প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

দেশের ৫৯ শতাংশ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এক্স-রে হয় না

বিএসএমএমইউ’র গবেষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ৫৯ শতাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের এক্স-রে করা হয় না, কারণ সেখানে হয় এক্স-রে যন্ত্র নেই, অথবা যন্ত্র থাকলেও তা নষ্ট। ৪১ শতাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রক্ত পরিসঞ্চালন করা হয় না। পাশাপাশি ৬৩ শতাংশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা নেই।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ চিত্র পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পাবলিক হেলথ ও ইনফরমেটিক্স বিভাগের একদল গবেষক। তারা ৯টি জেলা হাসপাতাল ও ১৭টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর একটি গবেষণা করেছেন। সেই গবেষণার তথ্য গতকাল সোমবার বিকালে বিএসএমএমইউতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

গবেষণা ফল উপস্থাপন করেন গবেষক দলের প্রধান এবং পাবলিক হেলথ ও ইনফরমেটিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. খালেকুজ্জামান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ স্বাস্থ্যসেবার জন্য জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। এসব প্রতিষ্ঠানে সেবা দেয়ার সময় চিকিৎসকরা বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ বা সমস্যার মুখোমুখি হন, যা স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দেখা দেয়।

জরিপে দেখা গেছে, ১১ শতাংশ জেলা হাসপাতালে এক্স-রে ও ইসিজি পরিষেবা নেই। ৭৩ শতাংশ উপজেলা হাসপাতালে ইসিজি হয় না। একটি জেলা হাসপাতালেও চিকিৎসকদের ব্যবহার-উপযোগী ডরমিটরি বা কোয়ার্টার নেই। এসবের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পদে জনবল না থাকার তথ্যও জরিপে উঠে এসেছে।

অবকাঠামোগত সমস্যার মধ্যে রয়েছে সেবাকক্ষ প্রয়োজনের তুলনায় কম, আয়তনে ছোট, পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ। অপরিচ্ছন্ন টয়লেটের পাশাপাশি নিরাপদ পানির অভাব। রাজনৈতিক নেতাদের অনাকাক্সিক্ষত চাপ ও প্রভাব এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কিছু গণমাধ্যমকর্মীর অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ চিকিৎসকদের সেবাদানে বাধা সৃষ্টি করে। গবেষকদের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি সুপারিশও করা হয়। এর মধ্যে সব ধরনের শূন্য পদ পূরণ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ অন্যতম।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য মো. শারফুদ্দিন আহমেদ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক টিটো মিয়া।