আজকের পত্রিকা

দুর্যোগকালে প্রতিবন্ধীদের সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ অনেক আইন প্রণয়ন করেছে এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। যেমনÑ‘শিশু নীতি, ২০১১’, ‘শিশু আইন, ২০১৩’ এবং ‘প্রতিবন্ধীর অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩’।

বাংলাদেশ ২০০৭ সালে প্রতিবন্ধীদের অধিকার বিষয়ে জাতিসংঘ সনদ (সিআরপিডি) এবং ২০০৮ সালে ঐচ্ছিক প্রোটোকলে স্বাক্ষরকারী প্রথম দেশগুলোর অন্যতম। সিআরপিডি রাষ্ট্রের প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরসহ সব নাগরিকের মানবাধিকারের পূর্ণ ও সমান অধিকার ভোগ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

সনদটি বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী শিশুদের অবস্থার পর্যালোচনা এবং সমাজে তাদের অন্তর্ভুক্তির জন্য পদক্ষেপের ভিত্তি স্থাপন করে।

প্রতিবন্ধী শিশুদের সমান অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ইউনিসেফ বিশ্বাস করে যে, প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেরা অন্তর্ভুক্তিমূলক হলেই কেবল প্রতিবন্ধীদের নিয়ে তাদের কার্যক্রম সফল হবে।

প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করতে ২০১৩ সালে ইউনিসেফের অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতামূলক সম্পর্কের কৌশলগত কাঠামোটি প্রণয়ন করা হয়। এছাড়া সংস্থাটি প্রতিবন্ধী শিশুর বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য জাতীয় অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠায় একটি নির্দেশিকা তৈরি করেছে।

ইউনিসেফ মূলধারার পন্থাগুলোকে সমর্থন করে এবং কর্মসূচিগুলো জীবনচক্রের আলোকে লিঙ্গ, বয়স ও শিশুদের প্রতি সংবেদনশীলতা নিশ্চিত করে।

মানবিক পরিস্থিতিতে প্রতিবন্ধী শিশু ও তাদের পরিবারগুলো স্বভাবত বিপর্যয়ের মুখে থাকে। মানবিক কার্যক্রমে শিশুদের জন্য ইউনিসেফের মূল প্রতিশ্রুতি হলো অবস্থা নির্বিশেষে সব শিশুর মানবিক সহযোগিতা প্রদানের সাংগঠনিক অঙ্গীকারের রূপরেখা প্রণয়ন করা।

২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) সামনে রেখে ইউনিসেফ ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে বেশি অনগ্রসর প্রতিবন্ধী শিশুদের উন্নয়ন, অংশগ্রহণ ও সুরক্ষাকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে।

প্রাপ্ত উপাত্ত অনুসারে, ইউনিসেফ বাংলাদেশ সারা দেশে প্রতিবন্ধী শিশু ও কিশোরদের সমাজে অন্তর্ভুক্তি ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণে সময়মতো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রচার করছে।

প্রতিবন্ধী শিশুদের সমাজে সত্যিকার অন্তর্ভুক্তির জন্য ভুল ধারণা ও পক্ষপাতমূলক আচরণ বন্ধে খাতভিত্তিক কার্যক্রমের অধীনে সহায়ক আচরণ ও সামাজিক পরিবর্তনের কৌশল তৈরিতে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও দাতা সংস্থার সঙ্গে ইউনিসেফ দেশে প্রতিবন্ধিত্ব-সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ সংগ্রহে কাজ করবে। দেশে প্রতিবন্ধী ও তাদের পরিবারের সক্ষমতা বাড়াতে সার্বিক জীবনচক্রভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইউনিসেফ অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা নেবে।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..