সম্পাদকীয়

দেশ এগোক মানসম্মত চা উৎপাদনে

শেরপুরের নকলা উপজেলায় সমতল ভূমিতে চা চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন এক উদ্যোক্তা। শুধু পাহাড়ি অঞ্চলেই চা বাগান করা যায় প্রচলিত এ ধারণার পরিবর্তন ঘটে ২০০৩ সালে, যখন একটি প্রতিষ্ঠান পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় কয়েক বিঘা জমিতে চা বাগান গড়ে তোলে। এরপর আশপাশের উপজেলাসহ উত্তরবঙ্গের অন্য জেলাগুলোতেও ছোটখাটো উদ্যোগে চা চাষ শুরু হয়। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও সুনাম অর্জন করে সেগুলো। তবে শেরপুরে চা চাষে সাফল্যের খবর এবারই প্রথম। শেয়ার বিজের গতকালের সংখ্যায় এ নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এক উদ্যোক্তা ২০১১ সালে লালমনিরহাট গিয়ে সমতল ভূমিতে চা চাষ হতে দেখে উৎসাহী হন। পরে পঞ্চগড় গিয়ে চা চাষে প্রাথমিক ধারণা লাভ করেন এবং সেখান থেকেই নকলায় নিয়ে আসেন সাত হাজার চারা। আড়াই একর জমিতে শুরু করেন চা চাষ। দু বছরের মাথায় নিজের লাগানো গাছের কচি পাতা থেকে চা তৈরি করে পরখ করে নিশ্চিত হন তার মান সম্পর্কে। এরপর স্থানীয় বাজারে সরবরাহ শুরু করেন সে চা। উদ্যোক্তার নামানুসারে সেটি ‘সাগর চা’ হিসেবে শেরপুরে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রতি কেজি চা পাতার দাম পড়ছে ২৩০-২৫০ টাকা। এ ধরনের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে ওই এলাকার অনেক কৃষক ও বেকার যুবক চা বাগান করতে উৎসাহী হচ্ছেন। তারা চা চাষ শুরু করলে সেখানে বহু কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সমৃদ্ধ হবে স্থানীয় অর্থনীতিও।

চা চাষে সাফল্যের সুযোগ থাকলেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সারাবছর সব ধরনের চা উৎপন্ন করা যায় না। আবার একেক মৌসুমে চায়ের মান হয় একেকরকম। বছরজুড়ে উন্নতমানের চা সরবরাহের জন্য তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হয়। সেজন্য প্রয়োজন হয় সংরক্ষণের স্থান ও উন্নত প্রযুক্তির। স্থানীয় পর্যায়ের চা চাষিরা সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা আশা করেন। কেননা অল্প পুঁজিতে বড় করে এ ব্যবসা সম্ভব নয়। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চা বাজারজাত করতে সংগঠিত সাপ্লাই চেইন বজায় রাখা জরুরি। প্রয়োজন প্রচার-প্রচারণার। নইলে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকা কঠিন। অল্প জায়গায় চা বাগান করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন বিঘার পর বিঘা জমি। জনবহুল দেশে চা উৎপাদনে কতটুকু জমি বরাদ্দ করলে অন্যান্য খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, সেটিও ভেবে দেখা প্রয়োজন।

এ ভূখণ্ডে চা চাষ শুরু হয় ১৮৪০ সালে, চিটাগং ক্লাব প্রাঙ্গণে। সিলেটে আনুষ্ঠানিকভাবে পাহাড়ি জমিতে চা বাগান করা হয় ১৮৫৪ সালে। এর প্রায় ১৫০ বছর পরে ২০০৩ সালে পঞ্চগড়ে সমতল ভূমিতে অর্গানিক পদ্ধতিতে শুরু হয় চা চাষ। বাংলাদেশের চায়ের সুখ্যাতি রয়েছে বিদেশে। বড় বড় প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে চা ব্যবসায়। সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আমাদের চায়ের বাজার আরও সম্প্রসারিত হোক। গবেষণার মাধ্যমে আবিষ্কৃত হোক আরও উন্নতমানের চা পাতা। সর্বোপরি, চা চাষে নতুন যে সম্ভাবনার দুয়ারগুলো খুলছে, সেগুলো বিবেচিত হোক গুরুত্বের সঙ্গে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..