প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

দুবাইয়ে বিশ্বের প্রথম মেটাভার্স কাস্টমার সার্ভিস সেন্টারের যাত্র

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বিশ্বের অন্য সব শহরকে ছাড়িয়ে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেল সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাজ্য দুবাই। শহরটি বিশ্বে প্রথম মেটাভার্স কাস্টমার সার্ভিস সেন্টার চালু করেছে। ভার্চুয়ালি স্বাস্থ্যসেবা দিতে এই মেটাভার্স সেন্টার চালু করেছে শহরটির কর্তৃপক্ষ। খবর: খালিজ টাইমস।

ইউএইর মিনিস্ট্রি অব হেলথ অ্যান্ড প্রিভেনশন (এমওএইচএপি) এই মেটাভার্স চালু করেছে। স্বাস্থ্যসেবা নিতে আগ্রহীরা সরাসরি উপস্থিত না থেকে নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থানে বসে স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সব ধরনের অনুসন্ধান ও সেবা নিতে পারবেন।

প্রযুক্তির নানা দিক মিশছে এ মেটাভার্সে। এখানে ভার্চুয়াল দুনিয়ায় সদস্যরা ‘বাস করবেন’। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, অগুমেন্টেড রিয়েলিটি ও ভিডিওÑসবই থাকবে একসঙ্গে। যারা মেটাভার্সে থাকবেন, তারা তাদের বন্ধুদের সঙ্গে সারা দুনিয়াজুড়ে ভার্চুয়াল ট্যুরে যেতে পারবেন, কনসার্টে যেতে পারবেন, যোগাযোগ রাখতে পারবেন এবং আরও নানা অনুষ্ঠানে একসঙ্গে ভার্চুয়ালি যোগাযোগ রাখতে পারবেন। ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ জানিয়েছিলেন, মেটাভার্সের সব সুবিধা পুরোপুরি পেতে অন্তত পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে, কারণ প্রযুক্তিবিশ্বের মূলধারায় মেটাভার্স আসতে এই সময়টা লাগবে। অথচ এর আগেই নিজেদের জনগণের দোরগোড়ার মেটাভার্সকে হাজির করল দুবাইয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

প্রযুক্তি দুনিয়ার ঝড় তোলা মেটাভার্সকে আরব হেলথ অ্যান্ড মেডল্যাব মিডল ইস্ট এক্সিবিশন অ্যান্ড কংগেস ২০২২-এ বিশ্ববাসীর কাছে উšে§াচন করে দুবাইয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর নাম দেয়া হয়েছে মেটাভার্স কাস্টমার হ্যাপিনেস সার্ভিস সেন্টার। এখানকার ভোক্তার চাহিদা পূরণে থ্রিডির মাধ্যমে ডিজিটাল সেবা দেয়া হবে।

এর আগে গত মাসে বিশ্বে প্রথম শতভাগ কাগজবিহীন শহরে পরিণত হয় দুবাই। তখন ক্রাউন প্রিন্স ও দুবাইয়ের শাসক শেখ হামদান এক ঘোষণায় এ তথ্য জানান। তিনি আরও জানান, এতে দুবাইয়ে সঞ্চয়ের পরিমাণ বেড়েছে। এতে প্রায় ৩৫ কোটি মার্কিন ডলার ও এক কোটি ৪০ লাখ ঘণ্টা সঞ্চয় করতে পেরেছে দুবাই। তখন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুবাইয়ের অভ্যন্তরীণ, বৈদেশিক লেনদেন শতভাগ ডিজিটাল হয়েছে। একক সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে এই লেনদেন পরিচালনা করা হয় বলেও জানানো হয়েছে।

দুবাই বিশ্বের সামনে নিজেকে ডিজিটাল রোল মডেল হিসেবে তুলে ধরতে চায়। এজন্য কর্তৃপক্ষ নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। কাগজবিহীন শহরের পর মেটাভার্সে প্রবেশ তারই অংশ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টর আলী আল-আজমি খালিজ টাইমসকে বলেন, উন্নতির সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে দুবাই। এ মান ধরে রাখার চেষ্টা চলছে, যাতে নাগরিকদের জীবনযাত্রা আরও সহজ করা যায়।

তিনি বলেন, ‘শিগগির আমাদের মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ভোক্তারা নিজস্ব আইডি দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন এবং মেটাভার্স বাছাই করতে পারবেন, যা তাদের থ্রিডি দুনিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পথ দেখাবে এবং তারা কাস্টমার হ্যাপিনেস সেন্টারে যেতে পারবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘কাস্টমার হ্যাপিনেস এক্সিকিউটিভ ভার্চুয়ালি ভোক্তাকে সহায়তা করবেন। আমাদের দেশকে ডিজিটাল করার একটি জাতীয় প্রচেষ্টার অংশ এ উদ্যোগ। এর মধ্য দিয়ে সরাসরি হ্যাপিনেস সেন্টারে যাওয়ার পরিমাণ কমে আসবে।’ বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ সহজে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কিংবা ডেস্কটপ ব্যবহার করে মেটাভার্সে প্রবেশ করতে পারবেন এবং নিজেদের অবতার বা চরিত্র তৈরি করতে পারবেন বলে জানান তিনি। এই চরিত্রই তার প্রতিনিধিত্ব করবে। এটি ঘুরেফিরে বেড়াতে পারবে এবং অন্যান্য চরিত্রের সঙ্গে নানা কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবে।

১৯৯২ সালে কল্পবিজ্ঞান লেখক নীল স্টিফেনসন প্রথম ‘মেটাভার্স’ শব্দটি ব্যবহার করেন তার ‘স্নো ক্রাশ’ উপন্যাসে। এখানে তিনি কল্পনা করেছিলেন প্রায় মানুষের মতোই বিভিন্ন অবতাররা থ্রিডিতে দেখা করছেন। এখনকার মেটাভার্স আদপে তেমনই একটি ভার্চুয়াল দুনিয়া। এই প্রযুক্তির ফলে অনলাইনের ভার্চুয়াল জগৎকে মনে হবে সত্যিকারের বাস্তব পৃথিবী।