প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

দীর্ঘদিনেও চালু হয়নি চিলাহাটি স্থলবন্দর

নীলফামারী প্রতিনিধি: দীর্ঘদিনেও চালু হয়নি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি স্থলবন্দর। জেলাবাসীর আন্দোলনের মুখে ২০১১ সালে ১৯ জুন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান স্থলবন্দরটি পরিদর্শন করে বন্দরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট পুনোরায় চালুর বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে স্থলবন্দরটি উদ্বোধন করা কথা ছিল। কিন্তু আজও এ বন্দর চালু হয়নি।

১৯৬০ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের আগে চিলাহাটি স্থলবন্দরের কার্যক্রম চালু হয়। সেকালে ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে চিলাহাটিতে স্থাপন করা হয়েছিল একটি চেক পোস্ট। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় চেক পোস্টটি চালু রেখে স্থলবন্দরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এদিকে ২০০২ সালের জুন মাসে অজ্ঞাত কারণে চেক পোস্টও বন্ধ হয়ে যায়। স্থলবন্দর চালুর জন্য জেলাবাসী দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করে আসছে। বিশেষ করে সড়কপথের চেয়ে রেলপথকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন আমদানি ও রফতানিকারক ব্যবসায়ীরা। সেক্ষেত্রে লালমনিরহাট ও পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধার চেয়ে চিলাহাটি স্থলবন্দর ও আন্তর্জাতিক চেক পোষ্ট চালুর বিষয়টি সব থেকে বেশী গুরুত্ব পেয়েছিল।

এদিকে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালে ১৯ জুন নৌপরিবনমন্ত্রী শাজাহান খান চিলাহাটি স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছিলেন। সে সময় তিনি চিলাহাটি স্থলবন্দরের পাশাপাশি আর্ন্তজাতিক চেক পোষ্টটি পুরনায় চালুর বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন। ২০১৩ সালের আগস্টে চিলাহাটি স্থলবন্দরটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশিত হয়। এজন্য চিলাহাটি থেকে ভারতের হলদিবাড়ী পর্যন্ত রেলপথ পুনস্থাপনের উদ্যোগটিও আলোর মুখ দেখেনি। ফলে বাংলদেশ সীমান্তে ৮ দশমিক ১০ কিলোমিটার ও ভারতের সীমান্তে হলদিবাড়ী পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার রেললাইন স্থাপন করা হয়নি আজও। অথচ গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহাজান খান স্থলবন্দরটি উদ্বোধন করা কথা ছিল। এজন্য তড়িঘড়ি করে ২০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে চিলাহাটি পর্যন্ত রেলপথের আধুনিকায়নও করা হয়। কিন্তু বন্দর তো নয়ই, আজও রেলপথটিও উদ্বোধন করা হয়নি।

এদিকে, স্থলবন্দর চালুর পাশাপাশি ঢাকা থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত চিলাহাটি হয়ে সরাসরি মৈত্রী ট্রেন চলাচলের বিষয়টিও গুরত্ব পায়। এছাড়া বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনের সংঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ এবং আর্থিক সচ্ছলতা ফিরবে মর্মে মোংলা বন্দর থেকে চিলাহাটি স্থলবন্দর পর্যন্ত পাকা সড়ক ও অত্যাধুনিক রেলপথ স্থাপনেরও কথা উঠে আসে। কিন্তু কোনো কিছুই আলোর মুখ দেখেনি।

এলাকাবাসী জানান, স্থলবন্দর চালু হলে জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়নে উল্লেখ্যযোগ্য অবদান রাখবে। এছাড়া রেলওয়ে কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্প কলকারখানায় দ্রুত বিকাশসহ হাজার হাজার বেকার কর্মহীন মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া এ চেক

পোস্ট চালু হলে বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারীর চেয়ে রাজস্ব আয়ও বৃদ্বি পাবে।

নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহম্মেদ জানান, ব্যবসাবান্ধব নীলফামারী জেলার মানুষজন রেল যোগাযোগের অভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। ঢাকা থেকে চিলাহাটি পর্যন্ত রেল যোগাযোগ না থাকায় সাধারণ মানুষ উন্নয়ন থেকে একেবারে বঞ্চিত। এ  স্থলবন্দরটি চালু হলে এলাকার মানুষের ভাগ্যের দুয়ার খুলে যাবে।

নীলফামারী চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি এসএম শফিকুল আলম ডাবলু জানান, চিলাহাটি স্থলবন্দরটির জন্য দির্ঘদিন থেকে আন্দলন সংগ্রাম করেও এর কোনো ফল পাওয়া যায়নি। এ উত্তরে অঞ্চলের অবস্থিত উত্তরা ইপিজেড কাচা মাল সরবারহসহ উন্নত মালামাল পরিবহনে ব্যর্থ হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন জানান, চিলাহাটি স্থলবন্দর চালুর সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত এ বন্দর চালু হবে।