সারা বাংলা

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে তীব্র স্রোত ফেরি সংকটে অচলাবস্থা

 

 

প্রতিনিধি, রাজবাড়ী: পদ্মা নদীতে স্রোত বেড়ে যাওয়া ও ফেরি স্বল্পতার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে নৌযান চলাচলে প্রায় অচলবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রচণ্ড স্রোতের বিপরীতে মাত্র ১৩টি ফেরি চলছে ধীরগতিতে। এমন অচল অবস্থা চলছে এক সপ্তাহ ধরে। ফলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।
জানা গেছে, তীব্র স্রোতের কারণে আগে থেকেই বন্ধ হয়ে আছে রো-রো ফেরি খানজাহান আলী ও ইউটিলিটি ফেরি শাপলা-শালুক। এছাড়া এ রুটের পাঁচটি ফেরি সংস্কারের জন্য প্রায় এক মাস ধরে আছে নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে। গত শুক্রবার পর্যন্ত এ রুটে সচল ছিল মাত্র ১১টি ফেরি। গতকাল শনিবার সকালে হাসনাহেনা ও রজনীগন্ধা ইউটিলিটি ফেরি দুটি যোগ হয়ে ১৩টি ফেরি চলাচল করছে। কিন্তু ফেরিগুলোর নদী পার হতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দুই-তিনগুণ সময় বেশি লাগছে। উভয় পাড়ে অসংখ্য গাড়ী আটকে পড়ে যাত্রী, চালকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই প্রচণ্ড দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
গত শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত উভয় ঘাটে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে দুর্ভোগের শিকার হন হাজার হাজার মানুষ। সঙ্গে বেড়ে গেছে দালালদের দৌরাত্ম্য, তাদের কাছে জিম্মি ট্রাকচালকারা। অতিরিক্ত টাকা দিয়ে নিতে হচ্ছে ফেরির টিকিট। এসব কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এ রুটে যানবাহন পারাপার চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উভয় ঘাটে নদী পাড়ের অপেক্ষায় আটকে পড়ছে সহস্রাধিক যানবাহন।
শুক্রবার বেলা ১১টা নাগাদ দৌলতদিয়া ঘাট থেকে গোয়ালন্দ রেলগেট পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটারজুড়ে মহাসড়কে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের। আটকে পড়া যাত্রী ও চালকরা সীমাহীন দুর্ভোগ পোহান। তিন-চার দিনেও নদী পার হতে পারছে না অপচনশীল পণ্যবাহী যানবাহন। পাটুরিয়া ঘাটেও একই অবস্থা বিরাজ করছে।
তবে গতকাল বিকাল পর্যন্ত দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে বাংলাদেশ হ্যাচারি পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। একাধিক বাসচালক অভিযোগ করেন, তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় সিরিয়ালে আটকা থেকে অনেক যাত্রীই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
বরিশাল থেকে আসা ঈগল পরিবহনের চালক আলমগীর হোসেন জানান, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে দৌলতদিয়ায় এসেছেন। তৃতীয় দিনের মতো সিরিয়ালে আটকে আছেন। যাত্রীসহ তারা সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তবে কিছু কিছু যাত্রী বাধ্য হয়ে লঞ্চ ও ফেরিতে নদী পার হয়েছেন।
যশোর থেকে আসা কলা, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচবাহী ট্রাকচালক নুরুদ্দিন, আকাশ মিয়া, ছলিম শেখসহ কয়েকজন জানান, দুদিন ধরে মহাসড়কেই দাঁড়িয়ে আছেন। প্রচণ্ড রোদ ও গরমে কাঁচা পণ্যগুলো পচতে শুরু করেছে। দ্রুত পণ্যগুলো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারলে ব্যাপক ক্ষতি হবে।
কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ট্রাকচালক সবুজ শেখ জানান, দৌলতদিয়া ঘাটে দুদিন ধরে বসে আছেন। এখানে কোনো নিরাপত্তা নেই। বাধ্য হয়ে এক হাজার ৬৬০ টাকার টিকিটের জন্য দুই হাজার ২০০ টাকা দিয়েও ফেরির টিকিট পাননি।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া অফিসের ব্যবস্থাপক আবু আবদুল্লাহ রনি জানান, এই রুটে চলাচলকারী ১৫টি ফেরির মধ্যে তীব্র স্রোতের কারণে চারটি ফেরি চলাচল করতে পারছে না। শুক্রবার পর্যন্ত ১১টি ফেরি চলাচল করছিল। শনিবার আরও দুটি ফেরি যোগ হয়ে বর্তমানে ১৩টি ফেরি যানবাহন পারাপার করছে। তবে ফেরিগুলো যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় লাগায় ঘাট এলাকায় যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তবে মানুষের দুর্ভোগ কমাতে যাত্রীবাহী যানবাহনগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পচনশীল পণ্যবাহী কিছু ট্রাক বাসের সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে। এদিকে মেরামতে থাকা পাঁচটি ফেরি আগামী সপ্তাহে রুটে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
দালাল ও অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই; যদি কেউ নিয়ে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে অফিসিয়ালভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর দালাল ঠেকাতে কাউন্টারের সামনে ডিবি পুলিশের একটি টিম কাজ করে। যদিও কাউন্টার থেকে ট্রাকচালক বা হেলপার ছাড়া কারও কাছে কোনো টিকিট দেওয়া হয় না। কাউন্টারে যারা আসেন তাদের গায়ে তো আর লেখা থাকে না যে কে ট্রাকচালক। এখন যদি ট্রাকচালকরা দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে টিকিট কেনেন, তাহলে তিনি কীভাবে ঠেকাবেন।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..