শেষ পাতা

দেশের ১২০ স্থানে আয়কর মেলা, উদ্বোধন ১৪ নভেম্বর


* অর্থমন্ত্রীর রিটার্ন দাখিলের মাধ্যমে মেলার উদ্বোধন

* ঢাকায় ১৪ ও ঢাকার বাইরে ১৩ নভেম্বর ট্যাক্স কার্ড প্রদান করা হবে


নিজস্ব প্রতিবেদক



আগামী ১৪ নভেম্বর শুরু হচ্ছে ‘দশম আয়কর মেলা, ২০১৯’। ঢাকাসহ দেশের সব বিভাগীয় শহর, ৬৪ জেলা ও ৫৬ উপজেলায় মেলা অনুষ্ঠিত হবে। চলবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত।

১৪ নভেম্বর সকালে ঢাকার অফিসার্স ক্লাবে মেলার উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। উদ্বোধনের পর মেলায় অর্থমন্ত্রী নিজ আয়কর বিবরণী দাখিল করবেন। ওইদিন বিকাল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর হোটেল রেডিসনে ১৪১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে ট্যাক্স কার্ড প্রদান করবেন অর্থমন্ত্রী।

এনবিআর সূত্র জানায়, ১৪ নভেম্বর মেলা শুরু হয়ে চলবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। এর মধ্যে রাজধানীসহ সব বিভাগীয় শহরে সাত দিন, জেলা শহরগুলোতে চার দিন, ৪৮ উপজেলায় দুই দিন এবং আট উপজেলায় দিনব্যাপী করমেলার আয়োজন করা হবে। এবারের কর মেলার সেøাগানÑ‘সবাই মিলে দেব কর, দেশ হবে স্বনির্ভর।’

রাজধানীতে মেলা হবে বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাব প্রাঙ্গণে। ঢাকার মেলায় এবার করদাতাদের সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে। গতবছর হেল্পডেক্স ৩৩টি হলেও এবার থাকবে ৫৩টি। ই-টিআইএন জোন গতবছর ছিল এক হাজার বর্গফুট, এবার হবে দুই হাজার ২৫০ বর্গফুট। রিটার্ন বুথ গতবছর ছিল ৪৯টি, এবার থাকবে ৫২টি। রিটার্ন পূরণের স্থান দুই হাজার ৫০০ বর্গফুট থেকে বৃদ্ধি করে সাত হাজার বর্গফুট করা হয়েছে। বেসিক ব্যাংক বুথ তিনটি থেকে বৃদ্ধি করে চারটি, এটিএম বুথ একটি থেকে বৃদ্ধি করে দুটি করা হয়েছে। মিডিয়া সেন্টার ও মেডিক্যাল বুথের জায়গা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে ১৪১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে ট্যাক্স কার্ড প্রদান করা হবে। এছাড়া জেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ কর প্রদানের জন্য ৩৭৪ জন সর্বোচ্চ আয়কর প্রদানকারী ও ১৪৭ জন দীর্ঘ সময় আয়কর প্রদানকারীকে সম্মাননা প্রদান করা হবে। ঢাকার বাইরে ১৩ নভেম্বর সম্মাননা প্রদান করা হবে। এরই মধ্যে সর্বোচ্চ করদাতাদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা বলেন, এবার দেশের ১২০ স্থানে আয়কর মেলার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারও করদাতাদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার লক্ষ্য থাকবে। ডিজিটাল বাংলাদেশে এবারের আয়কর মেলায় ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে বসে গুগল ম্যাপে আয়কর মেলার স্পটে নাম লিখে সার্চ দিলেই করদাতা মেলার অবস্থান, দূরত্ব ও সময় সম্বন্ধে অবগত হবে। ফলে করদাতাদের আয়কর মেলার প্রাঙ্গণ খুঁজতে বাড়তি সময় ব্যয় হবে না। তিনি বলেন, এবারের মেলার বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে, করদাতারা অনলাইনে িি.িধুশড়ৎসবষধ.মড়া.নফ প্রবেশ করে আয়কর বিবরণীর ফরম পূরণ করে মেলায় এসে জমা দিতে পারবেন। এ ছাড়া আয়কর-সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য পাওয়া যাবে এই ওয়েবসাইটে।

সূত্রমতে, জেলার বাইরে যে ৫৬ উপজেলায় আয়কর মেলার আয়োজন করা হয়েছেÑঢাকার কেরানীগঞ্জ, সাভার ও আশুলিয়া, গাজীপুরের কালিয়াকৈর, শ্রীপুর, কাপাসিয়া ও কালীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁও, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা, ভালুকা ও গফরগাঁও, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ও মধুপুর, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, পটিয়া ও লোহাগড়া, সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও বালাগঞ্জ, যশোরের ঝিকরগাছা ও নওয়াপাড়া, পটুয়াখালীর গলাচিপা ও কলাপাড়া, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম ও লাকসাম এবং কক্সবাজারের চকরিয়া ও টেকনাফ। এ ছাড়া লালমোহন (ভোলা), নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি), নলছিটি (ঝালকাঠি), কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ), ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া), মোংলা (বাগেরহাট), কালীগঞ্জ (সাতক্ষীরা), টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ), বদরগঞ্জ (রংপুর), ফুলবাড়ী (দিনাজপুর), বোচাগঞ্জ (পঞ্চগড়), সৈয়দপুর (নীলফামারী), পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও), ছাতক (সুনামগঞ্জ), শ্রীমঙ্গল ও কুলাউড়া (মৌলভীবাজার), চৌমুহনী (নোয়াখালী), আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া), নালিতাবাড়ী (শেরপুর), শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ), গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা), মহাদেবপুর (নওগাঁ), ভবানীগঞ্জ (রাজশাহী), ঈশ্বরদী (পাবনা), মাধবদী (নরসিংদী), রায়পুরা (নরসিংদী), সিংড়া (নাটোর), জাজিরা (শরীয়তপুর) ও ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)।

এনবিআর সূত্রে আরও জানা যায়, প্রতিবছরের মতো করদাতাদের জন?্য এবারের মেলায়ও আয়কর বিবরণীর ফরম থেকে শুরু করে কর পরিশোধের জন্য ব্যাংক ও বুথ থাকবে। একই ছাদের নিচে সব সেবা মিলবে। করদাতাকে শুধু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে আনতে হবে। মেলায় নতুন করদাতারা ইলেকট্রনিক কর শনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) নিতে পারবেন। এ ছাড়া ই-পেমেন্টের জন্য পৃথক বুথ থাকবে। মুক্তিযোদ্ধা, নারী, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ করদাতাদের জন্য থাকবে আলাদা বুথ। গতবারের মতো এবারও মেলায় অডিও-ভিডিও সম্প্রচারের মাধ্যমে কর শিক্ষণ প্রদান করা হবে। কর সচেতনতা তৈরিতে এই কর শিক্ষণ পদ্ধতির ব্যবস্থা থাকবে।

২০১০ সাল থেকে এনবিআর কর প্রদানে উৎসাহিত করতে আয়কর মেলা চালু করে। প্রথম দিকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ওই মেলা আয়োজন করা হয়। পরবর্তীকালে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মেলা সম্প্রসারণ করা হয়।

সর্বশেষ..