বিশ্ব সংবাদ

দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়বে জ্বালানিতে স্থিতিশীল থাকবে অন্য পণ্যের দাম

শেয়ার বিজ ডেস্ক : করোনাভাইরাসের মহামারিতে বিশ্বব্যাপী পণ্যবাজারে প্রভাব পড়েছে। তবে বিভিন্ন মূল্যবান ধাতু ও কৃষিপণ্য এরই মধ্যে ক্ষতি পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ২০২১ সালেও এসব পণ্যের দাম স্বাভাবিকই থাকবে বলে প্রত্যাশা করছে বিশ্বব্যাংক। কিন্তু জ্বালানি পণ্যের দাম কিছুটা বাড়লেও ধাক্কা এখনও সামলে উঠতে পারেনি। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে ব্যাংকটি বলেছে, আগামী বছরও করোনার পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে জ্বালানির দাম কম থাকবে।   

বিশ্বব্যাংকের ‘কমোডিটি মার্কেট আউটলুক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার কারণে সৃষ্ট রোগ কভিড-১৯ সংক্রমণের শুরুর দিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম নাটকীয়ভাবে পড়ে যায়। এখন দাম কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তবে তা করোনার পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় বেশি নয়। একই সময় ধাতব পণ্যের দাম কমলেও তা বড় কোনো প্রভাব ফেলেনি। এরই মধ্যে এসব পণ্যের দাম করোনা শুরুর পূর্ববর্তী ধারায় ফিরে এসেছে। কৃষিপণ্যে তুলনামূলকভাবে এর কোনো প্রভাবই পরেনি। তবে বৈশ্বিক মন্দার বিস্তৃত প্রভাবের আশঙ্কায় বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে খাদ্য অনিশ্চয়তার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইক্যুইটাবল গ্রোথ, ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনিস্টিটিউশনের ভারপ্রাপ্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট আয়হান কোসি বলেন, পণ্যবাজারে কঠিড-১৯-এর প্রভাব অসম ছিল। জ্বালানির বাজারে এর প্রভাব স্থায়ী হতে পারে।

২০২১ সালে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি গড়ে ৪৪ ডলারের আশেপাশে থাকতে পারে, ২০২০ সালের প্রাক্কলিত ৪১ ডলারের চেয়ে যা সামান্য বেশি। করোনার প্রভাব কাটিয়ে কিছু দেশে স্বাস্থ্য উদ্বেগ কিছুটা কমে পর্যটন খাত চালু হচ্ছে। আগামী বছর বৈশ্বিক অর্থনীতি ধাক্কা সামলে মহামারি পূর্ববর্তী অবস্থানে পৌঁছাতে পারে বলে বিভিন্ন পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে। সরবরাহ ব্যবস্থাও আগামী বছর পুরোদমে শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লাসহ সার্বিকভাবে জ্বালানির দাম আগামী বছর এবারের বড় পতনের তুলনায় স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে এ পূর্বাভাস নির্ভর করবে আগামী পরিস্থিতির ওপর। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে ফের লকডাউন শুরু হয়েছে। ভোক্তা ব্যয় কমছে। ভ্যাকসিন উন্নয়ন ও সরবরাহে দেরি হলে পণ্যের দাম স্থিতিশীল নাও থাকতে পারে।

এদিকে ধাতব পণ্যের দাম ২০২১ সালে পরিমিত হারে বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। চীনে কৃষিপণ্যে করোনা-পরবর্তী প্রণোদনা ও বিশ্ব অর্থনীতির ধাক্কা সামলেও পুনরুদ্ধারে যাওয়ার আশায় এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমতে থাকলে এ পূর্বাভাসের চেয়ে দাম কমও হতে পারে।

চলতি বছর ভোজ্য তেলের উৎপাদন কিছুটা কমে যাওযায় সার্বিকভাবে ২০২০ সালে কৃষিপণ্যের দাম তিন শতাংশ কমবে বলে পূর্বাভাস ছিল। নতুন এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের কৃষিপণ্যের দাম বাড়বে। তবে কিছু উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশে খাদ্য অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত থাকবে।  এর পেছনে করোনার কারণে বিভিন্ন দেশের সীমান্তে কড়াকড়ি, নিয়ন্ত্রিত শ্রমবাজার, বৈশ্বিক মন্দা, স্থানীয় বাজারে খাদ্যের ঘাটতি প্রভৃতি বিষয় কাজ করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।  

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..