মার্কেটওয়াচ

দুর্বল কোম্পানিকে কেন বেশি মূল্যে আসার সুযোগ দেওয়া হলো?

অর্থনীতিতে জিডিপির গ্রোথ বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু বাজার সেভাবে এগোচ্ছে না। কোনোভাবেই এ হিসাব মেলানো যায় না। আসলে বাজারে সূক্ষ্ম একটি গবেষণা দরকার। গত ১০ বছরে যে কোম্পানিগুলো বাজারে এসেছে বেশিরভাগ স্বল্পমূলধনি। এসব কোম্পানি কয়েক হাজার কোটি টাকা বাজার থেকে তুলে নিয়েছে। এ টাকা তো বিনিয়োগকারীর। ওইসব কোম্পানিকে যে ফেসভ্যালুতে বাজারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, এখন সেসব কোম্পানির বেশিরভাগ শেয়ারদর ফেসভ্যালুর নিচে রয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীরা লোকসান গুনছেন। একদিকে বাজারে তারল্য সংকট অন্যদিকে বিনিয়োগকারীর আস্থার সংকট। কথা হচ্ছে কেন এসব কোম্পানিকে বেশি মূল্যে বাজারে আসার সুযোগ করে দেওয়া হলো? গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়।
হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দি ডেইলি স্টারের বিজনেস এডিটর সাজ্জাদুর রহমান এবং লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের হেড অব বিজনেস এসএম নাসির উদ্দিন।
সাজ্জাদুর রহমান বলেন, সরকার ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট থেকে এ পর্যন্ত বাজারসংশ্লিষ্ট অনেক ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। পুঁজিবাজার থেকে করমুক্ত আয় ২৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এটা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ভালো উদ্যোগ। আবার ব্যাংকগুলোর কাছে নন-লিস্টেড অনেক কোম্পানির বিনিয়োগ রয়েছে। পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট কাটাতে বিএসইসির পক্ষ থেকে ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপোজার গণনায় নন-লিস্টেড ফান্ড বা কোম্পানির বিনিয়োগ এক্সপোজারের বাইরে রাখার দাবি জানানো হয়। এটি শিথিল হলে বিনিয়োগ সীমা বাড়বে। এ প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপোজার শিথিল করেছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও বড় একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যাংকগুলো তারল্য সংকট কাটাতে এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ছয় শতাংশ হারে রেপো সুদে ধার নিতে পারবে। আসলে এ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে পুঁজিবাজারকে গতিশীল করার জন্য এবং কীভাবে বাজারকে আরও ভালো করা যায়। দেশের অর্থনীতিতে জিডিপি গ্রোথ বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু বাজার সেভাবে এগোচ্ছে না। কোনোভাবেই এ হিসাব মেলানো যাচ্ছে না। আসলে বাজারের সূক্ষ্ম একটি গবেষণা দরকার। গত ১০ বছরে যে কোম্পানিগুলো বাজারে এসেছে বেশিরভাগ স্বল্পমূলধনি। এসব কোম্পানি কয়েক হাজার কোটি টাকা বাজার থেকে তুলে নিয়েছে। এ টাকা তো বিনিয়োগকারীর। ওইসব কোম্পানিকে যে ফেসভ্যালুতে বাজারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এখন বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর ফেসভ্যালুর নিচে রয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীরা লোকসান গুনছেন। একদিকে বাজারে তারল্য সংকট অন্যদিকে বিনিয়োগকারীর আস্থা সংকট। কথা হচ্ছে কেন তাদের ওভারপ্রাইজে বাজারে আসার সুযোগ করে দেওয়া হলো। এখন বাজারে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। অর্থনীতির সঙ্গে তুলনা করলে এখন বাজারে টার্নওভার হওয়ার কথা ন্যূনতম তিন হাজার থেকে চার হাজার কোটি টাকা। এতে বোঝা যাচ্ছে বাজার থেকে বিভিন্নভাবে টাকা চলে যাচ্ছে। এ জন্য বিএসইসি, ডিএসই এবং মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো দায় এড়াতে পারে না।
এসএম নাসির উদ্দিন বলেন, জিডিপি গ্রোথ ও অর্থনীতির উন্নয়ন এগিয়ে যাচ্ছে এবং নতুন নতুন অনেক অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে। সে হিসেবে চিন্তা করলে পুঁজিবাজারে সেভাবে উন্নয়ন হচ্ছে না। গত ১০ বছরে বাজারে অনেক পণ্যের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে কিন্তু বিনিয়োগকারীর চাহিদা বাড়াতে পারেনি। চাহিদা বাড়াতে হলে বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়াতে হবে এবং ভালো কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এছাড়া বাজারে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..