকে বদলি করা হয়নি।’ সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি ব্রিজগোপাল হরকিষেন লোয়া গুজরাটের সোহরাবুদ্দিন শেখের হত্যা তদন্তের মুখ্য তত্ত্বাবধায়ক থাকার সময় মামলার অভিযুক্ত ছিলেন অমিত শাহ। পরে লোয়ার মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। রাহুলের টুইটের পর বিজেপি সরকারের কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ টুইট-বার্তায় জানান, মুরলীধরের বদলি রুটিন বদলি। এছাড়া প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও বিচারপতি বদলির নির্দেশ বেদনাদায়ক ও লজ্জাকর বলে অভিহিত করেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..