দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

দুই সপ্তাহে চার কোম্পানির আইপিও আবেদন বাতিল

কোম্পানির অনুমোদনে শক্ত অবস্থানে বিএসইসি

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: দুর্বল কোম্পানির তালিকাভুক্তি অনুমোদন দেওয়ার ফলে পুঁজিবাজার তলানিতে চলে গেছে! এমন অভিযোগ নিয়েই বিএসইসি থেকে বিদায় নিয়েছে পূর্বের কমিশন। অভিযোগ ছিল তাদের আমলে যেসব কোম্পানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তার বেশিরভাগই ছিল দুর্বল। অভিযোগ ছিল যাচাই-বাছাই না করেই এসব কোম্পানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তাই বর্তমান কমিশন এই বিষয়টিতে খুবই সতর্ক। নতুন কোম্পানির আইপিও অনুমোদনের বেলায় শক্ত অবস্থানে রয়েছে বর্তমান কমিশন।

সম্প্রতি দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে চারটি প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আবেদন বাতিল করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। যদিও এর মধ্যে দুটি কোম্পানির আবারও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। সর্বশেষ বাতিল হয়েছে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়াধীন বিডি পেইন্টসের আইপিও আবেদন।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার আইপিও বাতিল হওয়ার বিষয়টি বিডি পেইন্টস এবং তাদের ইস্যু ম্যানেজার ইবিএল ইনভেস্টমেন্ট, সিএপিএম অ্যাডভাইজরি ও মাইডাস ইনভেস্টমেন্টকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, বিডি পেইন্টসের আর্থিক প্রতিবেদনে অবচয় খরচ কমিয়ে মুনাফা বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। একইসঙ্গে পণ্য বিক্রি নিয়েও মিথ্যা তথ্য দিয়েছে কোম্পানিটি। পাশাপাশি কোম্পানিটির প্রকৃত সম্পদ অতিমূল্যায়িত করে দেখানো হয়েছে। আর কোম্পানিটির ৩ জন উদ্যোক্তার কনসেন্ট লেটারের শর্ত (লকইন শেয়ার বিক্রি) লঙ্ঘন করেছে, যা চোখে পড়েছে বিএসইসির।

এদিকে বিডি পেইন্টসের আইপিও আবেদন অনুমোদন যোগ্য নয় বলে যৌথভাবে মতামত জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) কর্তৃপক্ষ। গত ৩০ জুলাই বিএসইসিতে এ মতামত জমা দেয় ডিএসই ও সিএসই। ফলে ডিএসই-সিএসই’র মতামত ও সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিডি পেইন্টসের আইপিও আবেদন বাতিল করা হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে। কোম্পানিটিতে নিরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করে ফেমস অ্যান্ড আর চার্টার্ড অ্যাকাউট্যান্ট।

বিডি পেইন্টস আইপিওতে ১০ টাকা ইস্যু মূল্যে ২ কোটি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করার জন্য বিএসইসিতে আবেদন করেছিল। উত্তোলন করা অর্থ দিয়ে কোম্পানিটি যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম, নির্মাণ কাজ এবং আইপিওর খরচ বাবদ ব্যয় করার কথা ছিল।

একইভাবে গত ২৯ জুলাই বাতিল করা হয় বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে আসতে ইচ্ছুক জেএমআই হসপিটালের আইপিও আবেদন। এই কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনেও অনিয়ম পাওয়া গেছে। কোম্পানিটি একই মালিকের অন্য কোম্পানিকে ১০৯ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে, যা ফেরত নিলে এই কোম্পানির পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের প্রয়োজন পড়ে না। এছাড়া কোম্পানির বিষয়ে আরও কিছু অসঙ্গতি পাওয়া যায়। ফলে কোম্পানিটির আইপিও বাতিল করে বিএসইসি। একই কারণে এর আগে বস্ত্র খাতের আর দুই কোম্পানির আইপিও বাতিল করে বিএসইসি। কোম্পানি দুটি হচ্ছে বেকা গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইল এবং এসএফ টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজ।

আর্থিক প্রতিবেদনে অসঙ্গতি পাওয়ায় এই দুই কোম্পানির আইপিও বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সম্প্রতি নেওয়া এই সিদ্ধান্ত কোম্পানি দুটি ও তাদের ইস্যু ম্যানেজারকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এই কোম্পানি দুটির আইপিওতে আসার পথ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। তারা তাদের প্রতিবেদন সংশোধন করে বিএসইসিতে নতুনভাবে আবেদন করতে পারবে।

জানা গেছে, এই কোম্পানি দুটির আইপিও আবেদনের সঙ্গে জমা দেওয়া নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বেশ কিছু অসঙ্গতি পেয়েছে বিএসইসি। যে কারণে তারা আইপিও আবেদন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিষয়টি জানতে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসইসির একজন দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আমার নতুন দায়িত্ব নিয়েছে। এর আগেই অনেকগুলো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসার জন্য আবেদন করেছে। আমরা প্রতিটি কোম্পানির বিষয়ে খুঁটে খুঁটে দেখার চেষ্টা করছি। কোনো কোম্পানির অনিয়ম পেলে আমরা সেই কোম্পানিকে আমরা পুঁজিবাজারে আসার অনুমতি দেব না। তবে যেসব কোম্পানির কোনো সমস্যা থাকবে না, সেসব কোম্পানিকে দ্রুত পুঁজিবাজারে আসার অনুমতি দেওয়া হবে।’

এদিকে বিএসইসির এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, এটা বিএসইসির বিনিয়োগবান্ধব সিদ্ধান্ত।

এ প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ শেয়ার বিজকে বলেন, ‘বিএসইসির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানো উচিত। অনেক কোম্পানি আছে তারা মিথ্যে তথ্য দিয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। পরে এর মাশুল দিতে হয় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। বিএসইসির এই ধরনের সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করবে। আমি মনে করি, খুব ভালো সিদ্ধান্ত এটা।’

বেকা গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেডের ইস্যু ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিল শাহজালাল ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট এবং বিডি ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল হোল্ডিংস লিমিটেড।

অন্যদিকে এসএফ টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছে এনবিএল ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট এবং সন্ধানী লাইফ ফিন্যান্স লিমিটেড।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..