দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

দুই মাসে চিনির দাম মণে বেড়েছে ২০০ টাকা

আয়নাল হোসেন: রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে চিনির দাম মণপ্রতি ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বাড়ায় দেশের বাজারে প্রভাব পড়েছে। তবে মিল থেকে বেশি দামে চিনি কিনে বিপাকে পড়েছেন পরিবেশকরা। তারা মিলগেটের চেয়ে কম দামে চিনি বিক্রি করছেন। এতে তাদের লোকসান হচ্ছে বলে পরিবেশকরা জানিয়েছেন।

পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারের পাইকারি চিনি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দুই মাস আগে পরিবেশক পর্যায়ে প্রতিমণ (৩৭ কেজি ৩২০ গ্রাম) চিনির দাম ছিল এক হাজার ৯৬০ টাকা। এ হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়ে ৫২ টাকা ৫২ পয়সা। গতকাল তা বিক্রি হয়েছে দুই হাজার ১৬০ টাকায়। এ হিসেবে প্রতিকেজির দাম পড়ে ৫৭ টাকা ৮৮ পয়সা। এই সময়ের ব্যবধানে মণপ্রতি দাম বেড়েছে ২০০ টাকা এবং কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা ৩৬ পয়সা।

বাংলাদেশ পাইকারি চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ভুট্টো বলেন, গত দুই মাসের ব্যবধানে পরিবেশক পর্যায়ে চিনির দাম মণপ্রতি ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে বর্তমানে বাজারে চিনির চাহিদা কম রয়েছে। অনেকে নগদ টাকার প্রয়োজনে মিলগেটের চেয়েও কমে চিনি বিক্রি করছেন। তিনি আরও জানান, শীতকালে বাজারে চিনির চাহিদা কমে যায়। বিশেষ করে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে চিনির চাহিদা কম থাকে। তবে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চাহিদা বেশি থাকে। ফলে বাজারে দামও কিছুটা বেশি থাকে।

মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক হাজি আবুল হাসেম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় দেশেও বাড়ে। এ কারণে মিলে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হয়েছিল ৫৯ থেকে ৬০ টাকায়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কিছুটা কমায় পরিবেশক পর্যায়ে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৫৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৫৮ টাকায়। এতে তাদের বাজারে পরিবেশকদের বিপুল অঙ্কের টাকা লোকসান হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে গতকাল প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হয়েছে ৬২ থেকে ৬৫ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। আর এক বছর আগে একই দিনে চিনির দাম ছিল ৫৬ থেকে ৬০ টাকা। এ সময়ের ব্যবধানে কেজিপ্রতি চিনির দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ।     

আন্তর্জাতিক নিউজ পোর্টাল ইনডেক্স মুন্ডি ডটকম সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল ২৩ সেন্ট, মে মাসে বেড়ে হয় ২৪ সেন্ট, জুন ও জুলাই মাসে ২৭ সেন্ট, আগস্ট মাসে ২৯ সেন্ট, সেপ্টেম্বর মাসে ২৮ সেন্ট ও অক্টোবর মাসে ৩০ সেন্ট। এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৬ সেন্ট।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে দৈনিক মোট চিনির চাহিদা রয়েছে পাঁচ হাজার টন, যা সিটি গ্রুপ একাই পরিশোধন করতে সক্ষম। এরপর মেঘনা গ্রুপও দৈনিক পাঁচ হাজার টন চিনি পরিশোধন করতে পারে। যদিও এই দুটি প্রতিষ্ঠান দৈনিক অর্ধেক চিনি পরিশোধন করছে। এছাড়া ঈগলু সুগার, এস আলম ও দেশবন্ধু দৈনিক এক হাজার টন চিনি পরিশোধন করতে পারে। বাজারে চিনির মূল্য কম বা বেশি হওয়া মূলত এই পাঁচ পরিশোধনকারীর মর্জির ওপর নির্ভর করে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের বেসরকারি পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো যেসব চিনি বিক্রি করছে তা মূলত ‘র’ সুগার হিসেবে বিদেশ থেকে আমদানি করে পরিশোধন করছে। আর দেশীয় মিলগুলো আখ থেকে চিনি তৈরি করছে। এই চিনি স্বাদ ও গন্ধে অনেক ভালো এবং মিষ্টিও অনেক বেশি। বাজারে প্রচলিত চিনি দেড় কেজিতে যে পরিমাণ মিষ্টি হয়, দেশীয় মিলের চিনি এক কেজিতে সমপরিমাণ মিষ্টি হয়। যদিও অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারের নীতিমালার অভাবে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে দেশীয় মিলগুলো। বছরের পর বছর লোকসান গুনছে মিলগুলো। তবে সরকার পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে চালু করলে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে দেশীয় চিনির মিলগুলো।   

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..