দিনের খবর সাক্ষাৎকার

‘দেশেই ক্যানসারের ওষুধ উৎপাদন করবে গুডম্যান ফার্মা’

সা ক্ষা ৎ কা র

১৯৮৪ সালে যাদের হাত ধরে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতের গোড়াপত্তন শুরু হয়েছিল তাদের একজন আক্কাস উদ্দিন মোল্লা। ওসমান গ্রুপের অধীন তৈরি পোশাক খাতে একে একে গড়েছেন ১১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পেয়েছেন সরকারি-বেসরকারি একাধিক স্বীকৃতি। সর্বোচ্চ করদাতার সারিতে থাকায় পেয়েছেন সিআইপি সম্মান। এখন স্বপ্ন বুনছেন ওষুধ শিল্প খাতের উদ্যোক্তা হওয়ার। সম্ভাবনাময় এ খাতে ইতোমধ্যে গড়েছেন গুডম্যান ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড নামের কোম্পানি। ৩০০ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণেও অনেকটা এগিয়েছেন। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন শেয়ার বিজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শেখ আবু তালেব

শেয়ার বিজ: কেমন আছেন আপনি? তৈরি পোশাক খাত থেকে কেন ওষুধ শিল্প খাতে বিনিয়োগ করলেন?

আক্কাস উদ্দিন মোল্লা: ধন্যবাদ আপনাকে। মহামারির এ সময় অফিস করছি। চলাচল করতে পারছি, সুস্থ আছি এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া। অনেক ভালো আছি।

দেখুন বর্তমানে আমাদের মোট চাহিদার ৯০ শতাংশ ওষুধ এখন বাংলাদেশেই তৈরি হচ্ছে, যা এক সময়ে কল্পনায়ও ছিল না। ওষুধ খাতের পুরোটা ছিল আমদানিনির্ভর। এজন্য বিদেশি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও আমাদের দেশে কারখানা করেছিল। তাদের সংখ্যা এখন কমে গেছে। কারণ আমাদের ওষুধ এখন গুণ ও মানÑদুটোতেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জন করেছে। তাই ৯০ শতাংশ ওষুধ আমরাই তৈরি করতে পারছি। যদি এটি না হতো তাহলে এত বিনিয়োগ এ খাতে হতো না। বিদেশি কোম্পানির ওষুধই মানুষ সেবন করত। এক সময়ে দেখা যাবে আমাদের দেশে কোনো বিদেশি ওষুধ আসছে না। বাংলাদেশে খাতটির সম্ভাবনাময় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ওষুধের চাহিদা সব সময় থাকবে। কভিড-১৯ মহামারি সেই কথাই বুঝিয়ে দিয়েছে। শুধু ওষুধ নয়, স্বাস্থ্য সচেতন হওয়ায় স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত অনেক উপকরণ ভবিষ্যতে আসবে। মানুষও তা ব্যবহার করবে। শুধু ওষুধ দিয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না এ শিল্প। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। মানুষের প্রয়োজন সামনে রেখে সীমিত মুনাফায় স্বাস্থ্য উপকরণ পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশ্যে এ খাতে বিনিয়োগ শুরু করেছি যাতে সবাই সহজে চিকিৎসা সেবা নিতে পারে।

শেয়ার বিজ: যেমনটা বলছিলেন, আমাদের ওষুধের গুণগত মান আন্তর্জাতিক মানের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠিত ওষুধ কোম্পানি রয়েছে বাজারে তাদের ভিড়ে আপনার প্রতিষ্ঠান কীভাবে টিকবে?

আক্কাস উদ্দিন: আপনি ইতোমধ্যে জেনে থাকবেন আমাদের প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েছি গুডম্যান ফার্মাসিউটিক্যালস। অর্থাৎ একজন মানুষের সব দিক ভালো হলে তাকে আমরা ভালো মানুষ বা গুডম্যান বলি তথা সম্মান দিয়ে থাকি। আমাদের কোম্পানিতেও ভালো দিকের সব থাকবে। ওষুধের প্রতিটি স্তর ভালো দিয়ে মোড়ানো থাকবে। নামের সঙ্গে ওষুধের মানের মিল থাকবে।

শেয়ার বিজ: একটু যদি খোলাসা করে বলেন?

আক্কাস উদ্দিন: বর্তমানে ওষুধ উৎপাদনে যে স্বীকৃত মানদণ্ড ও মেশিনারিজ ব্যবহার করা হয়, গুডম্যান ফার্মা সেখান থেকেই পথচলা শুরু করেছে। অর্থাৎ বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও কাঁচামাল দিয়ে ওষুধ উৎপাদন শুরু করেছি। অন্যরা ধীরে ধীরে এ পর্যায়ে এসেছে। আর আমরা শুরু করছি এখান থেকেই। এজন্য আমরা ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ ও যাচাইয়ে জাপানের আধুনিক মেশিনারিজ স্থাপন করেছি। কোয়ালিটি সেকশনের পুরোটা সাজানো হয়েছে জাপানের মেশিন দিয়ে। উৎপাদনের অন্যান্য খাতের মেশিনারিজও জাপানি টেকনোলজির সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে ভালো মানের। অর্থাৎ যে খাতের মেশিন, যে দেশ সবচেয়ে ভালোটি তৈরি করছে, সেখান থেকেই এনেছি। এজন্য আমরা গুণগতমানে কোনো আপস করব না। আমরা জানি আমাদের ওষুধই এক সময় মানুষ উপকৃত হবেন।

আমরা ঠিক করেছি, গুণগত মান ও কাঁচামালের সঙ্গে কোনো আপস করব না। সবচেয়ে ভালো পণ্য উপহার দেব। মুনাফা কম করব, কিন্তু উৎপাদন বেশি করব।

শেয়ার বিজ: আপনারা নাকি আফগানিস্তানে ওষুধ রপ্তানি শুরু করেছেন?

আক্কাস আলী: আপনি জেনে আনন্দিত হবেন, ২০১৮ সালে আমাদের ব্যবস্থাপনার অধীন আসে গুডম্যান ফার্মা। এজন্য প্রতিষ্ঠার দুই বছরের মধ্যে গুডম্যান ফার্মার উৎপাদিত ওষুধ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করেছে। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি বড় আমদানিকারক আমাদের ওষুধ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আমাদের সঙ্গে ১০ বছরের চুক্তি করেছে। গত ১ জুলাই রপ্তানির প্রথম চালান গেছে দেশটিতে। তারা আমাদের ৬২ প্রকার ওষুধ নিয়েছে। প্রথম চালানে ৫৩ হাজার ২৬০ মার্কিন ডলারের ওষুধ গিয়েছে। স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। দ্বিতীয় চালান পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। সোমালিয়ায় যাবে আমাদের ওষুধ। এ প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে চলতি মাসে শিপমেন্ট হবে আশা করছি। আফগানিস্তানের মানুষ বাংলাদেশকে খুব ভালোবাসে। তারা আমাদের ওষুধের মান নিয়ে সন্তুষ্ট। তারা বিদেশি ওষুধ ব্যবহারের তালিকায় প্রথম স্থানে রেখেছে বাংলাদেশকে। এজন্য আমরা সেখানে ওষুধ রপ্তানি শুরু করেছি।

শেয়ার বিজ: আর কোন কোন দেশে রপ্তানির পরিকল্পনা করছেন?

আক্কাস উদ্দিন: এশিয়া ও আফ্রিকার আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে রপ্তানি ইস্যুতে। এর মধ্যে রয়েছে সার্কভুক্ত দেশ শ্রীলঙ্কা। মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, কেনিয়া, ইয়ামেন, তানজানিয়া, উগান্ডা, চাঁদ ও নাইজেরিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছে। তারাও আমাদের ওষুধ নেয়ার আগ্রহ জানিয়েছে। কারণ ওষুধ রপ্তানি করতে কিছু সংস্থার অনুমোদন নিতে হয়। আমাদের ওষুধ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর অনুমোদন পেয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগে।

শেয়ার বিজ: রপ্তানি না স্থানীয় বাজারÑকোন খাতে অগ্রাধিকার দেবেন আপনারা?

আক্কাস উদ্দিন: অনেক খাত থেকে রপ্তানি করা সম্ভব। সরকারের সেই নীতি রয়েছে। আমাদের ওষুধের গুণগত মান ভালো। দক্ষ জনবল তৈরি হচ্ছে। অনেক দেশ থেকেই আমাদের কাঁচামাল আমাদানি করতে হয়। তাই ঠিক করলাম, ওষুধ রপ্তানি করেও বৈদেশিক মুদ্রা আনা সম্ভব। তবে মুনাফা কম করব। কিন্তু ওষুধ রপ্তানির পরিমাণ বাড়াব। এতে এক সময় আমাদের মুনাফাও বাড়বে। প্রচুর ব্যক্তির কর্মসংস্থান হবে।

শেয়ার বিজ: কত ধরনের ওষুধ তৈরি করছেন ইতোমধ্যে?

আক্কাস উদ্দিন: আমাদের ওষুধ আমাদের কোম্পানির লোকজনই খাবেÑএ সেøাগান কর্মীদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছি। ইতোমধ্যে আমরা ৬২টি প্রজাতির ওষুধ উৎপাদন করছি। আমি নিজেই এখন আমার কোম্পানির ওষুধ সেবন শুরু করেছি। আমার নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়। এতদিন আমার প্রয়োজনীয় ওষুধ গুডম্যান ফার্মায় উৎপাদন হতো না। এখন হওয়ায় তা সেবন শুরু করেছি। আমাদের জনবল আমাদের ওষুধই খাবে। গুণে ও মানে অন্য কোনো কোম্পানি আমাদের চেয়ে উন্নতমানের ওষুধ দিতে পারবে না।

শেয়ার বিজ: আপনাদের সিগনেচার ব্র্যান্ডের ওষুধ হবে কোন কোনটি?

আক্কাস উদ্দিন: কয়েকটি ওষুধ অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কাজ করবে বাজারে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে গ্যাস্ট্রিক ও ক্যালসিয়াম ঘাটতিজনিত ওষুধ। আমরা আমেরিকার এলএলসির কাছ থেকে কাঁচামাল ব্যবহার করছি। অথচ নিকটবর্তী দেশ থেকে এ কাঁচামাল আনলে ক্রয় ও পরিবহন খরচ কম হতো। কিন্তু মূল্য নির্ধারণে আমরা আমাদের নীতি বহাল রেখেছি।

বর্তমানে করোনার প্রকোপ সব দেশেই রয়েছে। এ সময় ক্যালসিয়াম ঘাটতি পূরণে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন। আমরা এজন্য বাজারে এনেছি গুডম্যান ফার্মার ‘ডিকোরাল’। এটি ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণে ফলদায়ক কাজ করবে।

শেয়ার বিজ: নতুন কোনো ওষুধ তৈরি করবেন, যা অন্যরা করেনি এখনও?

আক্কাস উদ্দিন: আমরা প্রায় সব ধরনের ওষুধ তৈরি করব। হƒদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এজন্য হƒদরোগের ওষুধ তৈরি করব। আর ক্যানসারের ওষুধ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আমদানি করতে হয় পুরোটা, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ক্যানসারের ওষুধ উৎপাদন করবে গুডম্যান ফার্মা। এর দাম বিদেশি ওষুধের চেয়ে কম হবে। সহজে হাতের নাগালে পাওয়া যাবে। আমরা আবারও বলছি, তুলনামূলক অনেক কম দামে দেশেই উৎপাদন করব ক্যানসারের ওষুধ। ক্যানসারসহ সব ধরনের ওষুধ দেশীয় বাজারের পাশাপাশি রপ্তানি করব। আমাদের রপ্তানি করার প্রায় অর্ধশতকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ অভিজ্ঞতা দিয়ে বাংলাদেশি ওষুধের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে অবদান রাখবে গুডম্যান ফার্মা।

শেয়ার বিজ: ওষুধ তৈরিতে গবেষণার প্রয়োজন আপনারা কি নিজস্ব আরঅ্যান্ডডি বিভাগ চালু করবেন?

আক্কাস উদ্দিন: ওষুধের নতুন প্রজাতি তৈরি, গুণমান বজায় রাখা ও মানদণ্ড অনুযায়ী উৎপাদন করতে তো নিজস্ব স্বতন্ত্র গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) বিভাগের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ওষুধ শিল্পে এগিয়ে গেলেও আমরা এখনও এ বিভাগে কাক্সিক্ষত মানে যেতে পারিনি। এখনও বিদেশনির্ভর। প্রচুর অর্থ খরচ করে সেবাটি আমাদের নিতে হচ্ছে। এ খাতে জনবল ও প্রয়োজনীয় মেশিনারিজ অনেক ব্যয়বহুল। রাষ্ট্র যদি এগিয়ে আসে তাহলে পুরো খাতের জন্য সুবিধা হবে। যতদিন না এ বিষয়ে আমরা স্বতন্ত্র হচ্ছি, ততদিন আমরা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেব।

শেয়ার বিজ: এবার আসি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠান নির্মাণে কত বিনিয়োগ হয়েছে?

আক্কাস উদ্দিন: ওষুধ শিল্প খাতে বিনিয়োগ শুরু করেছি ৫০ কোটি টাকা দিয়ে। গত দুই বছরে যা আরও বেড়েছে। এখন ৬২ প্রকার ওষুধ তৈরি করছি। ধীরে ধীরে এ সংখ্যা বাড়বে। ওষুধ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়বে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিনিয়োগও বাড়বে। বিনিয়োগ নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। অনেক ব্যাংকই এখন ঋণ দিতে চায় আমাদের। কিন্তু আমরা নিচ্ছি না।

শেয়ার বিজ: বিদেশি বিনিয়োগ নেয়ার ইচ্ছে আছে কি না?

আক্কাস উদ্দিন: আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছি বিদেশি বিনিয়োগ নেব। কিন্তু বিদেশি কোনো কোম্পানি বা ব্যক্তিকে পার্টনার অর্থাৎ মালিকানার অংশীদার করব না। তারা বিনিয়োগ করতে পারবেন শুধু। তা সময়ই বলে দেবে কখন আমরা নেব।

শেয়ার বিজ: এবার আসি ভিন্ন প্রসঙ্গে ওষুধের বিক্রি বাড়াতে চিকিৎসকদের সঙ্গে এক ধরনের অসম প্রতিযোগিতায় চলছে কিছু ওষুধ কোম্পানি আপনাদের অবস্থান কি হবে ক্ষেত্রে?

আক্কাস উদ্দিন: খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন। ওষুধের বিক্রি বাড়াতে কোম্পানিগুলোর মধ্যে এক ধরনের অসম প্রতিযোগিতা দেখা যায়, এটি ঠিক। এক শ্রেণির চিকিৎসকদের কিছু আর্থিক সুবিধাও দেয় অনেকে। কিন্তু এক্ষেত্রে গুডম্যান ফার্মা সে পথে যাবে না। আমরা ওষুধের প্রচার করব ঠিকই কিন্তু শুধু প্রচার সর্বস্ব হবো না। কারণ আমাদের ওষুধের গুণাগুণ ভালো। রোগাক্রান্তরা এ অসুধ সেবনে উপকার পাবেন। তারাই ওষুধের ব্যাপারে অন্যকে উৎসাহিত করবেন। চিকিৎসকরাও তখন ওষুধ প্রেসক্রিপশন করবেন। আমরা চিকিৎসকদের পেশাগত উন্নয়ন তথা প্রশিক্ষণ, বিষয়ভিত্তিক সেমিনারের বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করব। এভাবে চিকিৎসক ও রোগীদের সঙ্গে একটি বন্ধন তৈরি করে গুডম্যান ফার্মা।

শেয়ার বিজ: আপনাকে ধন্যবাদ

আক্কাস উদ্দিন: আপনাকে ও শেয়ার বিজ পরিবারের সবাইকে ধন্যবাদ। মহামারিতে সবাই নিরাপদে থাকুন, এই কামনা করছি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..