দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আকৃষ্টে শীর্ষে বহুজাতিক কোম্পানি

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের শীর্ষে রয়েছে বহুজাতিক কোম্পানি। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে এসব কোম্পানি আরও একধাপ এগিয়ে। মূলত ঝুঁকি কম থাকার পাশাপাশি মোটা অঙ্কের লভ্যাংশের জন্য এসব কোম্পানিতে চোখ বিনিয়োগকারীদের।

বিষয়টি নিয়ে ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী বহুজাতিক কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করেন। পোর্টফোলিও পরিবর্তন করতে চাইলেও তাদের দেশি কোম্পানির শেয়ার বেশি বিক্রি করতে দেখা যায়। এর প্রধান কারণ, বহুজাতিক কোম্পানিতে তুলনামূলকভাবে পুঁজি নিরাপদে থাকে। অন্যদিকে এখান থেকে প্রতি বছর ভালো লভ্যাংশ পাওয়া যায়। এ কারণেই বিনিয়োগকারীরা এসব কোম্পানির সঙ্গে বেশি দিন থাকতে চান।

এ প্রসঙ্গে জয়তুন ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটিজ হাউসের কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, এমন কিছু পোর্টফোলিও দেখা যায় যেখানে বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ার বছরের পর বছর রয়ে গেছে। এর কারণ, লভ্যাংশ পেয়ে তারা ভালো লাভবান হতে পারেন। অন্যদিকে দীর্ঘদিন রাখলে এসব শেয়ারদরও বাড়তে থাকে। ফলে এসব কারণে বিনিয়োগকারীরা পোর্টফোলিওতে বহুজাতিকের শেয়ার বিক্রি করে অন্য শেয়ার অন্তর্ভুক্ত করতে চান না।

বাজারের তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পাগুলো সাধারণত নগদ লভ্যাংশ দিয়ে থাকে। সর্বশেষ বছরে এসব কোম্পানির উল্লেখযোগ্যহারে নগদ লভ্যাংশ প্রদান করতে দেখা যায়। এর মধ্যে রেকিট বেনকিজার ৭০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদান করেছে। আর ম্যারিকো বাংলাদেশে শেয়ারহোল্ডারদের দিয়েছে ৬৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ও গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন দেয় ৫৩০ শতাংশ লভ্যাংশ।

এছাড়া ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো ৪০০ শতাংশ, লিন্ডে বিডি ৩৭৫ শতাংশ, বাটা শু ৩৪৫ শতাংশ, বার্জার পেইন্টস ২৫০, গ্রামীণফোন ১৩০ শতাংশ, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট ৭৫ শতাংশসহ অন্যান্য কোম্পানি সন্তোষজনক লভ্যাংশ প্রদান করে।

এদিকে বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ারের চাহিদা থাকলেও প্রায় একযুগ হতে চলল; এ ধরনের কোনো কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি। ২০০৯ সালের পর এ জাতীয় কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হতে দেখা যায়নি। সেই সময় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় গ্রামীণফোন। এরপর পুঁজিবাজারে বহুজাতিক কোম্পানির সংখ্যা বাড়ানো হবেÑএমন গুঞ্জন শোনা গেলেও আর কোনো কোম্পানির আগমন ঘটেনি।

জানতে চাইলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যপক আবু আহমেদ বলেন, আমাদের দেশে ভালো শেয়ারের অভাব রয়েছে। যে কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্ত রয়েছে; এর মধ্যে আর্থিক বিবেচনায় বিনিয়োগযোগ্য কোম্পানির সংখ্যা কম। তাই ভালো শেয়ারের জোগান বাড়াতে হলে বহুজাতিক কোম্পানির পুঁজিবাজারে আসার বিকল্প নেই।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) উদ্যোগে পুঁজিবাজারে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বহুজাতিক মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি রবি আজিয়াটা। এই কোম্পানির তালিকাভুক্তির মাধ্যমে পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হবে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, রবির পুঁজিবাজারে আসা ভালো খবর। এমন বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তির মাধ্যমে পুঁজিবাজার আরও শক্তিশালী হবে। শুধু এ কোম্পানি নয়, এই ধরনের আরও কোম্পানি পুঁজিবাজারে নিয়ে আসা জরুরি। এতে বাজারের ভালো শেয়ারের জোগান বাড়বে। আর ভালো শেয়ার থাকলে বাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যাও বাড়বে।

সম্প্রতি রবি আজিয়াটার পুঁজিবাজারে আসার কথা ঘোষণা দিয়েছে মূল মালিক মালয়েশিয়ার কোম্পানি আজিয়াটা মালয়েশিয়া। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর রবি শুধু অভিহিত মূল্যে পুঁজিবাজারে আসতে চায়। এ কোম্পানিটি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে প্রতিটি শেয়ার ১০ টাকা মূল্যে ইস্যুর মাধ্যমে ৫২৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা সংগ্রহের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এতে সহযোগিতা বা ইস্যু ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করবে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..