সারা বাংলা

দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মস্থলমুখী মানুষের ঢল

প্রতিনিধি, রাজবাড়ী: স্বজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে গতকাল শনিবার সকাল থেকে কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের চাপে দেশের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত দৌলতদিয়া ঘাটে মানুষের ঢল নামে। এতে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় দুপুরের পর থেকে বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারের সারি দীর্ঘ হতে থাকে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে গতকাল বিকাল নাগাদ দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের গোয়ালন্দ পৌরসভা এলাকা পর্যন্ত সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। এ সময় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
ঈদের ছুটি কাটিয়ে জীবিকার তাগিদে আবার ঢাকামুখী হতে শুরু করেছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ কারণে গতকাল সকাল থেকেই রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। বিকাল নাগাদ দৌলতদিয়ায় ফেরি ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের গোয়ালন্দ পৌরসভা এলাকা পর্যন্ত সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। আটকাপড়া সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এদিকে পথে পথে যানবাহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ে ভোগান্তিতে পড়ার অভিযোগ করেছেন অনেকেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের গোয়ালন্দ পৌরসভা এলাকা পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ঢাকামুখী পরিবহনের দীর্ঘ সারি। অপরদিকে দৌলতদিয়া বাইপাস সড়কের এক কিলোমিটারজুড়ে নদী পারের অপেক্ষায় আটকে আছে প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় হয় যানবাহনের সারি। এদিকে ঘাট থেকে মহাসড়কের ছয় কিলোমিটার দূরে গোয়ালন্দ পৌরসভার পদ্মার মোড় এলাকা থেকে ব্যাক্তিগত গাড়িগুলো বিকল্প সড়ক দিয়ে প্রায় আট কিলোমিটার ঘুরিয়ে ঘাটে পাঠাচ্ছে পুলিশ। গ্রামের সরু সড়ক দিয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছাতে এসব যানবাহনের যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ম্যানেজার (বাণিজ্য) আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার বাস ও ঈদফেরত যাত্রী পারাপারে সচল রাখা হয়েছে ১৯টি ফেরি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ও ফেরিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা না দিলে ফেরি স্বাভাবিকভাবেই চলবে। নদীতে প্রচণ্ড স্রোত তাছাড়া শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুট থেকেও কিছু যানবাহন এ রুটে আসছে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপেই কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটের কর্মরত ট্রাফিক সার্জেট মেহেদী হাসান জানান, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে অতিরিক্ত যানবানের চাপের কারণে কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে যাত্রীরা যাতে ভোগান্তি ছাড়াই নিরাপদে তাদের গন্তবে পৌঁছতে পারে সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে তিনি জানান, কারও বিরুদ্ধে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দৌলতদিয়া ঘাটে যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত পুলিশ ফোর্স নিয়োজিত রয়েছে। সাদা পোশাকে কাজ করছে গোয়েন্দা পুলিশ। কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়া মানুষ ঢাকায় ফিরছে।

সর্বশেষ..