প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

দুই দেশের প্রধান একমত মুক্তবাণিজ্য চুক্তি হবে এ বছরই

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক : সফররত শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা শিরিসেনার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক হয়েছে। এ সময় দুদেশের মধ্যে একটি চুক্তি ও ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। প্রতিবেশী দ্বীপ দেশটির রাষ্ট্রপ্রধানের তিন দিনব্যাপী সফরের দ্বিতীয় দিনে গতকাল শুক্রবার এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়। চলতি বছরেই দুদেশের মধ্যে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সই হবে বলেও দুদেশের শীর্ষ নেতারা একমত হয়েছেন।

শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে সিরিসেনার সঙ্গে এ বৈঠক হয়। এর আগে শিরিসেনাকে কার্যালয়ের টাইগার গেটে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী। দুনেতার একান্ত বৈঠকের পরই দুদেশের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চামেলি হলে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন। শেষে করবীতে দুই নেতার উপস্থিতিতে দুদেশের মধ্যে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলো সই হয়।

পরে এ সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। পররাষ্ট্রসচিব জানান, বৈঠকের একপর্যায়ে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট এ সফরকে একটি ঐতিহাসিক সফর হিসেবে বর্ণনা করেন। শিরিসেনার এ সফরে দুদেশের ব্যবসা, বাণিজ্য, বিনিয়োগই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, এ বছরই দুদেশের মধ্যে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ সই করার বিষয়ে দুনেতা একমত হয়েছেন। এটি বাস্তবায়ন হলে তা হবে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো দেশের এ ধরনের প্রথম চুক্তি। এটা একটা অসম্ভব ব্রেক থ্রু। কারণ বাংলাদেশের সঙ্গে কারো এফটিএ নেই। একে দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটা বড় রাজনৈতিক অগ্রগতি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পররাষ্ট্র সচিব আরও জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার এখন আট কোটি ডলারের মতো বাণিজ্য রয়েছে। এফটিএ হলে তা বৃদ্ধি পাবে। এজন্য ২০১৩ থেকে এ নিয়ে আলোচনা হয়ে আসছে। এ চুক্তি হলে দুদেশের বাণিজ্যে এখন যেসব শুল্ক ও অশুল্ক বাধা রয়েছে, তা অপসারণ হবে। এতে দুদেশই লাভবান হবে।

এতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য সুবিধা সম্পর্কে সচিব বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য এখন এক ধরনের রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেক দেশকেই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর কিছুটা নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। বাংলাদেশ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে এফটিএ আলোচনা করছে। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে চুক্তি হলে তা ওই আলোচনাগুলো এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

এদিকে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের সফরকে কেন্দ্র করে দুদেশের সম্পর্কের সার্বিক অগ্রগতির বিষয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দেওয়া হবে বলে সচিব জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শনিবারের মধ্যে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হবে। ৩৫ প্যারার এ যৌথ বিবৃতি নিয়ে দুদেশের মধ্যে সমঝোতাও হয়ে গেছে। এটিই প্রথম বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার একটি যৌথ বিবৃতি আসছে।

পররাষ্ট্র সচিব এবারের সই হওয়া ১৪টি চুক্তি ও সমঝোতা এবং প্রকাশিতব্য যৌথ বিবৃতিকে দুদেশের সম্পর্কের একটি কাঠামো (ফ্রেমওয়ার্ক) বলে উল্লেখ করে বলেন, আগে সম্পর্কগুলো ভাসা ভাসা ছিল। হয়তো কোনো সময় কিছু একটা বাস্তবায়ন হয়েছে, অনেক দিন পর আমরা ভুলে যেতাম কী হয়েছে। এবার ১৪টা ইন্সট্র–মেন্ট ও জয়েন্ট স্টেটমেন্টের মধ্য দিয়ে দুদেশের সম্পর্কের একটা কাঠামো হলো। এ যৌথ ঘোষণায় দুদেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার অঙ্গীকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক সম্পর্কের রূপরেখাও আরও স্পষ্ট হবে।

এদিকে দুই শীর্ষনেতার বৈঠকের পর দুদেশের কূটনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের ভিসাবিহীন যাতায়াতে একটি চুক্তি এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, শিক্ষা ও তথ্য বিনিময়সহ বিভিন্ন বিষয়ে ১৩টি সমঝোতা স্মারকে সই হয়। এসব সমঝোতা স্মারকের মধ্যে সাতটিই ব্যবসা ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে। কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের ভিসাবিহীন চলাচল বিষয়ক চুক্তিতে সই করেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবী করুনানায়েকে।

এর আগে তিন দিনের সফরে গত বৃহস্পতিবার বার শ্রীলঙ্কার  প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা শিরিসেনা ঢাকায় পৌঁছলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান। আজ দুপুরে তিনি নিজ দেশে ফিরে যাবেন। এ সফরে ৭৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শিরিসেনার সঙ্গে রয়েছে। ঢাকা ছাড়ার আগে শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ বাণিজ্য সংলাপেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।