দেশেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে থাকায় ‘লোকসান কমাতে’ দেশের বাজারেও ডিজেলের দাম বাড়ানোর আলোচনা চলছে।

জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বিপিসি বলছে, সরকার-নির্ধারিত আগের দরে ডিজেল বিক্রি করতে গিয়ে এখন তাদের প্রতি লিটারে ১৩ থেকে ১৪ টাকা লোকসান হচ্ছে।

বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানিয়ে বিপিসি ডিজেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বলে এরই মধ্যে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। আর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর কথায়ও দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত এসেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম ‘অ্যাডজাস্ট করতে হবে’ বলে মন্তব্য করে বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘বিশাল লস হচ্ছে। সারা পৃথিবীতে তেলের দাম বেড়ে গেছে। কয়েক গুণ বেড়েছে। খুব খারাপ অবস্থা।’

মহামারির ধকল সামলে বিশ্ব অর্থনীতি গতিশীল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি তেলের বাজারও চড়ছে কয়েক দিন ধরে। প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ৮৩ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিপিসির পরিচালক (অপারেশন্স ও পরিকল্পনা) সৈয়দ মেহদী হাসান বলেন, মাস তিনেক আগে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম যখন ৭০ ডলার ছাড়াল, তখন থেকেই তাদের লোকসান শুরু হয়েছে।

দেশে খুচরা বাজারে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়। তাতে লিটার প্রতি ১৩ থেকে ১৪ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্প্রতি তারা ‘মৌখিকভাবে’ মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে বিপিসির বিপণন লোকসানের মুখে পড়েছে। প্রতিদিন ডিজেল ও ফার্নেস তেল বিপণনে ২০ থেকে ২২ কোটি টাকার মতো লোকসান হচ্ছে। তেলের দাম আরও বাড়লে এই লোকসানটাও বাড়বে। এখন লোকসান কীভাবে মিনিমাইজ করা হবে, সেটা সরকারের ব্যাপার।’

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, চাহিদা পূরণে প্রতিবছর ৪০ লাখ টন ডিজেল আমদানি করতে হয় বাংলাদেশকে। আর আকটেন আমদানি করা হয় এক লাখ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টন। প্রায় সমান পরিমাণ পেট্রোল উৎপাদন করা হয় দেশীয় উৎস থেকে।

আগে পেট্রোল ও অকটেন বিপণনে বিপিসির মুনাফা থাকলেও এখন তার বদলে লোকসান হচ্ছে বলে কর্মকর্তাদের ভাষ্য।

সরকার সর্বশেষ ২০১৬ সালে যখন প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ৬৫ টাকা ঠিক করে দিয়েছিল, তখন আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ ডলারের আশপাশে।

মেহদী হাসান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৭০ ডলার পর্যন্ত হলে দেশে ৬৫ টাকা লিটার দরে ডিজেল বিক্রি করে ‘ব্রেক ইভেনে’ থাকা যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে এর চেয়ে দাম কমলে লাভ থাকে, বাড়লে লোকসান হয়।

এ কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ফার্নেস অয়েলের দাম চলতি মাসে ৫৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৯ টাকা করা হয়েছে।

তবে ডিজেলের লোকসানই বেশি ভাবাচ্ছে বলে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, ‘ডিজেলটাই আমাদের জন্য বেশি ক্ষতিকারক। বিশ্ববাজারে দাম প্রচুর বেড়ে গেছে।’

বাংলাদেশে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল ব্যবহার হয়, তার ৭৩ শতাংশের বেশি ডিজেল। সড়ক ও নৌ-পরিবহন, কৃষির সেচ পাম্প এবং বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ নানা ক্ষেত্রে ডিজেলের ব্যবহার রয়েছে।

বিপিসির হিসাবে, ২০১৯-২০ বছরে বিপিসি ৫৫ লাখ তিন হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে। এর মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ ৪০ লাখ ২৩ হাজার মেট্রিক টন। দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের পক্ষে আরও একটি যুক্তি দেখিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইনডিয়াতে দুবার বাড়ানো হয়েছে। আমাদের সঙ্গে তারতম্য থাকলে বর্ডার এলাকা থেকে তেল স্মাগল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’


সর্বশেষ..