প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

দুর্বল শেয়ারের দর বৃদ্ধি বাজার ক্ষতিগ্রস্ত করবে

রুবাইয়াত রিক্তা: অবশেষে গতকাল বুধবার পুঁজিবাজার ইতিবাচক প্রবণতায় ফিরেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৫২ শতাংশ শেয়ারের দর বাড়ার পাশাপাশি লেনদেন বেড়েছে ৪৭ কোটি টাকা। সূচক বেড়েছে সাড়ে ৩৩ পয়েন্ট। বাজার ঘুরে দাঁড়ানোয় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। গত কয়েক দিনের বাজারের গতি তাদের দ্বিধান্বিত করেছিল। বাজারের আরও পতন হবে কি না এ আতঙ্কে তারা লেনদেন বন্ধ করে বাজার পর্যবেক্ষণ করেন। তবে গতকাল স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর দর সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। দুর্বল অনেক কোম্পানির শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায় লেনদেন হয়। দু-তিনটি কোম্পানির শেয়ারে বিক্রেতা না থাকায় হল্টেড হয়েছে। ১৫০ কোটি টাকা মূলধনের তুং হাই নিটিংয়ের দর বেড়েছে ১০ শতাংশ। মাত্র ৫০ কোটি টাকা মূলধনের ‘জেড’ ক্যাটাগরির জিলবাংলা, ৮০ কোটি টাকার মিথুন নিটিং, ৫০ কোটি টাকার মুন্নু সিরামিক এবং ২০ কোটি টাকা মূলধনের আনোয়ার গ্যালভানাইজিংসহ আরও বেশ কিছু স্বল্প মূলধনি কোম্পানির দর প্রায় ১০ শতাংশ হারে বেড়েছে। এসব দুর্বল কোম্পানির দর বাড়িয়ে বাজার স্থিতিশীল করা যাবে না। বরং এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর।

[visualizer id=”54262″]

গতকাল বস্ত্র ও প্রকৌশল খাত সবচেয়ে ইতিবাচক ছিল। বস্ত্র খাতে ৭৭, ব্যাংক খাতে ৭৩ এবং প্রকৌশল খাতে ৬৪ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। টেলিযোগাযোগ ও পাট খাতের দর শতভাগ ইতিবাচক ছিল। বিমা, বিবিধ ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতও ভালো অবস্থানে ছিল। ব্যাংক খাতের শেয়ারদর বাড়লেও লেনদেন কমেছে। গতকাল এ খাতে লেনদেন হয় প্রায় ১৪৩ কোটি টাকা। যা মোট লেনদেনের ২৬ শতাংশ। এ খাতে আগের দিনের তুলনায় লেনদেন কমেছে প্রায় দুই কোটি টাকা। প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় সাড়ে ৯৮ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ১৮ শতাংশ। এ খাতে লেনদেন বেড়েছে ৩৬ কোটি টাকা। আর্থিক খাতে লেনদেন হয় ৭১ কোটি টাকা বা ১২ শতাংশ। এ খাতে লেনদেন কমেছে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা। বস্ত্র খাতে লেনদেন হয় ১১ শতাংশ বা ৬০ কোটি টাকা। এ খাতে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। গতকাল গ্রামীণফোনের দর পাঁচ টাকা ৪০ পয়সা বেড়েছে। বর্তমানে এ শেয়ারটি সর্বোচ্চ দরে অবস্থান করছে। সূচক ইতিবাচক রাখতে বড় ভ‚মিকা রেখেছে গ্রামীণফোন, বিএটিবিসি, ইসলামী ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও ইফাদ অটোসের দর বৃদ্ধি। লেনদেনের নেতৃত্বে ছিল বিবিএস কেবল্স্, ইফাদ অটোস, লংকাবাংলা ফিন্যান্স, ব্র্যাক ব্যাংক, আমরা নেট, এনবিএল, উত্তরা ব্যাংক, জিপি, রংপুর ফাউন্ড্রি ও আইডিএলসি।