সম্পাদকীয়

দুর্নীতিবাজরা কোনোভাবেই যেন প্রশ্রয় না পায়

সাধারণ মানুষের ধারণা, দুর্নীতি রোধ করা গেলে দেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে থাকত। অবস্থা অনেকটা অসহনীয় পর্যায়ে চলে যাওয়ায় সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্যসহনশীলতায় (জিরো টলারেন্স)। শুরু হয়েছে শুদ্ধি অভিযান।

চলমান শুদ্ধি অভিযানে সাধারণ মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে, দুর্নীতিবাজদের অনেকে আত্মগোপনে রয়েছে। এই যখন অবস্থা তখন শেয়ার বিজে গতকাল প্রকাশিত ‘বড়পুকুরিয়া কয়লা দুর্নীতি: এখনও বহাল তবিয়তে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা’ নিশ্চয়ই ভালো দৃষ্টান্ত নয়।  

বড়পুকুরিয়ার কয়লা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয় বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে। এর সরবরাহ না থাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি একসময় বন্ধ হয়ে যায়। এর পর উদ্ঘটিত হয় কয়লা চুরির ঘটনা। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু রাখতে সরকার কয়লা আমদানি করে। ওই সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ না হলে কয়লা চুরির ঘটনা প্রকাশ পেত না। হয়তো বিভিন্ন দুষ্টুচক্র বিষয়টি ধামাচাপা দিত। এখন আর সেই সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

শেয়ার বিজের প্রতিবেদনে বলা হয়, এখনও বহাল তবিয়তে স্বপদে থেকে চাকরি করছেন কয়লা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত ২০ কর্মকর্তা। তাদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

কয়লায় ময়লা থাকেই। তাই বলা হয়, ‘কয়লা ধুলেও ময়লা যায় না’। কয়লা চুরিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা বহাল তবিয়তে থাকলে এই চিরায়ত প্রবচনের মতো নতুন প্রবচন হবে ‘দুর্নীতিবাজরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থাকে’। এটি কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারি কর্মচারীসহ অপরাধী যে-ই হোক, দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে অনুসন্ধানপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন অভিযুক্তরা বহাল তবিয়তে থাকলে তা হবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিপরীত।  

আমরা জানি না, অভিযুক্তদের রক্ষায় সরকারের কোনো পক্ষ সক্রিয় কি না। সরকার গঠিত তদন্ত কমিটি তো বলেই দিয়েছে বড়পুকুরিয়া থেকে কয়লা চুরি হয়নি, সিস্টেম লসের কারণে ঘাটতি হয়েছে। অবশ্য সে সময় ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা বলেছেন, সরকারের এক প্রতিষ্ঠান আরেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত করলে তাতে পক্ষপাতিত্বের সুযোগ থাকে।

কয়লা চুরির তদন্ত চলাকালে হজ পালনের জন্য ৪২ দিনের ছুটি দেওয়া হয় প্রধান অভিযুক্তকে। অভিযোগ থাকা মানেই দোষী নয়। কিন্তু অভিযুক্তদের বহাল তবিয়তে রেখে সুষ্ঠু তদন্তও সম্ভব নয়। দুর্নীতি নির্মূল করতে হলে কোনোভাবেই অভিযুক্তদের প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। আইন প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বশীল, নিষ্ঠাবান কর্মচারীদের সুরক্ষা দিক, কিন্তু কোনোভাবেই যেন দুর্নীতিবাজরা প্রশ্রয় না পায়। শূন্যসহনশীলতাই কেবল দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..