দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

দিশাহারা অবৈধ বন্ডেড সুতা বিক্রির চক্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে সুতা উৎপাদন হলেও রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য সরকার কিছু প্রতিষ্ঠানকে বন্ড লাইন্সেস দিয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই বন্ড সুবিধায় আমদানি করা সুতা দিয়ে পণ্য তৈরি না করে খোলাবাজারে বিক্রি করে দেয়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর সমন্বয়ে সুতা বিক্রিতে গড়ে উঠেছে এ চক্র। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত দেশীয় টেক্সটাইল-স্পিনিং শিল্প। অবশেষে এর বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে অভিযান। একের পর এক জব্দ হচ্ছে বন্ড সুবিধার অবৈধ সুতা।

অবৈধ চক্রকে ধরা ও দেশীয় শিল্প রক্ষায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটে গঠন করে স্পেশাল প্রিভেন্টিভ টিম। এ টিমের বেশ কয়েকটি অভিযানের ফলে অসাধু চক্র দিশাহারা। জব্দ হয়েছে বেশ কয়েকটি বন্ডেড সুতার চালান। এজন্য বন্ড কমিশনারেটকে সাধুবাদ জানিয়ে বিটিএমএ (বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন) অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে।

ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের সহকারী কমিশনার মো. আল আমিন জানান, মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জ থেকে আবারও কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ বন্ডেড সুতা জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। গতকাল বিশেষ টাস্কফোর্সের অধীনে স্পেশাল প্রিভেন্টিভ টিম এ সুতা জব্দ করে। তিনি জানান, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার প্রতিরোধ ও দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় স্পেশাল প্রিভেন্টিভ টিম গতকাল নারায়ণগঞ্জ শহরের বংশাল রোড-সুতারপাড়া এলাকায় ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে।

তিনি আরও জানান, অভিযান টের পেয়ে শুরুতে গুদাম মালিকরা পালিয়ে যান। পরবর্তীকালে সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে অভিযান প্রতিহত করার চেষ্টা করা হয়। তবে পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় সুতারপাড়া এলাকার একটি ভবনের গোপন গুদাম থেকে কোরিয়ান ও ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রায় ২২ টন স্প্যান্ডেক্স ও পলিয়েস্টার-কটন সুতা জব্দ করা হয়। এসব পণ্য বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করে রপ্তানিতে ব্যবহারের পরিবর্তে অবৈধভাবে খোলাবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। জব্দ পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা, যার বিপরীতে প্রযোজ্য শুল্ককর প্রায় এক কোটি টাকা। জব্দ পণ্যের বিপরীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বন্ড কমিশনারেট সূত্র জানায়, টাস্কফোর্সের স্পেশাল প্রিভেন্টিভ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৩ নভেম্বর সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে অভিযান চালিয়ে দুটি গুদাম থেকে ৩৮ টন অবৈধ বন্ডেড সুতা জব্দ করে। গোপন তথ্য ছিল, বেলকুচি উপজেলার সুতা বিক্রির প্রসিদ্ধ হাট সোহাগপুর বাজার ও তামাই গ্রামের শামিম শেখের গোডাউনে সুতা বিক্রি হয়। দুটি গার্মেন্ট কারখানা এসব সুতা বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করেছিল। এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ওই দুটি গার্মেন্ট কারখানাকে শনাক্ত করা গেছে। জব্দ করা সুতা বগুড়া ভ্যাট অফিসের তত্ত্বাবধানে শান্তাহারে রাখা হয়েছে। এর আগে ঢাকার চকবাজার থেকে ৩৮ টন সুতা জব্দ করা হয়।

ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে ৮ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিসমি ইয়ার্ন ট্রেডিংয়ের গুদাম ও পার্শ্ববর্তী মাঠ থেকে প্রায় ১০ টন অবৈধ বন্ডেড সুতা জব্দ করা হয়। এসব পণ্য বিদেশ থেকে বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করে রপ্তানির পরিবর্তে চোরাইপথে খোলাবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। জব্দ করা পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। যার বিপরীতে আদায়যোগ্য শুল্ককরের পরিমাণ প্রায় ৩৮ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনার এসএম হুমায়ূন কবীর বলেন, এনবিআর চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় এ অভিযান চালানো হচ্ছে। এনবিআরের গঠিত টাস্কফোর্সের আওতায় গঠিত স্পেশাল প্রিভেন্টিভের মাধ্যমে অভিযান অব্যাহত থাকবে। দেশের যে প্রান্তেই অবৈধ বন্ডেড পণ্য পাওয়া যাবে, তাৎক্ষণিক তা জব্দ ও মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।

অভিযানে সন্তুষ্টি জানিয়ে বিটিএমএ’র এক নেতা বলেন, অবৈধ বন্ড সুবিধার সুতার কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত। অভিযানের ফলে সিন্ডিকেট কিছুটা হলেও দিশাহারা। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং যেসব প্রতিষ্ঠান বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে অবৈধ সুতা বাজারে আসতে পারবে না। অভিযানে একদিকে যেমন অবৈধ বিদেশি সুতার ব্যবসা বন্ধ হচ্ছে, অন্যদিকে দেশীয় শিল্পের বাজার ক্রমাগত সুসংহত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..