দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

দেশে উন্নয়ন সহযোগীদের ব্যয়ের স্বচ্ছতা গুরুত্ব পাবে

উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক শুরু কাল

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুই বছর পর ফের অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) বৈঠক। এবারের বৈঠকের মূল লক্ষ্য আসন্ন অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনের বিষয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের অবহিত করে সে অনুযায়ী তাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা। স্বাভাবিকভাবে উন্নয়ন সহযোগীরা দেশের বিভিন্ন খাতের স্বচ্ছতা ও সুশাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করে। কিন্তু উন্নয়ন সহযোগীরাও বিভিন্ন সময় সরকারকে না জানিয়ে দেশের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অর্থ ব্যয় করে। এটি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঘোষণার পরিপন্থি। তাই পরবর্তীকালে উন্নয়ন সহযোগীরা যাতে সরকারকে অবহিত না করে কোনো অর্থ ব্যয় না করে, সে বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের বিষয়টিও এবারের বৈঠকে গুরুত্ব পাবে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে গতকাল বিডিএফের বৈঠকপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ। এ সময় বিডিএফের বৈঠক আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইআরডির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সচিব বলেন, উন্নয়ন সহযোগীরা সরকারকে অবহিত না করেই প্রতিবছর দেশে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি ডলার ব্যয় করে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঘোষণা অনুযায়ী, কোনো উন্নয়ন সহযোগী বাংলাদেশে একটি টাকা ব্যয় করলেও সে বিষয়ে জবাবদিহি করার বিধান রয়েছে। কাজেই এ ধরনের ব্যয়ের ক্ষেত্রে তারা নিজেদের অঙ্গীকারই ভঙ্গ করছে। যদিও তারা বলে, এ ব্যয়ের বিষয়ে তারা বছরান্তে এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোকে অবহিত করে। এটি যথাযথ প্রক্রিয়া হতে পারে না। এ বিষয়ে তারা যাতে স্বচ্ছতা অবলম্বন করে, সে বিষয়েও এবারের ফোরামে আলোচনা হবে।

তিনি বলেন, উন্নয়ন সহযোগীরা সুশাসন ও স্বচ্ছতার বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে। বাংলাদেশ সরকারও এ বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। এরই অংশ হিসেবে দুর্নীতির বিষয়ে শূন্য সহনশীলতার নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার সে অনুযায়ী কাজ করছে। কিন্তু উন্নয়ন সহযোগীদেরও স্বচ্ছতার বিষয়টি দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করা উচিত। তিনি জানান, উন্নয়ন সহযোগীরা কোথায় কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ দস্তাবেজ তৈরির লক্ষ্যে এইড ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এইমস) নামে একটি সফটওয়্যার উন্নয়ন করা হয়েছে। সেখানে সবার তথ্য দেওয়ার কথা। কিন্তু এখনও অনেক উন্নয়ন সহযোগী সে তথ্য দিচ্ছে না। এসব বিষয়ে এবারের বৈঠকে আলোচনা হবে।

এদিকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় বিডিএফের বৈঠকের সূচিতেও পরিবর্তন এসেছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৩০ জানুয়ারি ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠানের কথা ছিল। তখন ইআরডি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবারের বৈঠক এক দিনে শেষ করতে, কিন্তু সরস্বতী পূজাকে কেন্দ্র করে ভোটের তারিখ দুদিন পিছিয়েছে। ফলে ইআরডিও অন্যবারের মতো বৈঠক দুদিন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আগামীকাল সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন সচিব।

এবারের বৈঠকে মোট ৯টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের এক দিনের সভায় মোট ৯টি অধিবেশনে যেসব বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হবে, তার মধ্যে প্রধান অধিবেশন বা কিনোট সেশনের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে‘এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিষয়ে অংশীদারিত্ব’। এ অধিবেশনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করবেন জিইডির সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) ড. শামসুল আলম। অধিবেশনটিতে সভাপতিত্ব করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আলোচনায় অংশ নেবেন এফবিসিসিআই’র সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম ও ব্র্যাক গ্লোবাল বোর্ডের সভাপতি আমিরা হক। অন্য যে অধিবেশনগুলো অনুষ্ঠিত হবে, সেগুলো হলো উন্নয়নে ব্যক্তি খাতের অংশগ্রহণ ও বাণিজ্য সহজীকরণ, আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় উদ্ভাবনী অর্থায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অংশীদারিত্ব ও অর্থায়ন, গ্রামীণ বিবর্তন: সবার জন্য সুযোগের সমতায়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবা, সবার জন্য গুণগত শিক্ষা, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগানো, টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা ও সবশেষে অনুষ্ঠিত হবে সংবাদ সম্মেলন, যেখানে দিনব্যাপী আলোচনার সারবস্তু গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ড. শামসুল আলম শেয়ার বিজকে বলেন, এবারের আলোচনার প্রধান প্রতিপাদ্যই হবে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগীদের অংশীদারিত্বের ওপর। মূলত তিনটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বাস্তবায়ন করা হবে। এগুলো হলো সপ্তম, অষ্টম ও নবম। এরই মধ্যে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ প্রায় শেষ। এবারের ফোরামে সপ্তম পরিকল্পনার অগ্রগতি ও অর্জন বিষয়েও উন্নয়ন সহযোগীদের ধারণা দেওয়া হবে। পাশাপাশি অষ্টম পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমাদের লক্ষ্যগুলো তুলে ধরে সে অনুযায়ী উন্নয়ন সহযোগীদের অংশীদারিত্ব কামনা করা হবে।

মূলত উন্নয়ন অংশীদার বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, এনজিও ও গবেষণা সংস্থা এতে অংশ নেয়। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্পদের ঘাটতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তারা মতামত তুলে ধরে। ২০১৮ সালের আগে ২০১৫ ও ২০১০ সালে বিডিএফ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৮ সালে বিডিএফের বৈঠকে দেশি-বিদেশি ৭০০ প্রতিনিধি অংশ নেন। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্পদের ঘাটতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তারা মতামত তুলে ধরেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..