প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

দেশে হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্টেই সুস্থ হবে থ্যালাসেমিয়া রোগী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাধারণত থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীর শরীরে বাইরে থেকে রক্ত দিতে হয়। কারণ, তার শরীরে রক্ত তৈরি হয় না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এখন থেকে দেশেই হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট (প্রতিস্থাপন) চিকিৎসা পাওয়া যাবে। এই চিকিৎসার পর রোগীর শরীরে রক্ত তৈরি হবে। সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন পাবেন। আর বিদেশ যেতে হবে না। এতে অতিরিক্ত খরচ ও ভোগান্তি থেকেও বেঁচে যাবেন রোগীর স্বজনরা। এমন খবরই দিলো ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল। দেশে প্রথমবারের মতো এক শিশুর (২১ মাস) থ্যালাসেমিয়া রোগের চিকিৎসা সম্পন্ন করেছে হাসপাতালটির চিকিৎসকরা। হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিশুটির চিকিৎসা সম্পন্ন করা হয়েছে। গতকাল এক সংবাদ সমেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

হাসপাতালের হেমাটোলজি ও স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগের কো-অর্ডিনেটর ও সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ বলেন, ‘গত ৫ মে শিশুটির হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। দেশের থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের জন্য এটি একটি সুখবর। এর মাধ্যমে এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকার হাত ধরে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।’

ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ বলেন, ‘সাধারণত শিশুর ২-৫ বছর বয়সের মধ্যেই এই ট্রান্সপ্লান্ট করতে হয়, তবে ২ বছরের আগেও করা যায়। এর জন্য ৮-১০ লাখ টাকা খরচ হয়। মোট চার মাসের মতো সময় দরকার হয়।  ট্রান্সপ্লান্ট এক দিনেই করা হয়। তারপর আরও ১ বছরের মতো সময় পর্যন্ত ওষুধ খেতে হবে। এর মধ্যে প্রথম তিন মাস ২০-৫০ হাজার টাকা করে খরচ হয়। তারপর পর্যায়ক্রমে খরচ কমে আসবে। এক বছরের মধ্যে শরীরে রক্ত তৈরি শুরু হবে। তার শরীরে বাইরে থেকে আর আলাদাভাবে রক্ত দিতে হবে না।’

শিশুটির বাবা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোস্তাক আহমেদ শেয়ার বিজকে বলেন, ‘গত ১৯ ফেব্রæয়ারি তারা এভারকেয়ারে আসেন। ২৩ মার্চ অপারেশনের জন্য ভর্তি নেয় হাসপাতাল। ৫ মে অপারেশন করা হয়। তার দুই ছেলের মধ্যে এই ছেলেটি ছোট। তার নাম শিহাব খন্দকার। বড় ছেলে থ্যালাসেমিয়া বাহক। সে সুস্থ রয়েছে। ছোট ছেলেটিও এখন স্বাভাবিক। তার হাসিমাখা মুখ দেখে তারাও খুশি। হাসপাতালের আন্তরিক সেবায় তিনি সন্তুষ্ট।’

ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ বলেন, ‘থ্যালাসেমিয়া একটি জেনেটিক্যাল বা বংশগত রোগ। জেনেটিক্যালি বিভিন্ন ডেলিশন, মিউটিশনের কারণে থ্যালাসেমিয়া হয়ে থাকে। আমাদের দেশে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত, যাদের অধিকাংশই এ সম্পর্কে অবগত নন। কারণ তাদের বেশিরভাগই বাহক বা ক্যারিয়ার যা সহজে ধরা পড়ে না, ফলে একে সাইলেন্ট কিলারও বলা হয়ে থাকে। এর মধ্যে ৫০ থেকে ৭০ হাজার থ্যালাসেমিয়া রোগী  আছেন যাদের চিকিৎসা প্রয়োজন। বর্তমানে এই রোগের একমাত্র কিউরেটিভ ট্রিটমেন্ট বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় ডোনার পাওয়া। তাই এর বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ হাফ-ম্যাচ ডোনার দ্বারা ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়। হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট বা হাফ ম্যাচ ট্রান্সপ্লান্ট এমন এক পদ্ধতি যেখানে পরিবারের যে কেউ যেমন বাবা, মা, ভাই, বোন ডোনার হিসেবে ভ‚মিকা পালন করতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীর ডোনার নিয়ে আর ভোগান্তি পোহাতে হয় না।’

মেডিকেল সার্ভিসেসের ডেপুটি ডিরেক্টর ডা. আরিফ মাহমুদ বলেন, ‘ব্ডলা ক্যানসার রোগীদের জন্য সব ধরনের চিকিৎসা সাশ্রয়ী মূল্যে এভারকেয়ার হাসপিটালে পাওয়া যাচ্ছে। তাই চিকিৎসার জন্য আর বিদেশ যেতে হবে না, এক ছাদের নিচে আমরা আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এই হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট বা হাফ ম্যাচ ট্রান্সপ্লান্ট বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবা খাতে একটি মাইলফলক।’

সংবাদ সম্মেলনে এভারকেয়ার হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ডা. রত্নদ্বিপ চাস্কার, চিফ মার্কেটিং অফিসার ভিনয় কাউল ও শিশুটির বাবা উপস্থিত ছিলেন।