Print Date & Time : 3 June 2020 Wednesday 11:33 pm

দেশে প্রথমবারের মতো ভায়াগ্রা পাউডার শনাক্ত

প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০১৯ সময়- ১১:৪৪ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারত থেকে আনা বিভিন্ন ধরনের পণ্যের একটি চালানে ২০০ কেজি ভায়াগ্রা (সিলডেনাফিল সাইট্রেট) ছিল বলে নিশ্চিত হয়েছে বেনাপোল কাস্টম হাউজ। তিন মাস আগে চালানটি আটক করা হলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সম্প্রতি বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে তারা। বেনাপোল বন্দর দিয়ে এ ধরনের চালান আটকের ঘটনা এটাই প্রথম। গতকাল বেনাপোল কাস্টম হাউজে সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী এ তথ্য জানান।
বিশ্বব্যাপী মানবসমাজের নীরব ঘাতক ভায়াগ্রা। বিশ্ব কাস্টমস সংস্থার (ডব্লিউসিও) ১৮২ সদস্য দেশকে মাদক, বিস্ফোরক ও এ ধরনের ক্ষতিকর পণ্য চোরাচালানের বিষয়ে দীর্ঘদিন সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও বাংলাদেশেই প্রথম উদ্ঘাটিত হলো এটি। দীর্ঘ নজরদারি আর কাস্টম হাউজের আধুনিক কেমিক্যাল ল্যাবে প্রথমবারের মতো পরীক্ষায় ভায়াগ্রা শনাক্ত হলো।
কমিশনার বলেন, রাজধানীর কলাবাগানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান রেড গ্রিন ইন্টারন্যাশনাল ভারত থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্যের একটি চালান আমদানি করে। রাজস্ব পরিশোধ করে বন্দর থেকে চালানটি খালাস নেওয়ার সময় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কাস্টমস কর্মকর্তারা চালানটি আটক করেন। গত ১৬ এপ্রিল চালানটি আটক করা হয়। এতে ছিল ৫০০ কেজি ফ্লেভার, ২০০ কেজি সাদা পাউডার, এক লাখ ৯৪ হাজার পিস সিরিঞ্জ, ১১০.৭৭ কেজি ইমিটেশন জুয়েলারি, ৩০৩ পিস শাড়ি, ১৪ পিস ওড়না, ১০ পিস কামিজ, ৯ পিস সালোয়ার, ৩৮টি থ্রিপিস, ১৯ পিস শার্ট ও ১২২ পিস প্যান্ট। পরে কাস্টম হাউজের নিজস্ব ল্যাবে ২০০ কেজি পাউডার পরীক্ষা করে ভায়াগ্রা শনাক্ত করা হয়। অত্যন্ত স্পর্শকাতর পণ্য বিবেচনায় বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য এর নমুনা খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) পাঠানো হয়। তিন মাস পর কুয়েট পরীক্ষা করে পণ্যটিকে ৯৮ শতাংশ ভায়াগ্রা বলে রিপোর্ট দেয়। কুয়েটের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া গেছে বিষয়টি।
তিনি আরও জানান, বিশ্ব কাস্টমস সংস্থা থেকে ১৮২ সদস্য দেশকে মাদক, বিস্ফোরক এবং এ ধরনের ক্ষতিকর পণ্য চোরাচালানের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও বাংলাদেশেই প্রথমবারের মতো ভায়াগ্রা আটক হলো। উল্লেখ্য, অন্যান্য চিকিৎসার পাশাপাশি যৌন উত্তেজনা বাড়াতেও ভায়াগ্রা ব্যবহার করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আহাদ এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য যুগ্ম কমিশনারের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে এ ধরনের আরও একটি চালান সন্দেহের তালিকায় রেখে খালাস স্থগিত করে অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে জানান কমিশনার।