প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার বিজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে খুলে দেওয়া হলো ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে মাওয়া হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে। গতকাল গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

একই সঙ্গে তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু নির্মাণ (সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় ছয় লেনের তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু (শাহ আমানত সেতু) অ্যাপ্রোচ সড়ক এবং ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের আওতায় খুলনা, বরিশাল ও গোপালগঞ্জ সড়ক জোনে নির্মিত ২৫টি সেতুর উদ্বোধন করেন তিনি।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প পদ্মা সেতু হলে তার সর্বোচ্চ সুবিধা যাতে দেশের মানুষ পায়, সেজন্য আধুনিক মহাসড়কের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রেখে এই এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি করা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম অনুষ্ঠানে এসব প্রকল্পের নানা দিক নিয়ে তথ্যচিত্র তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসের সঞ্চালনায়  সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

এশিয়ান হাইওয়ে করিডোরের অন্তর্ভুক্ত ঢাকা-খুলনা (এন-৮) মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী-মাওয়া এবং পাঁচ্চর-ভাঙ্গা অংশে এই এক্সপ্রেসওয়ে যুক্ত হবে পদ্মা সেতুর মধ্য দিয়ে, যা বর্তমানে নির্মাণাধীন রয়েছে।

এদিকে দুই পাশে সার্ভিস লেনসহ এই এক্সপ্রেসওয়েতে লেন রয়েছে মোট ছয়টি। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়ে গেলে ভাঙ্গা থেকে ঢাকা আসা-যাওয়ায় এক ঘণ্টাও লাগবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বিশ্বাস, এই সড়ক ইউরোপের অনেক সড়ককে হার মানাবে।

১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই এক্সপ্রেসওয়েতে ক্রসিং এড়িয়ে নিরবচ্ছিন্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ৪৪টি কালভার্ট, ১৯টি আন্ডারপাস, চারটি বড় সেতু, ২৫টি ছোট সেতু, পাঁচটি ফ্লাইওভার, দুটি ইন্টার চেইন ও চারটি রেলওয়ে ওভারপাস রয়েছে।

সড়ক ও জনপদ (সওজ) অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড। ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়ের প্রথম অংশ ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার, আর পদ্মা সেতুর অন্য পাড়ে পাঁচ্চর থেকে ভাঙ্গা-পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এই এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বাসিন্দাদের ঢাকা যাতায়াত সুগম হবে।

বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা, খুলনা বিভাগের ১০টি জেলা এবং ঢাকা বিভাগের ছয় জেলাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২২টি জেলার মানুষ সরাসরি এই এক্সপ্রেসওয়েতে উপকৃত হবেন বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য।

এদিকে বিশ্বব্যাংক অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েও সরে যাওয়ার পর পদ্মার মতো খরস্রোতা নদীতে সেতু নির্মাণের এত বড় ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ নিজের টাকায় বড় অবকাঠামো গড়ার আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু সড়কপথ নয়, নৌপথ, রেল ও সেইসঙ্গে আকাশপথ সব দিকেই আমাদের লক্ষ্য আছে। আমরা সমস্ত বাংলাদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার একটা নেটওয়ার্ক তৈরি করে দিচ্ছি, যা মানুষকে আরও উন্নয়নের সুযোগ দেবে; জীবনমান উন্নত করার সুযোগ পাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি এতে আমাদের এসব অঞ্চলে যে যোগাযোগটা তৈরি হবে, তার ফলে মানুষ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বিতা অর্জন করতে পারবে, অর্থনৈতিক উন্নতি হবে এবং আমাদের দেশের মানুষের জীবনমান আরও উন্নত হবে।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমরা সম্পূর্ণ বাংলাদেশে নিজস্ব অর্থায়নে এই সেতু নির্মাণ করছি। আমরা যে নিজস্ব অর্থায়নে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে পারি, এই আত্মবিশ্বাসটা আমাদের আছে। এটা ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় একটা আত্মসম্মানের ব্যাপার।’

পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিতে গিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হতে না হতেই ওয়ার্ল্ড ব্যাংক আমাদের ওপর দোষারোপ করেছিল দুর্নীতির। আমি সেখানে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম, এখানে দুর্নীতি হয়নি। আমাদের অনেকেই এখানে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল যে, এখানে দুর্নীতি হয়েছে, এটা নিয়ে মামলাও হয়। কানাডার কোর্টে যে মামলা হয়, সেখানে প্রমাণিত হয়Ñএখানে কোনো দুর্নীতি হয়নি। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সব অভিযোগ ছিল বানোয়াট। কিন্তু এটা আমাদের জন্য একটা সম্মানের ব্যাপার ছিল। কিন্তু এ ধরনের একটা অভিযোগ যখন নিয়ে আসে, তাতে আমাদের চরমভাবে অসম্মান করা হয়েছিল। তাই এটাকে আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি এবং আমি কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলাদেশের জনগণের প্রতি যে, তখন তারা সবাই আমাদের সমর্থন দিয়েছে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..