বিশ্ব বাণিজ্য

দুই হাজার ধনীর হাতে ৪৬০ কোটি দরিদ্রের চেয়েও বেশি সম্পদ

অক্সফামের প্রতিবেদন

শেয়ার বিজ ডেস্ক: দরিদ্রতম ৪৬০ কোটি লোকের মোট অর্থের চেয়েও বেশি অর্থ বিশ্বের শীর্ষ দুই হাজার ১৫৩ ধনীর নিয়ন্ত্রণে। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা অক্সফামের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতাদের বার্ষিক বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম সম্মেলনের আগে গতকাল সোমবার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি। খবর: রয়টার্স।

প্রতিবেদনমতে, মজুরিহীন ও কম মজুরি পাওয়া নারীদের শ্রম প্রতিবছর বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রযুক্তি শিল্পগুলোর চেয়ে তিনগুণ বেশি মূল্য সংযোজন করছে। বিশ্বব্যাপী নারীরা বিনা বেতনে বা স্বীকৃতি ছাড়াই প্রতিদিন মোট এক হাজার ২৫০ কোটি ঘণ্টা কাজ করছে। ‘টাইম টু কেয়ার’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে অক্সফাম জানায়, তাদের হিসাবে নারীদের মজুরিহীন সেবাকাজ প্রতি বছর বিশ্ব অর্থনীতিতে অন্তত ১০ লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলার মূল্য যোগ করছে। এটি প্রযুক্তি শিল্পের যোগ করা মূলের তিনগুণেরও বেশি।

অক্সফাম ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী অমিতাভ বেহার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমাদের আজকের এ অর্থনীতিতে নারীদের মজুরিহীন সেবাই প্রধান ইঞ্জিন, আমাদের এখানে নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এটির পরিবর্তন হওয়া দরকার।’ বিশ্ব অর্থনীতির অসাম্যের মাত্রা দৃষ্টিগোচর করার জন্য বুচু দেবী নামে ভারতীয় এক নারীর জীবন তুলে ধরেন অমিতাভ।

তিনি জানান, বুচু দেবী প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৭ ঘণ্টা কাজ করেন। তিনি হেঁটে তিন কিলোমিটার দূর গিয়ে সেখান থেকে পানি নিয়ে আসেন। তারপর রান্না করেন, ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করেন এবং নি¤œমজুরির একটি কাজ করেন। অপরদিকে আপনি দেখেন, দাভোসে জমায়েত হওয়া বিলিয়নেয়াররা তাদের ব্যক্তিগত বিমান, ব্যক্তিগত জেট ও বিলাসবহুল জীবনধারা নিয়ে আছেন। তিনি বলেন, ‘এ বুচু দেবী শুধু একজনই নন। ভারতে প্রায় প্রতিদিন এ ধরনের নারীদের সঙ্গে আমার দেখা হয়, আর পুরো বিশ্বজুড়েই একই গল্প। আমাদের এটি পরিবর্তন করা দরকার, আর নিশ্চিতভাবে এ বিলিয়নেয়ারদের বাড়বাড়ন্তেরও ইতি ঘটানো দরকার।’

এর প্রতিকারের জন্য ধনীদের কর দেওয়ার বিষয়টি সরকারগুলোর নিশ্চিত করা উচিত বলে মনে করেন বেহার। ওই করের টাকা পরিষ্কার পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নতমানের স্কুলের মতো সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের দিকে তাকিয়ে দেখুন, ৩০টিরও বেশি দেশে প্রতিবাদ হচ্ছে। লোকজন রাস্তায় নেমে এসেছে। কী বলছে তারা? তারা এ বৈষম্যকে মেনে নেবে না, তারা এ ধরনের পরিস্থিতিতে আর জীবনযাপন করতে চায় না।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..