প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

দুই শতাধিক কোম্পানির লভ্যাংশে নজর বিনিয়োগকারীদের

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মিউচুয়াল ফান্ড এবং বহুজাতিক কোম্পানি বাদে জুন ক্লোজিং হওয়া দুই শতাধিক কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা আসছে। এরই মধ্যে কিছু কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। আর লভ্যাংশ ঘোষণার সময়ে কৌশল পরিবর্তন করেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।
এতদিন যারা শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে বের হতে চেয়েছিলেন, তারা অপেক্ষা করছেন লভ্যাংশের। যে কারণে এসব কোম্পানির শেয়ারের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে বিনিয়োগকারীদের। এর জের ধরে সম্প্রতি এসব শেয়ারের দর কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
গতকাল মতিঝিলের কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউজে গিয়ে দেখা যায়, জুন ক্লোজিংয়ে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারে বিক্রেতার চেয়ে ক্রেতার সংখ্যা বেশি ছিল। যার জেরে এ ধরনের কোম্পানির শেয়ারদর বেশি বেড়েছে।
হাউজ কর্মকর্তারা বলেন, হঠাৎ করেই বিনিয়োগকারীরা তাদের কৌশল পরিবর্তন করেছেন। যারা এতদিন শেয়ার সেল করে বাজার থেকে বের হতে চাইতেন, তারা এখন লভ্যাংশের জন্য অপেক্ষা করছেন।
দুই শতাধিক কোম্পানির অর্থবছর শেষ হয়েছে ৩০ জুন ২০১৯। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস ১৯৮৭-এর ১২(৩এ) এবং ১৩নং ধারায় বলা হয়েছে, বছর শেষ হওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে এবং ১৪ দিনের মধ্যে তা উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ ও কমিশনে জমা দিতে হবে। সে হিসেবে বার্ষিক প্রতিবেদনের সঙ্গে সঙ্গে আসবে লভ্যাংশ ঘোষণা।
এই সময়ের মধ্যে কোনো কোম্পানি আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হলে ওই কোম্পানির শাস্তির বিধান রয়েছে। এই ব্যর্থতার জন্য বেশিরভাগ সময়ই আর্থিক জরিমানা গুনতে হয় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে। একইভাবে আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরও যদি ওই প্রতিবেদনে কোনো গরমিল পাওয়া যায়, সে ক্ষেত্রেও কোম্পানিকে শাস্তি ভোগ করতে হয়।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, এখন আর্থিক প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে বেশিরভাগ কোম্পানিতে। হাতে সময় থাকায় তেমন তডিঘড়ি নেই তাদের মধ্যে। তবে আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর একজন পরিচালক বলেন, বেশিরভাগ কোম্পানিই আর্থিক হিসাব তৈরির সময় ফাঁকি (গরমিল রাখে) দেয়। বেশিরভাগ সময় তারা মুনাফা কম দেখিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের ঠকায়। সে কারণে সবার আগে তাদের এই মনোভাব পরিহার করতে হবে। তাহলেই কেবল শেয়ারহোল্ডাররা উপকৃত হবেন।
এদিকে লভ্যাংশ ঘোষণা নিয়ে কথা বললে পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টরা বলেন, এ বছর জুন ক্লোজিং কোম্পানির দিকে বাড়তি নজর রয়েছে। এর কারণ তালিকাভুক্ত এসব কোম্পানির মধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর অনেক কম। এমন দরে শেয়ার কিনতে পারলে লভ্যাংশ নিয়ে লাভবান হওয়ার সুযোগ বেশি থাকে। অন্যদিকে যারা বেশি দরে শেয়ার কিনে লোকসানে রয়েছেন, তাদেরও লোকসান পোষানোর সুযোগ হবে।
এ প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার ডিবিএ’র সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, সব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিনিয়োগকারীরা ভালো রিটার্ন আশা
করে, সেটা যে কোনো খাতের কোম্পানি হতে পারে। কোম্পানিগুলো যদি শেয়ারহোল্ডারদের প্রত্যাশার প্রতিফল দেখাতে পারে, তাহলে এসব কোম্পানির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়বে।
এদিকে এসব প্রতিষ্ঠান বোনাস লভ্যাংশ দেওয়ার চেয়ে নগদ লভ্যাংশ বেশি দিলে শেয়ারহোল্ডাররা বেশি লাভবান হবেন বলে মনে করেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। এতে এসব শেয়ারের চাহিদা আরও বাড়বে বলে মনে করেন তারা।
অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বলেন, আমরা এমনিতেই লোকসানে রয়েছি, তাই কোম্পানিগুলোর কাছে প্রত্যাশা থাকবে তারা যেন লভ্যাংশ ঘোষণার সময় আমাদের কথা মাথায় রাখেন। ভালো লভ্যাংশ পেলে কিছুটা হলেও লোকসান কমবে।
এ প্রসঙ্গে কথা হয় রাশেদুল ইসলাম নামে এক বিনিয়োগকারীর সঙ্গে। তিনি শেয়ার বিজকে বলেন, আমার কাছে যে শেয়ার রয়েছে তার বেশিরভাগই বস্ত্র খাতের কোম্পানির শেয়ার। এর বেশিরভাগ শেয়ারই অনেক আগে কেনা। বিক্রি করে বের হব তার কোনো উপায় নেই। অন্যদিকে কয়েক বছর ধরে এ খাতে যে পরিমাণ লভ্যাংশ আসছে, তা খুবই সামান্য। অনেকেই
ক্যাটেগরি টিকিয়ে রাখার জন্য দুই
থেকে পাঁচ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। আমি মনে করি এগুলো কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে করছে। আশা করছি এ বছর কোম্পানিগুলো সেটা করবে না।
প্রসঙ্গত, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও ফান্ডগুলোর আর্থিক বছর দুভাবে হিসাব করা হয়। তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বিমা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মিউচুয়াল ফান্ডের আর্থিক বছর শেষ হয় ডিসেম্বরে। তালিকাভুক্ত অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক বছর শেষ হয় জুন মাসে,
যে কারণে বছরের এই দুই সময় কোম্পানি ও ফান্ডগুলোর প্রতি আলাদাভাবে নজর থাকে বিনিয়োগকারীদের। কারণ যারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করতে ভালোবাসেন, সেইসব বিনিয়োগকারী লভ্যাংশপ্রাপ্তির মধ্যে দিয়ে লাভবান হতে চান।

সর্বশেষ..