মীর আনিস ও নুরুন্নাহার চৌধুরী কলি : প্রশাসনে পদোন্নতি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার শেষ সময়ে এক ঘৃণ্য রাজনীতি করেছে। এ রাজনীতির বলি হয়েছেন শতাধিক যোগ্য ও মেধাবী যুগ্ম সচিব। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশ সচিবালয়ে দুষ্টু কয়েকজন আমলার নেতৃত্বে ২০তম ব্যাচের অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতির ক্ষেত্রে এক ষড়যন্ত্র হয়। আর এখানে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী মেধাবী কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করে ৮৫ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে অন্তর্বর্তী সরকারের এ সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করেছে প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নেওয়ার আগে তড়িঘড়ি করে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তবে পদোন্নতির নিয়মনীতি লঙ্ঘন ও পক্ষপাতিত্ব করে বিষয়টিকে বিতর্কিত করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া সংখ্যালঘু কর্মকর্তাদের একচেটিয়াভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সমর্থক আমলাদের যোগ্যতা না থাকলেও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সচিবালয়ে চলছে তীব্র অসন্তোষ। তারা পুরো প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছেন।
অভিযোগ রয়েছে- পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে ব্যাচের মেধা তালিকায় প্রথম, দ্বিতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, অষ্টম, নবম, দশম বঞ্চিত হয়েছেন। মেধা তালিকার প্রথম ৫০ জনের মধ্যে পদোন্নতি পেয়েছেন মাত্র ১৫ জন। এদিকে পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তারা পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আমলনামাও প্রকাশ করেছেন। আর এ নিয়ে তোলপাড় সচিবালয়।
জানা গেছে, ২০তম বিসিএস (প্রশাসন) ব্যাচের কর্মকর্তাদের সম্প্রতি অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে আলোচনা ও কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
সরকারি সূত্রে জানা যায়, এই ব্যাচের মোট ২৫৯ জন কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র ৮৫ জন পদোন্নতি পেয়েছেন, যা প্রায় ৩২.৮ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে এটি আগের ব্যাচগুলোর সঙ্গে কম যেমন ১৩তম, ১৫তম, ১৭তম এবং ১৮তম ব্যাচে পদোন্নতির হার ছিল প্রায় ৭৫ শতাংশ বা তার বেশি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রশাসনিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতার সঙ্গে এ পদোন্নতি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় ভিন্নধর্মী বিবেচনার উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। গত সরকারের আমলে ২০তম ব্যাচের উপসচিব-যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তাদের কিছুদিন আগেই ধারণাগত জ্যেষ্ঠতাসহ প্রথমে উপসচিব এবং পরে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে সমপর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে। কিন্তু ২০তম ব্যাচে গত ২৭ জানুয়ারি অতিরিক্ত সচিব পদে ২৫৯ জনের মধ্যে মাত্র ৮৫ জনকে অতীতের মতো জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। অতীতে বড় ব্যাচের কর্মকর্তাদের ভেঙে ভেঙে দু-তিনবারে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ২০তম ব্যাচের অতিরিক্ত সচিব পদে যোগ্য, মেধাবী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের টপকে শেষ ব্যক্তিকেও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। মাঝখানে বিপুলসংখ্যক মেধাবী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের অজ্ঞাত কারণে পদোন্নতি বঞ্চিত করায় নতুন বৈষম্য তৈরি হয়েছে।
প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা, চাকরিজীবনের পারফরম্যান্স এবং বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে কিছু কর্মকর্তা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মেধা তালিকার শীর্ষস্থানীয় কিছু কর্মকর্তা পদোন্নতি না পাওয়ায়।
প্রশাসনের ভেতরে আলোচনার একটি বিষয় গোয়েন্দা সংস্থার ভেটিং প্রক্রিয়া। পদোন্নতির আগে নিরাপত্তা ও পেশাগত মূল্যায়ন সমন্বিত এই ধাপটি কার্যকর হলেও অনেক কর্মকর্তা মনে করছেন, প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মানদণ্ড আরও স্পষ্ট হলে বিতর্ক কমানো যাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ২০তম বিসিএস ব্যাচকে ঘিরে একটি সুপরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ব্যাচের অযোগ্য কর্মকর্তারা যখন ২৫ বছর চাকরিপূর্তির মুখে অনিশ্চয়তা ও পদোন্নতি নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন, তখন একটি স্বার্থবাদী পক্ষ তাদের পাশে দাঁড়ায়। ২৫ লাখ থেকে কোটি টাকার বিনিময়ে তারা পদোন্নতি বাগিয়ে নেন।
অভিযোগ রয়েছে, অর্ধশত কোটি টাকার সমঝোতায় ড. শেখ আব্দুর রশিদ-সাবেক মন্ত্রী পরিষদের সচিব, সিরাজুদ্দীন মিয়া সাথী গ্রুপের প্রভাবে অর্ধশতাধিক কর্মকর্তাকে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রতিহিংসামূলক হিসাব-নিকাশ।
অভিযোগ করা হয়েছে, জামায়াত-সংশ্লিষ্ট ক্যাবিনেট সেক্রেটারি ড. শেখ আব্দুর রশিদ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তার পরিকল্পনায় ২০তম বিসিএসের ৮৫ জনকে অতিরিক্ত সচিব পদে উন্নীত করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, তাদের মধ্যে অন্তত অর্ধশতাধিক জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত।
অভিযোগ রয়েছে, এই দুর্নীতির অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও হোতা একজন যুগ্ম সচিব যার সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের এক প্রভাবশালী কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তার সঙ্গে আরও ১০ আমলার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট শেষ সময়ে এ পদোন্নতি সম্পন্ন করে। এই চক্র পদোন্নতির আশ্বাসে প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়।
তথ্যমতে, পদোন্নতির তালিকায় জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিতে যুক্ত সংখ্যা ৫০-এর অধিক, নব্য জামায়াত-শিবিরসহ আওয়ামী লীগ সুবিধাভোগী ১৩ জনের অধিক, বিএনপিপন্থি মাত্র ছয় কম-বেশি এবং নিরপেক্ষ তিন-চারজন হতে পারে। তবে পদোন্নতি পাওয়ার জন্য অনেকে নব্য জামায়াত এবং শিবির রং ধারণ করেছেন বলে কর্মকর্তাদের দাবি।
পাশাপাশি উল্লিখিত ১০-১২ জনের এই গ্রুপ ২৫ লাখ থেকে এক কোটি টাকা হাতিয়ে প্রমোশন দিয়েছেন। এছাড়া অপদার্থ এবং অকর্মণ্য কর্মকর্তা এই তালিকার মধ্যে রয়েছেন। ফলে পুরো প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। জানা যায়, দু-একজনের প্রমোশন না করাতে পেরে অর্থ ফেরতও দিয়েছেন।
এদিকে গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রশাসনে প্রভাব বিস্তারকারী বিশেষ গোষ্ঠীর অনুগত কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই কর্মকর্তারা নিজেরা পদোন্নতি ও পদায়নে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেছেন এবং নিজেদের অনুগত কর্মকর্তাদের সুবিধা নিশ্চিত করতে নিয়মিত ব্যাচের যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে বাধার সৃষ্টি করেছেন।
বিশেষ করে ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেরি হওয়া, ২৪তম ব্যাচের যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি রিভিউ করা সম্ভব হয়নি এবং ২১ ও ২২তম ব্যাচের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যেই পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করলেও পদোন্নতি আটকে থাকায় প্রশাসনের ভেতরে হতাশা ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য দেয়নি। বঞ্চিত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেয়ার বিজকে বলেন, পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সব সময় দক্ষতা, জ্যেষ্ঠতা, সততা এবং পেশাগত পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হয়। কিন্তু এবার টাকা আর দলীয় প্রভাব আর প্রতিহিংসা ছাড়া অন্য কিছুকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
সাধারণ কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রশাসনে দলনিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিশ্চিত করা না হলে প্রশাসনের কার্যকারিতা ও জনসেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষভাবে যেসব কর্মকর্তা অতীতে প্রভাব বিস্তার করেছেন, তাদের পদোন্নতি এবং পদায়নের কার্যকারিতা পুনর্মূল্যায়ন করা প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ফেরানো এখন সময়োপযোগী।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার শেয়ার বিজকে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও দলীয়করণ করা হয়েছিল। দলীয় লোকজনকে দেখে দেখে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হতো। তার একাধিক প্রমাণও পাওয়া গেছে। এখন সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যদি বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পদোন্নতি দেওয়া হয়ে থাকে তাহলে বিষয়টি দুঃখজনক। অবশ্যই বিষয়টি প্রমাণ করতে হবে।
পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের একটি আমলনামা: ১. ড. সৈয়দা নওশিন পর্ণিনী (৬৪৩৭): আওয়ামী সুবিধাবাদী, অনুমোদনহীনভাবে লিয়েনে থাকায় ডিপি মামলা চলমান ছিল, এখন বিএনপি সেজেছে। ২. মো. শাহ আলম (৬৪৮৪): একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক, দুর্নীতির দায়ে ডিপি ছিলেন, নব্য বিএনপি কর্মকর্তা। ৩. মো. আকনুর রহমান, পিএইচডি (৬৬৩১): প্রকাশ্যে বিএনপি, কিন্তু গোপনে অন্য একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক। আওয়ামী সুবিধভোগী কর্মকর্তা। নিজের স্ত্রী ও নিজে ভালো ভালো জায়াগায় কাজ করেছেন। নব্য বিএনপি সেজেছেন, স্ত্রী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। তিনি ক্রিমিনাল থিংক ট্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত। ৪. মুহাম্মদ এনাম চৌধুরী (৬৬৩৫): বিএনপি সমর্থিত (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাসাসের সহসভাপতি)। ৫. মো. জাহাঙ্গীর আলম (৬৬৩৬): বর্তমানে পরিপূর্ণ জামায়াত, আওয়ামী আমলে কেরানীগঞ্জে ইউএনও ছিলেন। ৬. মো. রাহেদ হোসেন (৬৬৪৩): বর্তমানে বিএনপিমনা দাবিদার, অত্যন্ত নেগেটিভ অফিসার। ৭. মো. জহিরুল ইসলাম (৬৬৪৮): পরিপূর্ণ জামায়াত। পুরো পরিবার জামায়াত সমর্থক, আওয়ামী সুবিধাবাদী। গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না।
৮. ড. মো. মনিরুজ্জামান (৬৬৬১): পূর্বে বিএনপি-সমর্থিত। বর্তমানে পরিপূর্ণ জামায়াত। প্রমোশন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। ৯. মোহা. আলমগীর হোসেন (৬৬৬৫): বর্তমানে পরিপূর্ণ জামায়াত। পূর্বে দুর্নীতির কারণে পদোন্নতি পাননি। আওয়ামী আমলে দীর্ঘদিন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা), প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব ছিলেন। এখন নিজেকে প্রচণ্ড রকম বিএনপি দাবিদার। ক্ষমতাশালী এবং প্রমোশন দুর্নীতির কারিগর ও হোতা। রাজধানীর ধানমন্ডিতে একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য বায়না দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পরিশোধ করে কেনার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে এবং বিএনপিপন্থি সৎ কর্মকর্তাদের এনএসআইয়ের রিপোর্ট পরিবর্তনের অন্যতম হোতা। ১০. আরিফ আহমেদ (৬৬৬৭): বর্তমানে জামায়াত। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সুবিধাবাদী ছিলেন। গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত হননি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে থাকাকালীন অন্যতম শক্তিশালী সচিবের একান্ত সচিব ছিলেন। বিদেশে পাসপোর্টের কাজে মিশনে ছিলেন। ১১. খোন্দকার আনোয়ার হোসেন (৬৬৭০): জামায়াত সমর্থক। অতীতে আওয়ামী সুবিধাবাদী, আওয়ামী আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। ১২. মো. মশিউর রহমান (৬৬৭২): জামায়াত সমর্থক, আওয়ামী সুবিধাবাদী, উপসচিবের গোয়েন্দা রিপোর্টে জামায়াতপন্থি আসায় প্রথম বার পদোন্নতি হয়নি। ১৩. জামিল আহমেদ (৬৬৭৩): গোপনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সমর্থক। আগে আওয়ামী লীগ সুবিধাবাদী ছিলেন। ১৪. ড. আহমেদ উল্লাহ, এফসিএমএ (৬৬৭৪): গোপনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সমর্থক। ১৫. রাজা মো. আব্দুল হাই (৬৬৭৬): গোপনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সমর্থক, পরিবার বিএনপিপন্থি। আওয়ামী আমলে দীর্ঘদিন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানের প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব ছিলেন। ১৬. ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (৬৬৭৭): আওয়ামী সুবিধাবাদী, সরাসরি জামায়াত, পুরো পরিবার আওয়ামীবিরোধী। প্রমোশন দুর্নীতির অন্যতম কারিগর ও হোতা। ১৭. মো. মোতাহার হোসেন (৬৬৭৯): পরিপূর্ণ জামায়াত, বর্তমানের দুদকের ক্ষমতাধর ডিজি, আওয়ামী সুবিধাবাদী, বিদেশ পোস্টিং থাকলেও তাকে প্রমোশন দেওয়া হয়েছে। তার বাবা আগে বিএনপি ছিলেন। কয়েকদিন আগে রাজউক কর্মকর্তার কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার ভিডিও অনেকের কাছে আছে। ১৮. বাবর আলী মীর (৬৬৮০): পরিপূর্ণ জামায়াত, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকার কারণে প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন। ১৯. ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ (৬৬৮৫): বিএনপি সমর্থক কিন্তু বিএনপি-ছাত্রদল করেননি। তার মা বিএনপির মহিলা এমপি ছিলেন। নারায়ণগঞ্জে এসিল্যান্ড থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী ডিসি নিয়োগে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত মর্মে খবর বের হয়। প্রমোশন দুর্নীতির অন্যতম কারিগর ও হোতা। ২০. মো. ইউসুফ আলী (৬৬৯১): বর্তমানে জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত, আওয়ামী সুবিধাবাদী, আওয়ামী আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। ২১. মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন (৬৬৯২): পরিপূর্ণভাবে জামায়াত, আওয়ামী লীগ সুবিধাবাদী, আওয়ামী আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। ২২. মো. আবদুল্লাহ হারুন (৬৬৯৩): পরিপূর্ণ জামায়াত, আওয়ামী লীগ সুবিধাবাদী, আওয়ামী আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। ২৩. মোহাম্মদ সানাউল হক (৬৭০১): পরিপূর্ণভাবে জামায়াত, আওয়ামী লীগ সুবিধাবাদী, আওয়ামী আমলে একবার সুপারসিডেড হয়েছে নিজের কারণে। ২৪. মো. শাওগাতুল আলম (৬৭০২): পরিপূর্ণভাবে জামায়াত, আওয়ামী লীগ সুবিধাবাদী, আওয়ামী আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিল না। আগে বুয়েটের ছাত্রদলের নেতা ছিলেন। ২৫. মো. মনিরুজ্জামান মিঞা (৬৭০৩): প্রকাশ্যে বিএনপি, গোপনে একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক। তার কারণে ২০ ব্যাচের জামায়াত সমর্থক অফিসাররা প্রমোশন পেয়েছেন। প্রমোশন দুর্নীতির অন্যতম কারিগর ও হোতা। ২৬. মোহাম্মদ আবুল হাশেম (৬৭০৪): পরিপূর্ণভাবে জামায়াত, বর্তমানে সেজেছেন বিএনপি, গোয়েন্দা রিপোর্টে জামায়াত পাওয়ায় আওয়ামী আমলে পদোন্নতি পাননি। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা থাকায় পদোন্নতি পাননি। ২৭. মুঃ জসীম উদ্দিন খান (৬৭০৫): একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক, প্রকাশ্যে বিএনপি সমর্থক, তার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সুবিধাবাদী। এপিডি উইংয়ে এ কাজ করেছেন, সে সময় অনেককে বাদ দিলেও, জামায়াত হওয়ায় প্রমোশন পেয়েছেন। প্রমোশন দুর্নীতির অন্যতম কারিগর ও হোতা।
২৮. খোন্দকার মো. নাজমুল হুদা শামিম (৬৭০৬): পরিপূর্ণভাবে জামায়াত, নিজেকে এখন বিএনপি দাবি করেন। এ কারণে আওয়ামী আমলে প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন। তার ওই সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লেখা বই রয়েছে। ২৯. এমএম আরিফ পাশা (৬৭০৮): জাসদ-সমর্থিত, আওয়ামী সুবিধাবাদী, আওয়ামী লীগ আমলে গত ১৫ বছরে একবার প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন। ডিসি ছিলেন না। ভূমি মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘদিন পদায়ন ছিলেন। ৩০. মো. নজরুল ইসলাম (৬৭০৯): বরিশাল অফিসারদের পূর্ণ মাত্রায় সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্ত ছিলেন। গোপনে একটি রাজনৈতিক দলের সর্মথক, আওয়ামী সুবিধাবাদী, আওয়ামী লীগ আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। ৩১. মো. মোস্তফা জামান (৬৭১৩): পরিপূর্ণ জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত রয়েছেন। ৩২. আলতাফ হোসেন শেখ (৬৭১৫): পরিপূর্ণ জামায়াত, আওয়ামী লীগ সুবিধাবাদী, এটুআইতে কর্মরত ছিলেন। ৩৩. খলিল আহমেদ (৬৭১৮): বিএনপিপন্থি, আওয়ামী লীগ আমলে বঞ্চিত। ৩৪. কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (৬৭২০): গোপনে একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক, আওয়ামী সুবিধাবাদী, ডিএস, জিএস পদোন্নতিতে আওয়ামী মন্ত্রীদের ডিও জমা দিয়েছেন। নিজেকে এখন বিএনপিমনা অফিসার প্রমাণ করেছেন। জামায়াত সমর্থক অফিসারদের পদোন্নতি প্রদানে আর বিএনপিমনা অফিসারদের নাম কর্তনে কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন জনপ্রশাসনে চাকরি করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘদিন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা), প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব ছিলেন। প্রমোশন দুর্নীতির অন্যতম কারিগর ও হোতা।
৩৫. মুহম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী (৬৭২২): পরিপূর্ণ জামায়াত, আওয়ামী আমলে প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। ৩৬. মিজ শামিম সুলতানা (৬৭২৪): পরিবার বিএনপি, প্রমোশনের জন্য বর্তমানে গোপনে একটি দলের সমর্থক। ৩৭. মো. সাইদুর রহমান (৬৭২৫): পরিপূর্ণ জামায়াত, আওয়ামী সুবিধাবাদী ও বিদেশে পিএইচডি। সোবহান শিকদারের একান্ত সচিব।
৩৮. মো. নায়েব আলী (৬৭২৬): বর্তমানে জামায়াত, আওয়ামী সুবিধাবাদী প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। এক সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ছিলেন। ৪০. মো. আসাদুজ্জামান (৬৭২৭): বর্তমানে জামায়াত, আওয়ামী সুবিধাবাদী যেহেতু প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। ৪১. মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন (৬৭৩০): বর্তমানে জামায়াত, আওয়ামী লীগ সুবিধাবাদী। ৪২. মিজ নাহিদ সুলতানা মল্লিক (৬৭৩৯): পুরো পরিবার আওয়ামীপন্থি, বাবা আওয়ামী লীগ দলীয় আইনজীবী, স্বামী সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের ঘনিষ্ঠ, আওয়ামী লীগ সুবিধাবাদী, আওয়ামী আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। ৪৩. ড. মো. লুৎফর রহমান (৬৭৪১): জামায়াত, আওয়ামী লীগ আমলের সুবিধাবাদী। জানা গেছে, সিঙ্গাপুরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। ৪৪. মো. শফিকুল ইসলাম (৬৭৪২): জামায়াত, আওয়ামী আমলের সুবিধাবাদী। ৪৫. মিজ মোসা. সুরাইয়া বেগম (৬৭৪৫): আওয়ামী সুবিধাবাদী, আওয়ামী আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না (গোপনে একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক)।
৪৬. মোহাম্মদ আবু নঈম (৬৭৪৯): বিএনপিমনা, প্রমোশন দুর্নীতির অন্যতম কারিগর ও হোতা। তিনি ক্রিমিনাল থিংক ট্যাঙ্কের সঙ্গে জড়িত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত। আগে দুর্নীতির কারণে পদোন্নতি পাননি, আওয়ামী আমলে দীর্ঘদিন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা) একান্ত সচিব ছিলেন। ৪৭. এসএম হুমায়ুন কবির সরকার (৬৭৫১): বিএনপি সমর্থক কিন্তু রাজনীতি করেননি, আওয়ামী আমলের কিছুটা সুবিধাভোগী। প্রমোশন দুর্নীতির অন্যতম কারিগর ও হোতা। সম্প্রতি দুর্নীতির কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে স্বাস্থ্যে বদলি হয়েছেন। ৪৮. মিজ আলেয়া খাতুন (৬৭৫৬): জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত, অদক্ষ ও অপদার্থ। ৪৯. শিবির বিচিত্র বড়ুয়া (৬৭৬১): আওয়ামী সুবিধাবাদী, আওয়ামী লীগ আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। ৫০. মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান (৬৭৬৩): জামায়াত, আওয়ামী সুবিধাবাদী, আওয়ামী আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। ৫১. মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরী (৬৭৬৯): ছাত্র অবস্থায় শিবিরের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন, আওয়ামী সুবিধাবাদী, আওয়ামী লীগ আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। ৫২. আবু ইউসুফ মো. রেজাউর রহমান (৬৭৭১): নিরপেক্ষ কর্মকর্তা, আওয়ামী আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। ৫৩. মো. আনোয়ারুল ইসলাম (৬৭৭৫): বর্তমানে জামায়াত সমর্থক, আওয়ামী লীগের সময় সুবিধাবাদী ছিলেন, আওয়ামী আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না।
৫৪. মো. আব্দুর রশিদ (৬৭৭৬): পরিপূর্ণ জামায়াত সমর্থক, আওয়ামী সুবিধাবাদী, আওয়ামী লীগ আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। ৫৫. মিজ সালমা সিদ্দিকা মাহতাব, এনডিসি (৬৭৭৯): নব্য জামায়াত সমর্থক, আওয়ামী লীগ সুবিধাবাদী, আওয়ামী আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। ৫৬. আবু সালেহ মো. মহিউদ্দিন খাঁ, এনডিসি (৬৭৮৩): পরিপূর্ণভাবে নব্য জামায়াত, আওয়ামী সুবিধাবাদী। গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। ৫৭. মিজ ফেরদৌসী আখতার (৬৭৮৬): পরিপূর্ণ জামায়াত, আওয়ামী লীগ সুবিধাবাদী, আওয়ামী আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। ৫৮. মিজ দিল আফরোজা (৬৭৮৭): আওয়ামী সুবিধাবাদী, আওয়ামী লীগ আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না (স্বামী ১৮ ব্যাচের মাহফুজ, জামায়াত সমর্থক)। ৫৯. মুহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন (৬৭৯৪): পরিপূর্ণ জামায়াত-সমর্থক, আওয়ামী সুবিধাবাদী, আওয়ামী লীগ আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। ৬০. মোহাম্মদ শামীম সোহেল (৬৭৯৬): পরিপূর্ণ জামায়াত, আওয়ামী সুবিধাবাদী, আওয়ামী আমলে গুপ্ত থেকে জনপ্রশাসনে পদায়নে ছিলেন গত ১৫ বছর। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ৬১. মিজ হাবিবুন নাহার (৬৮০০): নব্য জামায়াত সমর্থক, আওয়ামী লীগ সুবিধাবাদী, আওয়ামী আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। ৬২. কেএম আলী আযম (৬৮০২): গোপনে একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক। আওয়ামী সুবিধাবাদী, আওয়ামী সচিবের পিএস ছিলেন, দুর্নীতির কারণে পদোন্নতি হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরবর্তী ডিসি নিয়োগে দুর্নীতি করেন। ৬৩. মিজ মোসা. ফেরদৌসী বেগম (৬৮০৫): পরিপূর্ণ জামায়াত সমর্থক, অতীতে আওয়ামী লীগের সুবিধাবাদী।
৬৪. মোহা. আব্দুর রফিক (৬৮১০): বিএনপিপন্থি, প্রমোশনের পরিপূর্ণ জামায়াত। আওয়ামী লীগের সময় প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন। ৬৫. মিজ তাহমিনা ইয়াসমিন (৬৮১৩): নব্য জামায়াত সমর্থক, আওয়ামী সুবিধাবাদী, আওয়ামী লীগ আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পিএসের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ছিলেন।
৬৬. ড. সাদিয়া শারমিন (৬৮১৪): আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সুবিধাবাদী ছিলেন, আওয়ামী আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের নেতার স্ত্রী, স্বামীর সঙ্গে যুবলীগের কর্মসূচিতে যেতেন। ঘনিষ্ঠরা বলেন, টাকা দিয়ে প্রমোশন করিয়েছেন। ৬৭. ড. জিন্নাত রেহানা (৬৮১৮): নব্য জামায়াত, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরিপ্রার্থী, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে শ্বেতপত্রে নাম উঠেছিল, নিজেকে ২০২৪ পর্যন্ত আওয়ামী পরিবার বলতেন। আওয়ামী সুবিধাবাদী, আওয়ামী আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। ৬৮. মিজ শাহীনা ফেরদৌসী (৬৮২১): জামায়াত, আওয়ামী সুবিধাবাদী, আওয়ামী আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। ৬৯. ড. রোকসানা তারান্নুম (৬৮২২): পরিপূর্ণ জামায়াত, (তবে গোপনে) আওয়ামী সুবিধাবাদী, নিজেকে বঙ্গবন্ধুর অনুসারী, স্বামী আওয়ামী লীগ করে এসব দেখিয়ে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপপ্রাপ্ত, ২০ ব্যাচের একমাত্র মহিলা গোয়েন্দা রিপোর্টে জামায়াত ফ্যামিলি পাওয়া সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ পেয়েছিলেন। ৭০. মিজ রায়না আহমদ (৬৮২৪): আওয়ামী সুবিধাবাদী, আওয়ামী আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। তার ফুফা ১১ ব্যাচের বিএনপিপন্ত্রী।
৭১. মিজ শামিমা বেগম (৬৮২৮): পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতে যুক্ত, বাবা আওয়ামী লীগের সময় সংসদ সদস্য ছিলেন, আওয়ামী সুবিধাবাদী, আওয়ামী আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না, তবে এখন জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত আছেন।
৭২. মোহাম্মাদ আজাদ ছাল্লাল (৬৮৩৩): গোপনে জামায়াত সমর্থক, আগে আওয়ামী সুবিধাবাদী, আওয়ামী লীগ আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। সুদীর্ঘকাল ধরে অর্থ বিভাগে কর্মরত। ৭৩. মিজ মোসাম্মাৎ জোহরা খাতুন (৬৮৩৪): প্রগতিশীল লেখিকা ও আওয়ামী লীগ আমলে ছিলেন সুবিধাবাদী। ৭৪. মিজ রাহিমা আক্তার (৬৮৩৫): আওয়ামী সুবিধাবাদী, আওয়ামী আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না, ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ অফিসার এবং সিনিয়র সচিব মোখলেছুর রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে জানে সবাই। বর্তমানে মোপাতে কর্মরত, ফরেন অফিসে পোস্টিং নিয়ে রেখেছেন।
৭৬. মিজ সাহানা (৬৮৪০): আওয়ামী পরিবার, আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী, আওয়ামী আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। শেখ হাসিনার অনুসারী সাহানা ২০১৬ সালের ১৫ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ‘রক্তদান কর্মসূচিতে’ ব্লাড ডোনেট করেন। এই ছবি দেখিয়ে সাহানা অর্থ বিভাগে পোস্টিং ও যুগ্ম সচিব পদোন্নতি বাগিয়ে নেন। আওয়ামী লীগ নেত্রী শামসুন নাহারের ছোট বোন সাহানা। এখন সময় বুঝে নিজেকে বিএনপি পরিবারের সদস্য হিসেবে দাবি করেন। ৭৭. মুহাম্মদ আব্দুল হাই আল-মাহমুদ (৬৮৪৬): পরিপূর্ণ জামায়াত। সদ্যবিদায়ী নির্বাচনে প্রত্যাশা করেছিলেন জামায়াত ক্ষমতায় আসবে। ৭৮. মো. লাল হোসেন (৬৮৫৪): দুর্নীতিবাজ, এখন জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত, কিন্তু নিজেকে বিএনপিপন্থি প্রচার করেন। অনুভবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে লিখা নিয়ে পেইড রিপোর্ট করায় এই লাল হোসেন। ৭৯. ড. গোলাম আজম (৬৮৫৭): বিএনপির মন্ত্রীর পিএস ছিলেন প্রমোশনের জন্য জামায়াতপন্থি হয়েছেন। ৮০. এসএম মাসুদুল হক (৬৮৫৯): ছাত্রজীবনে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু প্রকাশ্যে বিএনপিমনা, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সুবিধাবাদী। ৮১. এএসএম মুস্তাফিজুর রহমান (৬৮৬২): নব্য জামায়াত, আওয়ামী সুবিধাবাদী, আওয়ামী আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। ৮২. এসএম শাহীন পারভেজ (৬৮৬৪): অপরিপক্ব কর্মকর্তা, সুবিধার জন্য রূপ বদল করে। জামায়াত, আওয়ামী সুবিধাবাদী। ৮৩. মিজ নাসরিন জাহান (৬৮৭৩): নব্য জামায়াত, আওয়ামী সুবিধাভোগী, আওয়ামী আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। দীর্ঘদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাজ করেছেন। ৮৪. মিজ খেনচান (৬৮৮০): আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী ছিলেন, আওয়ামী আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত হয়েছিল বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে। ৮৫. হাসান মাহমুদ (৬৮৮৭): চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন, এখন জামায়াত, আওয়ামী আমলে সুবিধাভোগী। ৮৬. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ আনোয়ার পাশা (৬৮৯২): আওয়ামী সুবিধাবাদী। বিএনপির মন্ত্রীর পিএস ছিলেন। ৮৭. এ কে এম তারেক (৬৯০১): গোপনে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এখন প্রকাশ্যে বিএনপি। আওয়ামী আমলে সুবিধাভোগী। প্রমোশনের পর পোস্টিং ঠিক করে রেখেছেন। ৮৮. মিজ খাদিজা নাজনীন (৬৯০৭): আওয়ামী সুবিধাভোগী, আওয়ামী আমলে গত ১৫ বছরে কখনও প্রমোশন বঞ্চিত ছিলেন না। জ্বালানি সচিব নিয়াজ থেকে শুরু করে অনেকের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে দেয়ালিকায় কবিতা লিখেছিলেন। ৮৯. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম (৬৯২৬): প্রকাশ্যে বিএনপি সমর্থক। পূর্বের আমলে প্রমোশন বঞ্চিত।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের একটি আমলনামা নামক তালিকাটি বাংলাদেশ ব্যুরোক্রেসি ওয়েব পেজ থেকে নেওয়া।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post