প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

দুবছরেও শেষ হয়নি ইফাদ অটোসের সম্প্রসারণ প্রকল্প

শরিফুল ইসলাম পলাশ ও নাজমুল ইসলাম ফারুকঃ পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের দুবছরেও ব্যবসা সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারেনি প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ‘ইফাদ অটোস লিমিটেড’। গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ওই প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা কোম্পানিটির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রসপেক্টাসে উল্লেখ করা হয়েছিল।

এদিকে আগামী ফেব্রুয়ারির আগে প্রকল্পটি চালু করা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অন্যদিকে ব্যবসা সম্প্রসারণ না হওয়ায় কোম্পানির আয় কমছে। অন্যদিকে সর্বশেষ প্রান্তিকে আয় কমলেও শেয়ারদর গত এক মাস ধরে ক্রমেই বাড়ছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ইফাদ অটোস ২০১৪ সালে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন পায়। ওই বছরই প্রতিটি ২০ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৩০ টাকা ইস্যুমূল্যে দুই কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ৬৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা উত্তোলন করে কোম্পানিটি। উত্তোলিত অর্থ ব্যয়ে পরবর্তী এক বছরের মধ্যে ইফাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের কথা ছিল।

দুবছরেও প্রকল্প চালু না হওয়া নিয়ে ইফাদ অটোসের চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ টিপুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি অসুস্থ থাকায় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। প্রতিষ্ঠানটির অ্যাসিস্ট্যান্ট কোম্পানি সচিব নাফিজ বলেন, ‘প্রকল্পটির যতটুকু কাজ শেষ হয়েছে, তার মধ্যেই যন্ত্রপাতি স্থাপন করে উৎপাদন শুরু করা হবে। আগামী জানুয়ারির মধ্যেই যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে। আমাদের প্রজেক্ট আগামী ফেব্রুয়ারিতে চালু হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সে হিসেবেই প্রকল্পের কার্যক্রম চলছে।’

আইপিও প্রসপেকটাসের তথ্যানুযায়ী, সম্প্রসারণ প্রকল্পের ভূমি উন্নয়নে ১০ কোটি ৫২ লাখ টাকা, সীমানা প্রাচীর নির্মাণে দুই কোটি ৮০ লাখ টাকা, বডি ফেব্রিকেশন ইউনিটের দালান ও অবকাঠামো নির্মাণে ১০ কোটি টাকা, বডি ফেব্রিকেশন ও অ্যাসেম্বিলিং ইউনিটের মেশিন এবং যন্ত্রাংশ কিনতে আট কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয় করার কথা। এছাড়া ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ৯ কোটি ৩২ লাখ ও আইপিওর পেছনে তিন কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয় করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, আইপিও ও ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি অর্থ ব্যয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ  প্রকল্প এখনও শেষ হয়নি।

সরেজমিনে ইফাদের ধামরাই প্রকল্প ঘুরে জানা গেছে, অবকাঠামোগত উন্নয়নের একটি অংশের কাজ শেষ হয়েছে। এখনও বেশকিছু অবকাঠামোয় উন্নয়ন কাজ চলছে। কিছু অংশে মাটি ভরাট করা হচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়ন কাজে ধীরগতির কারণেই প্রকল্পটি চালু হয়নি। তবে চলতি বছরের মধ্যেই অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ শেষে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানি করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। এদিকে কোম্পানিটির সর্বশেষ ২০১৫-১৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত বার্ষিক প্রতিবেদনেও চলতি বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সম্প্রসারণ প্রকল্পে ধীরগতির কারণে প্রকল্পে তিনটি খাতে ব্যয় প্রায় ৯ কোটি টাকা বেড়েছে। যে কারণে আইপিওর অর্থ ব্যয়ে কিছুটা হেরফের করেছে কোম্পানিটির। আইপিও প্রসপেক্টাসে সম্প্রসারণ প্রকল্পের ভূমি উন্নয়নে ১০ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয় করার কথা বলা হয়েছিল, যা প্রায় চার কোটি টাকা বেড়ে সর্বশেষ ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সীমানা প্রাচীর নির্মাণে দুই কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ের ঘোষণার বিপরীতে ব্যয় প্রায় এক কোটি টাকা বেড়েছে। একইভাবে বডি ফেব্রিকেশন ইউনিটের দালান ও অবকাঠামো নির্মাণে ১০ কোটি টাকার স্থলে ব্যয় করছে ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তিন খাতে ব্যয় প্রায় ৯ কোটি টাকা বাড়ার কারণে ৬বডি ফেব্রিকেশন ও অ্যাসেম্বিলিং ইউনিটের মেশিন এবং যন্ত্রাংশ কিনতে ব্যয় কমাচ্ছে ইফাদ অটোজ। এ খাতে আট কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়র কথা ছিল, যা কমিয়ে পাঁচ কোটিতে আনা হয়েছে। তবে সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনে কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকেই বাড়তি অর্থের জোগান দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কোম্পানির দায়িত্বশীলরা।

উল্লেখ্য, পরিবারতান্ত্রিক ওই কোম্পানির মোট শেয়ারের ৬২ দশমিক ৭৭ শতাংশই তিন উদ্যোক্তা পরিচালকের হাতে রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে ১৯ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

 

 

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..