দুর্ঘটনা এড়াতে পদচারী সেতু ব্যবহারের বিকল্প নেই

পাঠকের চিঠি

একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা একটি মহামারির নাম। আর এই মহামারির ছোবলে পড়ছে প্রতিনিয়ত হাজারো নিষ্পাপ প্রাণ। প্রতিদিনই টেলিভিশন ও খবরের কাগজের পাতা উল্টালেই দেখা যায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও নিহত হওয়ার খবর, আর সেইসঙ্গে স্বজন হারানোর আর্তনাদ। সড়ক দুর্ঘটনা প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে শিশু, ছাত্র, যুবক, বৃদ্ধ থেকে শুরু করে সব স্তরের মানুষের। আমরা প্রতিনিয়ত জীবন ও জীবিকার টানে ছুটে চলছি। এই ছুটে চলার কোনো অবকাশ নেই। আর এই ছুটে চলা জীবনে ভয়াবহ এক আতঙ্কের নাম সড়ক দুর্ঘটনা। সড়ক দুর্ঘটনার জন্য অন্যতম একটি প্রধান কারণ হচ্ছে পথচারীদের অসচেতনা ও অসাবধানতা। ঢাকা শহরে যে পরিমাণ সড়ক দুর্ঘটনা হয় তার ৪৭ শতাংশ দুর্ঘটনা হয় পথচারীর অসাবধানতার জন্য। এক গবেষণায় জানা যায়, রাজধানীর ১২৮টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পথচারীদের জন্য রয়েছে ৮৭টি পদচারী সেতু। এছাড়া রয়েছে আন্ডারপাস। মোট ৯০টি আন্ডারপাস ও ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে। কিন্তু পথচারীরা তাদের ব্যস্ততার জন্য, অনীহার জন্য ব্যবহার করছে না এসব আন্ডারপাস ও ফুটওভার ব্রিজ। আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, নিউমার্কেট এলাকায় নিয়ম ভেঙে প্রতি এক মিনিটে ১০ থেকে ১৫ পথচারী যাতায়াত করছে, কিন্তু মাথার ওপরেই রয়েছে ফুটওভার ব্রিজ। সময় বাঁচাতে আর অনীহার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছে পথচারীরা। পথচারীদের বদলে ফুটওভার ব্রিজে দৌরাত্ম্য চলছে হকার ও মাদক ব্যবসায়ীদের। রাতে আবার অনেকের মাঝে কাজ করে ছিনতাইয়ের ভয়, কারণ কোনো কোনো ওভার ব্রিজে নেই পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। এসব কারণে পথচারীদের মাঝে অনীহা বেড়েই চলেছে। আর সেইসঙ্গে দুর্ঘটনা। অনাকাক্সিক্ষত এসব দুর্ঘটনা চাইলেই আমরা প্রতিরোধ করতে পারি। তাই দরকার জনসচেতনতা, সেইসঙ্গে আইনের সঠিক প্রয়োগ। যেসব ওভারব্রিজ ব্যবহারের অনুপযোগী তা সঠিকভাবে সংস্কার করতে হবে। পথচারীদের ফুটওভার ব্রিজে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।

খন্দকার নাঈমা আক্তার নুন

শিক্ষার্থী, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়


সর্বশেষ..