প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

দুদকের ১২ সমন্বিত জেলা কার্যালয় উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক : দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আরও ১২টি সমন্বিত জেলা কার্যালয় (সজেকা) যুক্ত হয়েছে। গতকাল রোববার কার্যালয়গুলো উদ্বোধন করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জ কার্যালয় উদ্বোধন করেন দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ। সেখানে এ উপলক্ষে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক আক্তার হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন গোপালগঞ্জ পুলিশ সুপার আয়েশা সিদ্দিকা ও দুদক পরিচালক মীর জয়নুল আবেদন শিবলী। সভাপতির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাশেদুর রহমান। গোপালগঞ্জ কার্যালয়ের উপপরিচালক হয়েছেন সিফাত উদ্দিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফরিদপুরের উপপরিচালক রেজাউল করিম।
পিরোজপুর (পিরোজপুর ও ঝালকাঠি) কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মোজাম্মেল হক খান। অতিথি ছিলেন পরিচালক (রাজশাহী) শেখ মো. ফানাফিল্যা। কার্যালয়টির উপপরিচালক হয়েছেন শেখ গোলাম মাওলা। জামালপুর (জামালপুর ও শেরপুর) কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন কমিশনার (তদন্ত) জহুরুল হক। সেখানে উপপরিচালক হয়েছেন মলয় কুমার সাহা। কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন দুদক সচিব মাহবুব হোসেন। সেখানে উপপরিচালক হয়েছেন সালাহউদ্দিন। চাঁদপুর (চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর) কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন মহাপরিচালক (মানিলন্ডারিং) মাহমুদুল হোসাইন খান। সেখানে উপপরিচালক হয়েছেন জালাল উদ্দিন আহম্মদ। কুড়িগ্রাম (কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট) কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন মহাপরিচালক (তদন্ত – ১) রেজানুর রহমান। অতিথি ছিলেন পরিচালক (রংপুর) সফিকুর রহমান ভূইয়া। কার্যালয়টির উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম। নারায়ণগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ) ও গাজীপুর (গাজীপুর ও নরসিংদী) কার্যালয় দুটির উদ্বোধন করেন মহাপরিচালক (তদন্ত – ২) জাকির হোসেন। অতিথি ছিলেন পরিচালক আবদুল্লাহ্-আল-জাহিদ। নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের উপপরিচালক মঈনুল হাসান রওশনী। গাজীপুর কার্যালয়ের উপপরিচালক মোজাহার আলী সরদার। ঠাকুরগাঁও (ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) সাঈদ মাহবুব খান। সেখানে উপপরিচালক হয়েছেন এস এম রাশেদুর রেজা। নওগাঁ (নওগাঁ ও জয়পুরহাট) কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন মহাপরিচালক (প্রশাসন) জিয়াউদ্দীন আহমেদ। অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক কামরুল আহসান। কার্যালয়টির উপপরিচালক হয়েছেন মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান। বাগেরহাট (বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা) ও ঝিনাইদহ (ঝিনাইদহ, মাগুরা ও চুয়াডাঙ্গা) কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন মহাপরিচালক (আইসিটি ও প্রশিক্ষণ) এ কে এম সোহেল। বাগেরহাট কার্যালয়ের উপপরিচালক শাহরিয়ার জামিল। ঝিনাইদহ (ঝিনাইদহ, মাগুরা ও চুয়াডাঙ্গা) কার্যালয়ের উপপরিচালক জাহিদ কালাম।
পিরোজপুরের দুদক কার্যালয় উদ্বোধনকালে কমিশনার মোজাম্মেল হক খান বলেন, ঘুষ ও দুর্নীতির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যিনি নিজেকে মুক্ত রাখেন তিনি সত্যিকারের বাহবা পাওয়ার যোগ্য। সমাজে একটা ধারণা আছে যে কেবল চাকরিজীবীই দুর্নীতিবাজ। কিন্তু প্রকৃত অর্থে দুর্নীতি আরও বিস্তৃত হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন পেশাজীবীরাও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। ব্যবসায়ী দুর্নীতি করে। মেয়াদহীন ওষুধ বিক্রি, সরকারি কেনাকাটায়, চাকরিতে নিয়োগে, সরকারি পরিষেবা দেওয়ায় এখন দুর্নীতি হয়। এমনকি টাকার বিনিময়ে মানুষ মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, মিথ্যা মামলা দেওয়া এগুলো সবই দুর্নীতি। অদৃশ্য ও টেকনিক্যাল দুর্নীতিগুলো তৃতীয় চোখ দিয়ে দেখতে হয়। সেগুলো হয় অত্যন্ত প্রভাবশালী। যা সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারেন না।
মোজাম্মেল হক খান বলেন, আমরা সত্যের সন্ধানে চলেছি। কাউকে মামলার নামে হয়রানি নয়, প্রকৃত অর্থে দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে বিচারের সামনাসামনি করাই দুদকের দায়িত্ব। দুদকের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ন্যায় বিচারের স্বার্থে অধিকতর পরীক্ষা ও বাস্তবতার প্রয়োজনেই অনেক সময় দীর্ঘসূত্রিতা হয়ে থাকে।
জামালপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কমিশনার মো. জহুরুল হক বলেন, দুর্নীতি দমনে শেরপুর ও জামালপুরের মানুষের কষ্ট লাঘব হবে অনেকাংশে। আপনারা নির্ভুল ও নিরপেক্ষ তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন বলে আমি আশা করি।
কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, কেবল আইন করে দুর্নীতি বন্ধ করা যাবে না। দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে সারা দেশের জনগণসহ তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। যারা নিয়ম-কানুন না মেনে দুর্নীতি-অনিয়ম করেছে, অবৈধভাবে অর্থসম্পদের মালিক হচ্ছে তাদের জন্য বার্তা হচ্ছে, দুর্নীতি দমন কমিশন তৎপর রয়েছে।
দুদক জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে, এছাড়া গত ১ জানুয়ারি থেকে কক্সবাজারে (কক্সবাজার ও বান্দরবন জেলা) ও ৩০ মার্চ থেকে মাদারীপুরে (মাদারীপুর ও শরীয়তপুর) চালু হয়েছে দুদকের নতুন দুটি কার্যালয়। এতে মোট ৩৬ জেলায় জেলা ও সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে দুদক তার কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এর ফলে দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদকের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। ইতোমধ্যে ১১৩ জন নতুন সহকারী পরিচালক ও ১৩৭ উপসহকারী পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তা দুদকে যোগদান করেছেন। তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান। এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের নতুন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ফলে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল নিয়ে দুদক পূর্ণোদ্যমে কাজ চালিয়ে যাবে। দুদকের অফিস থাকায় জেলাগুলোয় অনিয়ম-দুর্নীতি দমন কার্যক্রম আরো জোরদার হবে।