বিশ্ব সংবাদ

দিল্লিতে সহিংসতা অব্যাহত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩

শেয়ার বিজ ডেস্ক : ভারতের দিল্লিতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনকে (সিএএ) কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। গত সোমবার শুরু হওয়া সিএএ’র পক্ষ-বিপক্ষের ওই সহিংসতায় অন্তত ৭০ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন দুই শতাধিক। মুসলিমদের বাড়িঘর ও দোকানপাটে বেশিরভাগ হামলা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার রাতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ও পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। খবর: বিসিসি ও এনডিটিভি।

বিতর্কিত সিএএ আইনের বিরুদ্ধে দিল্লির শাহিনবাগে অবস্থান নিয়ে টানা দুই মাস ধরে বিক্ষোভ করে আসছেন নারীরা। ওই অবস্থানের কারণে বন্ধ হওয়া সড়ক কর্তৃপক্ষ খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার পর গত শনিবার ২২ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে জাফরাবাদ মেট্রোস্টেশনে বিক্ষোভ শুরু হয়। এর জবাবে পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি বেলা ৩টায় প্রায় এক কিলোমিটার দূরের মৌজপুর চকে সিএএ সমর্থকদের জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়ে টুইট করেন দিল্লির বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র। হিন্দুত্ববাদী কপিলের সেই উসকানির পর সহিংসতা নতুন মাত্রা পায়। তাণ্ডব চালানো হয় মসজিদসহ মুসলিমদের দোকানে। হতাহত হয় বহু মানুষ।

দিল্লির চলমান সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত ২৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল পুলিশের ডেপুটি কমিশনারের দপ্তরে গিয়ে পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন। পরে তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সিলামপুর, জাফরাবাদ, মৌজপুর, গোকুলপুরী চক প্রভৃতি জায়গাও পরিদর্শন করেন অজিত ডোভাল।

এক আদেশে গত তিন দিনে রাজধানীর সহিংসতায় আহতদের জরুরি চিকিৎসা ও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের প্রতি নির্দেশনা জারি করেছেন দিল্লির হাইকোর্ট। এর আগে সোমবার ওই সহিংসতা আরও জোরালো হয়ে উঠলে এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত চারজন নিহত হয়। পরের দিন মঙ্গলবার সকালে আবারও সহিংসতা শুরু হয়। ভজনপুর এলাকায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে পরস্পরের দিকে তেড়ে যায়। এদিকে উত্তরপূর্ব দিল্লিতে চার দিনের ভয়াবহ দাঙ্গায় ২৩ জনের প্রাণহানির পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজধানীবাসীকে শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..