প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

  দুর্নীতির মামলা আটকাতে খালেদার আবেদন বাতিল

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার সাক্ষ্যগ্রহণে শপথ আইন ‘না মানার’ কারণ দেখিয়ে ফের ৩২ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রিভিশন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে যে কোনো মামলায় সাক্ষ্য নেওয়ার ক্ষেত্রে শপথ আইন যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতে আইনসচিব ও রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দেন আদালত।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল। দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে শুনানি করেন খুরশীদ আলম খান। পরে বদরুদ্দোজা সাংবাদিকদের জানান, সাক্ষ্যগ্রহণের সময় ‘গড’-এর নামে শপথ করতে হয়। বেগম জিয়ার ৩২ সাক্ষীর ক্ষেত্রে এটা করা হয়নি। তবে আবেদন খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে তারা আপিল বিভাগে যাবেন বলে জানান এ আইনজীবী।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ২০০৯ সালে সুপ্রিমকোর্ট সাক্ষ্য নেওয়ার বিষয়ে যে সার্কুলার জারি করেছিলেন সেটা নিশ্চিত করতে আইনসচিব ও রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ মামলার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে এবং ফের সাক্ষ?্য নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আবেদনটি হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চে বাতিল হওয়ার পর ৬ ডিসেম্বর রিভিশন আবেদন করা হয়। এ মামলায় ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের আদালতে বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের অসমাপ্ত বক্তব্য উপস্থাপনের কথা ছিল কিন্তু হাইকোর্টে মামলার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকার কথা জানিয়ে তার আইনজীবীরা ফের শুনানি পেছানোর আবেদন করলে খালেদার বাকি বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য ২৬ জানুয়ারি নতুন তারিখ ঠিক করে দেন আদালত।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগের এ মামলার বিচার চলছে বকশীবাজারে ঢাকার তৃতীয় জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে। ২০১০ সালে দায়ের হওয়া এ মামলার কার্যক্রম আটকাতে এর আগেও বেশ কয়েক দফায় হাইকোর্টে আবেদন করে বিফল হন বিএনপি চেয়ারপারসন। মামলায় মোট ৩২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। আসামি হিসেবে আত্মপক্ষ সমর্থনে গত বছরের ১ ডিসেম্বর আদালতে নিজের বক্তবে?্যর একাংশ তুলে ধরেন খালেদা জিয়া। পরবর্তী তারিখে ফের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

খালেদা জিয়াসহ অভিযুক্ত অপর আসামিরা হলেন খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। এদের মধে?্য জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন। হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

 

খালেদার আত্মপক্ষ সমর্থন ২৬ জানুয়ারি

খালেদা জিয়ার সময়ের আবেদনে জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তার আত্মপক্ষ সমর্থনের অসমাপ্ত বক্তব?্য উপস্থাপন ফের পিছিয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদার এ মামলায় খালেদার বাকি বক্তব?্য উপস্থাপনের জন?্য ২৬ জানুয়ারি নতুন তারিখ ঠিক করে দিয়েছেন। এছাড়া জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার ৩২তম ও শেষ সাক্ষী হিসেবে মামলাটির প্রথম অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদকের তখনকার সহকারী পরিচালক নূর উদ্দিন আহমেদকে জেরা করছে আসামিপক্ষ।

পুরান ঢাকার বকশীবাজারে ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে এ দুই মামলার বিচারকাজ চলছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে খালেদা আদালতে পৌঁছানোর পর প্রথমে দাতব্য ট্রাস্ট মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে গত ১ ডিসেম্বর আদালতে উপস্থিত হয়ে জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন শুরু করেন খালেদা। ওই ট্রাস্টের তিন কোটি ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের এ মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে সুবিচার চান তিনি।

এরপর মামলার কার্যক্রম স্থগিতের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। শপথ আইন ‘না মানার’ কারণ দেখিয়ে ৩২ জনের সাক্ষ্য নতুন করে নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয় ওই আবেদনে। শুনানি শেষে বিচারক খালেদার অসমাপ্ত বক্তব?্য উপস্থাপনের জন?্য ২৬ জানুয়ারি নতুন দিন ঠিক করে দেন।