প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

দৃষ্টি রাখুন প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নেও

দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের আওতায় আনার যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেটাকে আমরা ইতিবাচক বলেই মনে করি। এর মধ্য দিয়ে শিশুর কাছে পাঠ্য বিষয়গুলো যেমন চিত্তাকর্ষক ও সহজভাবে উপস্থাপন করা যাবে, তেমনি তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা প্রদানে অর্জন করা যাবে অগ্রগতি। এতে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহারের অভ্যাস আর সক্ষমতাও বাড়বে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীর মধ্যে। শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাইজেশনের যে লক্ষ্য সরকারের রয়েছে, তা অর্জনেও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এ উদ্যোগ। আমরা এর সফলতা কামনা করি। আশা করি, এ প্রজন্ম প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও দক্ষ হয়ে উঠবে এবং দেশকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরবর্তী স্তরে নিয়ে যেতে এ সক্ষমতা কাজে লাগাবে। বিভিন্ন দেশে উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভরতা যেভাবে বাড়তে দেখা যাচ্ছে, সেক্ষেত্রেও এ উদ্যোগ আমাদের জন্য ইতিবাচক হবে বলেই মনে হয়।

অস্বীকার করা যাবে না, দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের আওতায় আনার ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত কিছু বাধা রয়েছে। এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা সব শিক্ষকের নেই। কোনো স্কুলে নেই বিদ্যুৎ, আবার কোথাও নেই এসব যন্ত্রপাতি স্থাপনের সুব্যবস্থা। মনে রাখতে হবে, এসব বাধা যদি দূর করা না হয়, তাহলে সরকারের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে। জানা যাচ্ছে, এজন্য শিক্ষকদের দু’সপ্তাহের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এরই মধ্যে। অভ্যাসগত কারণে কোনো শিক্ষক যাতে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারকে সমস্যা মনে না করেন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রত্যেক ক্লাসরুমকে এ প্রযুক্তির আওতায় আনতে আরও কিছুটা সময় লাগবে স্বভাবতই। সন্দেহ নেই, এজন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন। আমরা চাইব, পর্যায়ক্রমে হলেও এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মনোযোগ দেবে সরকার। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রত্যেক ক্লাসরুমকে মাল্টিমিডিয়ার আওতায় আনা গেলে শিক্ষামূলক সমন্বিত অনুষ্ঠান আয়োজনও সহজ হবে।

প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলেও পাঠ্যক্রম যথাযথ মানের না হলে কিন্তু শিক্ষার মানোন্নয়ন ঘটবে না। সাম্প্রতিককালে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষাক্ষেত্রে মানের অবনতি ঘটছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে বিভিন্ন মহলে। বলা ভুল হবে না, শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার নয়, বর্তমান প্রজন্ম নানা দিক থেকেই অগ্রসর। তাদের অগ্রসরতার সঙ্গে সংগতি রেখে যদি পাঠক্রমের মানোন্নয়ন ঘটানো না হয়, তাহলে তাদের সম্ভাবনার পরিপূর্ণ বিকাশ হবে কি না সন্দেহ। নৈতিকতার অবক্ষয়, শ্রদ্ধা, পরস্পরের প্রতি আস্থা ও সহমর্মিতা হ্রাসের বিষয়টিও দৃশ্যমান তরুণ প্রজন্মের একাংশের মধ্যে। এগুলো মূলত সামাজিক পুঁজির উপাদান। এসবের ঘাটতি বা সংকটে উন্নয়নকে স্থায়ী রূপ দিতে বাধা পেতে হয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে। এ অবস্থায় প্রাথমিক পর্যায় থেকে পাঠ্যক্রমে এগুলোর সন্নিবেশ কীভাবে করা যায় সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে নীতিনির্ধারকদের। আমরা চাইব, নতুনভাবে স্থাপিত এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও হালনাগাদ বিষয়ে জ্ঞানার্জনকে সহজ করা হবে।