প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

দেশের উন্নয়নে নারীর উন্নয়ন অপরিহার্য: প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার বিজ ডেস্ক: দেশ থেকে দারিদ্র্য দূর করার লড়াইয়ে নারীর অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, দেশের উন্নয়নের জন্য নারীর উন্নয়ন অপরিহার্য। নারীকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। খবর বাসস, ইউএনবি।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেগম রোকেয়া দিবস ও রোকেয়া পদক-২০১৬ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে চায়। এ লড়াইয়ে নারীদের যুক্ত না করলে স্বপ্ন পূরণ সম্ভব হবে না। বর্তমান সরকার নারীর কথা মাথায় রেখে সব ধরনের উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীএ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য নারীর উন্নয়ন অপরিহার্য। নারীরা যদি শিক্ষাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে অগ্রসর না হয়, তাহলে কখনোই যথাযথভাবে সমাজ গড়ে উঠবে না। সবাইকে বুঝতে হবে, নারীদের অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন আমরা নিশ্চিত করতে চাই। যাতে প্রত্যেক নারী অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয় এবং উন্নত জীবনযাপন করতে পারে। নিজের সংসার ও সমাজকে যেন গড়ে তুলতে পারে।’

তিনি বলেন, শতবর্ষ আগের সমাজবাস্তবতায় বেগম রোকেয়া তখনই বুঝতে পারেন ‘নারীকে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েই মুক্তি অর্জন করতে হবে। শিক্ষাই হলো সেই স্বনির্ভরতার সোপান।’ আমরা সব সময় এটাই বিশ্বাস করি যে, শিক্ষা ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্যই শিক্ষার প্রতি আমরা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছি।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম।

অনুষ্ঠানে নারী উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আরোমা দত্ত এবং বেগম নুরজাহানকে ‘রোকেয়া পদক ২০১৬’ দেওয়া হয়।

পুরস্কার হিসেবে দুই লাখ টাকার চেক, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের পদক ও সনদপত্র বিজয়ীদের হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন কেবল শহর পর্যায় থেকে নয়, তৃণমূল থেকেই যেন হয়, সেই পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। এজন্য নারীদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আমরা করে যাচ্ছি। নারীদের কর্মক্ষেত্র সম্প্রসারণ করার এবং বিভিন্ন ধরনের কাজ যেন তারা করতে পারে, সেজন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি এবং তাদের বিভিন্ন ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হবেন মেয়েরা এটা কেউ কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি। যা হোক, আমি উদ্যোগ নিই এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী ভিসি ও প্রো-ভিসি নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছি এবং আছেন, তারা কিন্তু খুব ভালোও করছেন। এমনকি আমরা বুয়েটেও দিয়েছিলাম (নারী ভিসি) কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য তিনি হঠাৎ ক্যানসারে মারা যান।’

বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী প্রো-ভিসি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি করা হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভবিষ্যতেও আরও নারীকে দায়িত্ব দেওয়ার ইচ্ছা আছে। কারণ, আমরা দেখেছি নারীদের দায়িত্ব দিলেই তারা ভালোভাবে অ্যাডমিনিস্ট্রেশন চালাতে পারে।’

সরকারের নারী উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন করেছে। মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ সবেতনে চার মাস থেকে ছয় মাসে বর্ধিত করা হয়েছে। সন্তানের পরিচয়ের ক্ষেত্রে মায়ের নাম লেখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে যুগব্যাপী জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০১৩-২০২৫) প্রণয়ন করা হয়েছে। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৬ জাতীয় সংসদে অনুমোদন হয়েছে। যৌতুক নিরোধ আইন-১৯৮০ সংশোধন করে যৌতুক নিরোধ আইন-২০১৫ প্রণয়ন করা হচ্ছে। ৪০ লাখ নারী শ্রমিক গার্মেন্টে কাজ করে। দুই দফায় তাদের বেতন সর্বসাকুল্যে ২১৯ শতাংশ বাড়িয়ে এক হাজার ৬৬২ টাকা থেকে পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা করেছি। মহিলা উদ্যোক্তারা পুরুষদের থেকে পাঁচ থেকে ছয় শতাংশ কম সুদে ঋণ পাচ্ছেন।

দরিদ্র মায়ের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করা। ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তহবিল থেকে গার্মেন্টে কর্মরত স্তন্যদায়ী ও গর্ভবতী মাকেও ভাতা প্রদান করা হয়। দেশের ৬৪টি জেলায় ৪৮৯টি উপজেলার চার হাজার ৫৪৭টি ইউনিয়নে দুস্থ মহিলা উন্নয়ন (ভিজিডি) কর্মসূচি চাল, ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) সেপ্টেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত ২৩ হাজার ৮৮৮ জন নারীকে সেবা প্রদান, মহিলা অধিদফতরের মাধ্যমে ১৭ হাজার ৬৩৯টি সমিতিতে সরকারি অনুদান ও উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুস্থ নারীদের জন্য সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন চালু, বিধবা ও নিগৃহীত মহিলা ভাতাপ্রাপ্তদের সংখ্যা ১০ দশমিক ১২ লাখ থেকে ১১ দশমিক ১৩ লাখে উন্নীত করা এবং সন্তান সম্ভবা ও ধাত্রী মায়ের ভাতাও ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আলোচনা পর্ব শেষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘জ্বালাও বহ্নিশিখা’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।