করপোরেট টক

দেশব্যাপী মানুষের কাছে যেতে চাই



সাক্ষাৎকারে নাভানা ফুডস লিমিটেডের হেড অব বিজনেস এফএম মুর্শেদ ইলাহী

বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় একটি ব্র্যান্ড গ্লোরিয়া জিনস বাংলাদেশেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পেছনে কি রয়েছে?

এফএম মুর্শেদ ইলাহী: গ্লোরিয়া জিনসের জনপ্রিয়তার অন্যতম প্রধান কারণ হলো এর অনন্যসাধারণ স্বাদ। তাছাড়া এটি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক প্রফেশনাল কফিশপ। তাই শুরু থেকেই অতিথিদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এ আন্তর্জাতিক কফি ব্র্যান্ড।

বাংলাদেশে কফিপ্রেমী তৈরিতে গ্লোরিয়া জিনস কতটুকু ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন?

এফএম মুর্শেদ: চা-প্রেমিক বাঙালিকে চা থেকে কফির দিকে আনাটা আপাত দৃষ্টিতে কঠিন মনে হলেও শুরু থেকেই মানুষ একে সাদরে গ্রহণ করেছে। তরুণদের হ্যাংআউট, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, আরামদায়ক পরিবেশে যতক্ষণ খুশি বসতে পারা প্রভৃতি সুবিধার জন্য গ্লোরিয়া জিনস তার অতিথিদের কাছে প্রিয় স্থানে পরিণত হয়েছে। কফির টানেই তারা আসেন এখানে। গ্লোরিয়া জিনসের কফির ইউনিক স্বাদ ঢাকাবাসীকে কফিপ্রেমী করে তুলতে অগ্রগামী ভূমিকা রেখেছে।

আমরা সাধারণত মেন্যু দেখে অর্ডার দিচ্ছি, কিছুক্ষণের মধ্যেই সামনে আসে পছন্দের কফি কিন্তু এক কাপ কফির পেছনের গল্পটি যদি আমাদের বলেন

এফএম মুর্শেদ: বিন থেকে আমাদের সামনে আসা পর্যন্ত কফিদানাকে পাড়ি দিতে হয় অনেকটা পথ, যেতে হয় বিশেষ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। গ্লোরিয়া জিনসের অনন্য স্বাদের কফির কাঁচামাল মধ্য আমেরিকা, ইন্দোনেশিয়ার জাভা ও সুমাত্রার পাশাপাশি ইথিওপিয়া থেকে সংগ্রহ করা হয়। এরপর ওয়াশ করে তা যথাযথভাবে শুকানো হয়। পরে সেগুলোকে হট চেম্বারে রোস্ট করা হয়। এরপর আসে কফির রং আনার পালা। বিভিন্ন দেশ থেকে এভাবে প্রক্রিয়াজাত বিনগুলো যায় অস্ট্রেলিয়ায় গ্লোরিয়া জিনসের নিজস্ব কারখানায়। সেখানে দেওয়া হয় ফিনিশিং টাচ। সিডনি থেকে এ বিন ফ্র্যাঞ্চাইজিভুক্ত দেশগুলোয় আকাশপথে পাঠানো হয়। এখানেই শেষ নয়। প্রতিটি কফিশপে থাকেন উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন বারিস্তা। তিনিই তৈরি করেন মন মাতানো ঘ্রাণযুক্ত অনন্য স্বাদের এক কাপ কফি।

আপনাদের ক্রেতারা সাধারণত কেমনএজ গ্রুপের?

এফএম মুর্শেদ: কোনো নির্দিষ্ট গ্রুপ নেই। সব বয়সের মানুষ এখানে আসে। গ্লোরিয়া জিনসে ২০ বছর বয়সীরা যেমন আসেন, তেমনি ষাটোর্ধ্ব মানুষের আনাগোনাও রয়েছে।

বর্তমানে অনেকে অফিসিয়াল মিটিংও কফিশপে করেন সম্পর্কে কিছু বলুন

এফএম মুর্শেদ: গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের মানুষের চালচলনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। সবাই এখন বসার জন্য ভালো পরিবেশ চায়। আর উপযুক্ত পরিবেশে কফি পান করতে করতে দিব্যি একটি মিটিং সেরে ফেলা যায়। এমনসব চাহিদার কথা মাথায় রেখে আমাদের এখানেও বিজনেস মিটিংয়ের জন্য আলাদা রুমের ব্যবস্থাও রেখেছি।

কফির পাশাপাশি আপনারা অন্যান্য খাবারেও ভিন্নতা এনেছেন এটাকে কফিশপ বলবেন, না রেস্টুরেন্ট

এফএম মুর্শেদ: এটি একটি মডার্ন ক্যাফে। তবে ভোজনবিলাসী বাঙালির কথা মাথায় রেখে এখানে স্নাকস থেকে শুরু করে ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনার, লেটনাইট আইটেমেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এমনটি করা হয়েছে ক্রেতার চাহিদা বিবেচনা করে। প্রায়ই ক্রেতা কফির পাশাপাশি আরও কিছু নাস্তার প্রয়োজন জানানোর পর আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

গ্লোরিয়া জিনস নিয়ে ভবিষৎ পরিকল্পনা

এফএম মুর্শেদ: গ্রাহকের চাহিদা বিবেচনা করে দেশের অন্যান্য শহরেও শাখা খোলার ইচ্ছা রয়েছে। আমরা দেশব্যাপী কফিপ্রেমী মানুষের কাছে গ্লোরিয়া জিনসের অনন্য কফি পৌঁছে দিতে চাই।

আন্তর্জাতিকভাবে কফির দামে তারতম্য হলে ক্রেতারা বিষয়টিকে কীভাবে নেন?

এফএম মুর্শেদ: বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কফির উৎপাদন কমে যাচ্ছে। তাছাড়া কাঁচাপণ্যসহ বিভিন্ন উপাদানের দাম বাড়ার কারণে কফির দামেও তারতম্য হতে পারে। এক্ষেত্রে অতিথিদের আন্তরিকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়।

ক্যারিয়ার হিসেবে কফিশপ উদ্যোক্তাকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

এফএম মুর্শেদ: আমাদের পছন্দ-অপছন্দ এ বিশ্বায়নের সময় খুব দ্রুত বদলাচ্ছে। ১০ থেকে ১৫ বছর আগেও আমাদের দেশের মানুষ কফিকে নিত্যদিনের সঙ্গী হিসেবে ভাবতে পারত না। কিন্তু বর্তমান চিত্র একেবারে ভিন্ন। প্রিয়জন, বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা থেকে শুরু করে করপোরেট মিটিংগুলো পর্যন্ত কফি পান করতে করতে সম্পন্ন হচ্ছে। দিন দিন এ পানীয় জনপ্রিয়তার জায়গা থেকে প্রয়োজনীয় হয়ে উঠছে। এ কারণে এ খাতটি ক্যারিয়ার হিসেবে লাভজনক হবে বলে আশা করছি।



প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..