প্রচ্ছদ শেষ পাতা

‘দুর্নীতি না হলে জিডিপি আরও দুই শতাংশ বাড়ত’

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ‘দুর্নীতি না হলে আমাদের জিডিপি আরও দুই শতাংশ বাড়ত, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দ্রুত প্রবৃদ্ধি বিশ্বের প্রথম সারিতে অবস্থান করে নিত।’ গতকাল দুপুরে ‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল ও বার্ষিক কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা: প্রেক্ষিত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান।
দিনব্যাপী এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি বলেন, শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমাদের রূপকল্প ২০২১ এবং উন্নত দেশ রূপায়ণে ২০৪১ সালের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, সরকার বেতন-ভাতা দ্বিগুণের বেশি বাড়িয়েছে। তারপরও দুর্নীতি বন্ধ হচ্ছে না কেন? আসলে এটা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। চাকরিজীবী অনেকের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আছে, সামর্থ্য আছে, প্রয়োজন নেই তারপরও বিনা প্রয়োজনে দুর্নীতি করছেন। এটা একটা রোগে পরিণত হয়েছে। দুর্নীতি আমাদের কুরে কুরে খাচ্ছে। এটি থেকে উত্তরণে নীতি-নৈতিকতা চর্চা, শুদ্ধাচার বাস্তবায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক, সামাজিক ও ব্যক্তিপর্যায়ে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন। সরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানসহ সব ক্ষেত্রে সঠিকভাবে, সঠিক সময়ে ও সঠিক পদ্ধতিতে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করতে পারলেই আমাদের দুর্নীতি বহুলাংশে কমানো সম্ভব। সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন দেশে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে শুদ্ধাচারের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তা বাস্তবায়নে চেষ্টা করছে।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এনএম জিয়াউল আলম। এছাড়া অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ। কর্মশালার উদ্বোধনী পর্বে ইউজিসির পরিচালক ড. ফখরুল ইসলামও বক্তব্য রাখেন।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস। কর্মশালার শুরুতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এনএম জিয়াউল আলম ঘণ্টাব্যাপী পাওয়ার পয়েন্টে শুদ্ধাচার নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন।
তিনি উপস্থাপনায় শুদ্ধাচার কী ও তার প্রয়োজনীয়তা, বর্তমান সরকারের উদ্যোগ, বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপ, কলাকৌশল, আইন, বিধিবিধান, অভীষ্ট লক্ষ্য ও বিশ্ব প্রেক্ষিত তুলে ধরেন। পরে অন্যান্য রিসোর্স পারসনের মধ্যে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা ও বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ কামরুল হাসান, ইউজিসির পরিচালক ড. ফখরুল ইসলাম, ইউজিসির ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট কমিউনিকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং ডিভিশনের অতিরিক্ত পরিচালক মাকসুদুর রহমান ভূঁইয়া, ক্যাবিনেট ডিভিশনের সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি আরএইচএম আলাওল কবীর, ইউজিসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম প্রমুখ। কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধানসহ শতাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা অংশ নেন।

সর্বশেষ..